RSS

বাংলা সিনেমা "রুস্তম" এর ছোট্ট পেইনফুল চিত্র

আম্মা আর আমি দুপুরের খাবার খেতে বসেছি। বসে টিভিটা ছাড়ার সাথে সাথে দেখি বিটিভিতে ছবি চলছে: আমি আর চ্যানেল পাল্টালাম না। ছবিতে যা দেখলাম:

চার-পাঁচটা গাড়িতে করে কিছু সন্ত্রাসী এলো। তাদের লিডারের এটাক বলার সাথে সাথে চারিদিকে বোমা ফুটা আর মারামারি শুরু হয়ে গেল। বস্তির সকল ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হলো। বস্তিবাসীর একজন নেতা ছিলেন। নেতাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে বুকে উপর পা রেখে ভয় দেখালো ছবির সন্ত্রাসীর নেতা। ভয়ে সেই নিঃস্বার্থ বস্তিবাসীর নেতা কি যেন একটা দলিলে সই দেবার কথা দেন। মনে হয় জায়গা জমির বেপার ।

[] যাজ্ঞে অবশেষে নিস্বাঃর্থবান নেতা উনার সকল কিছু বিলিয়ে দিলেন এই বস্তিবাসীর ভালোর জন্য। বস্তিবাসীরা বলল:
- আপনি এমন কোন উপায় বের করেন যাতে ২৫ বছর পর আমাদের সন্তানেরা আমাদের সকল যায়গা সম্পত্তি ফিরিয়ে আনতে পারে।

[] নেতা অনেক ভেবে চিনতে একটা উপায় বের করলেন। বললেন:
- তুমাদের প্রত্যেকের ঘর থেকে যেকোনো একটা ছেলেকে কুরবানি দিতে হবে। তাদেরকে আমি প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তুলব। যাতে করে তারা আত্মরক্ষা করতে পারে ।

[] নেতার কথায় সবাই সম্মতি প্রকাশ করল এবং সবাই প্রত্যেকের ঘর থেকে একটা একটা ছেলেকে নিয়ে এলো নেতার কাছে। প্রত্যেক ছেলের হাতে একটা করে বাঁশ ছিল। নেতা বললেন:
- আজ পর্যন্ত তুমরা যে হাত দিয়ে কলম ধরেছ আজ থেকে সেই হাতে তুমাদেরকে লাঠি তুলে নিতে হবে। বাঁচার জন্য লড়াই করতে হবে অথবা লড়াই করতে করতে মরতে হবে...তুমরা কি প্রস্তুত ?
-- সকল ছেলেরা বাঁশ তুলে চিৎকার করে বলল: আমরা প্রস্তুত ।

[] তারপর নেতা বললেন:
- এখন আমার ঘর থেকে একটা ছেলেকে কুরবানি দিতে হবে। প্রথমে উনার বড় ছেলেকে কুরবানি দেয়ার জন্য ডাক দিলেন !
--বড় ছেলে একটা মেয়ের সাথে বসে দাবা খেলছিল। বাবার ডাক শুনে মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গেল ।
- তারপর তিনি উনার আরেকটা ছেলেকে ডাক দিলেন !
-- দ্বিতীয় ছেলেও পালালো।
-তারপর তিনি উনার আরেক ছেলেকে রুস্তম বলে ডাক দিলেন:
- তৃতীয় ছেলে রুস্তম বুক ফুলিয়ে হাটতে হাটতে এসে বাবার পায়ে ধরে সালাম করল । এবং মাটিতে পড়ে থাকা বাঁশ কে পা দিয়ে উপর কিক মারল।

[] বাঁশ উপরে উপরে উঠার সাথে সাথে আম্মা পাশ থেকে বললেন: ছেলেটা বড় হয়ে যাবে।

চমৎকার ভাবে ঘটনা সত্য হয়ে গেল । বাঁশ উপর থেকে নিচে নামতে নামতে ছেলেটা বড় হয়ে গেল। এবং সে আর কেও না আমাদের প্রিয় মরহুম মান্না ভাই। বুঝতে পারলাম মান্না ভাই মারাত্মক প্রতিবাদী হবেন । ব্যাপারটা মারাত্মক ইন্টারেস্টিং। চোখ বড় বড় করে দেখতে লাগলাম।

[] তারপর নায়িকার সাক্ষাত পেলাম। নায়িকা হচ্ছেন সেই গুণ্ডার মেয়ে যে গুণ্ডা, নায়কের বাপের বুকের উপর পা রেখে ভয় দেখিয়ে সবকিছু ছিনিয়ে নিয়েছিল। যাইহোক, নায়িকার হটাৎ ইচ্ছে হলো নাচ শিখবে । তাই নায়িকার চাচা একজন ডান্স মাস্টারকে বললেন আসার জন্য ।

আমি ডান্স মাস্টারকে দেখে পুরাই অবাক: ওরে সব্বনাশ । ডান্স-মাস্টার দেখি আমাদের মান্না ভাই। যে ছেলে ছোট কালে পা দিয়ে লাথি মেরে বাঁশ হাতে তুলে নিয়েছিল, আজ সেই ছেলে বড় হয়ে এখন ১০ মহিলাকে ডান্স শিখায়...

আমি আর পারলাম না মাথা ঠাণ্ডা রাখতে... হাত ধুয়ে টিভি অফ করে চলে এলাম আপনাদেরকে ছবির ফেন্সিডিল মার্কা কাহিনী শুনাতে...

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

রাজনৈতীক কথাবার্তা

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

No proof No Sin!

DON 2 ছবিতে একটা ডাইলোগ আছে: কয়ি সাবুত নেহি তো কয়ি গুনেহগার নেহি...
ঠিক এই ধরনের মতবাদে বিশ্বাসী আমার এক বন্ধু আছে যে বিজনেস করে। তার সাথে অনেক হ্যান ত্যান আর অনেক তর্ক বিতর্ক করার পরেও বুঝাইতে পারলাম না বিজনেস দুই ধরনের- কোন বিজনেস আছে সত্য এবং সততা দিয়ে চলে আবার কোন বিজনেস আছে মিথ্যা এবং বেইমানীর উপর চলে।
তর্ক কিভাবে শুরু হল:
এক বন্ধু বলল: আমাদের ভার্সিটি থেকে সিলেট টুরে আসবে। আমারে বলে দিয়েছে হোটেল ভাড়া কেমন পড়বে তা জেনে যাওয়ার জন্য।
[] তখন আরেক বন্ধু তারে একটা বিজনেস ট্রিক্স শিখাই দিল:
- তুই প্রথমেই হোটেলের সাথে একটা ডিল করবি। ধর্‌ একটা হোটেলের প্রত্যেক রুমের ভাড়া ৩ হাজার । তুই হোটেলের সাথে ডিল করবি যে, যখন আমরা ভার্সিটির টুরে আসব তখন হোটেলের বিলের রিসিটে প্রত্যেক রুমের জন্য ২০০ টাকা কম ২৮০০ টাকা লিখা থাকবে। কিন্তু আপনার সাথে আমার ডিল হচ্ছে আমি আপনারে প্রত্যেক রুমের জন্য ২ হাজার করে দিব।
তাহলে যদি মিনিমাম ১০ টা রুম নেওয়া হয় এবং প্রত্যেক রুম থেকে তুই ৬শ করে লাভ করছ এবং অন্তত ৩ দিন থাকা পড়ে তাহলে তোর লাভ হয়: ১৮ হাজার টাকা ।
[] তখন আরেক বন্ধু উঠে বলল: এইটা তো বাটপারি হইয়া গেল দোস্ত।
[] সেখান থেকেই তর্ক শুরু । আমার বন্ধুর কথা হচ্ছে আমি তো এখানে কাওকে ঠকাচ্ছি না এখানে শুধুই বিজনেস করছি। যেখানে হোটেলের রুম ভাড়া হচ্ছে ৩ হাজার সেখানে আমি ২শ টাকা কমিয়ে এনে ২৮০০ টাকা করেছি... কিন্তু মাঝখানে আমি কিছু বিজনেস করলাম ।
[] আমার কথা হচ্ছে যদি কেও যানে তুমি তার সাথে বিজনেস করছ Then It's fair।
যেমন আমি কোন দোকান থেকে কোন প্রডাক্ট কিনতে গেলে আমার অবশ্যই জানার কথা, দোকানদার এখান থেকে যত বেশি পারে আমার কাছ থেকে ততো বেশি লাভ করতে চাইবে।
But When Some one Trust you and there is no business dealings in between Then it's unfair !
যেমন: আমি এমন কোন দোকানে গেলাম যেখানের মালিক আমার বন্ধু এবং আমার বিশ্বাস সে আমারে ঠকাবে না। তখন সে যদি বলে দোস্ত সব খরচ বাদ দিয়ে আমি তোর কাছ থেকে মাত্র ২০০ টাকা লাভ নিচ্ছি তাইলে Its fare কিন্তু বন্ধু মিথ্যে বলে যদি আমার কাছ থেকে লাভ করতে যায় তাইলে সেইটা বেইমানি হয়ে যাবে । তবে বেইমানি হলেও সেইটাও কিন্তু বিজনেস...

[] এখন আমাদেরকেই বুঝতে হবে: What is fair And What is unfair. []

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS