RSS

#0008

সুমিত কুমার আমার নাম। যে কাহিনীটি বলতে যাচ্ছি সেইটা শুনে হয়তো অনেক ধরনের প্রশ্ন থাকবে মনে কিন্তু আমি বলছি শুধুই একটা প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য:

প্রায় ৫৫ বছর আগের কথা। আমার বাবা মহর্ষি কুমার ছিলেন শীবপুর এলাকার জমিদার। বাবা যেমন সবার কাছে সম্মানী ব্যক্তি ছিলেন আমি ছিলাম তার উল্টা। গ্রামের মানুষরা আমাকে বাঘের মত ভয় পেত। ভয় পাওয়ার কারণ ছিল আমি যখন তখন যে কারো বাসায় গিয়ে হানা দিতাম এবং যা পেতাম তাই খেয়ে সাবাড় করতাম । তাই কেও যদি আমাকে দূর থেকে দেখে ফেলতো আমি আসছি তাহলে ঘরের খাবার দাবার লুকিয়ে রাখা হতো।
বাবার জন্য তখন কেও কিছু বলতেও পারতো না আর সইতেও পারতো না।

এই সব কাহিনী বলে শেষ করা যাবে না। সংক্ষেপে বলতে গেলে গ্রামের মানুষ যে আমাকে শুধু ভয় পেত তাও না তারা আমাকে নিজের ছেলের মতই আদর করতো।

তখন শীবপুরে কোন মারামারি, হ্রেসাহ্রেসি, ছিল না। গ্রামের সবাই বাবার বিচারের উপর ভরসা করতো। এবং তখনকার দিনে শীবপুরে অশান্তির ছায়া ছিল না।

হটাৎ একদিন বাবার কাছে কিছু মানুষ এসে বলল:
- ঠাকুর, মাটির নিচ থেকে একটা মূর্তির মাথা বের হয়েছে।
-- কথায় ?
- পাশের গ্রামের যে দুষি বাঁশবন আছে সেখানে ।

[] বাবা সঙ্গে সঙ্গে চাঁদর পেঁচিয়ে রওয়ানা দিলেন বাঁশবনের দিকে এবং মা'কে বলে গেলেন ফিরতে রাত হবে।

সেদিন রাতে বাবা ফিরলেন না। পরদিন সকালে মা কিছু মানুষকে সেখানে পাঠালেন বাবার সংবাদ নিয়ে আসার জন্য কিন্তু সেদিন তারাও ফিরলও না।

পরদিন মা ঠিক করলেন তিনি নিজেই সেখানে যাবেন কিন্তু চাচা-চাচিরা মা'কে বাঁধা দিলেন।

এভাবে এক সপ্তাহ চলে গেল কিন্তু সেখানে যারা গিয়েছিল তারা একজনও সেখান থেকে ফিরলও না।

এর এক মাস পর মা মারা গেলেন। তখন আমার বয়স আনুমানিক ১২ কি ১৩ হবে। চাচা-চাচির ছায়ার তলে লালিত পালিত হতে থাকলাম। কিন্তু যত দিন গেল মনে হতে লাগলো চাচা-চাচি আমাকে আর সহ্য করতে পারছেন না তাই ঠিক করলাম আমি বাঁশবনে যাবও এবং বাবাকে খোঁজে বের করব।

একদিন দুপুর বেলা কাওকে কিছু না বলেই বাঁশবনের দিকে রওয়ানা দিলাম। বিকেল হয়ে আস্তে আস্তে অন্ধকার হয়ে গেল এবং আমি বাঁশবনের ঘন অন্ধকারে পথ হারিয়ে ফেললাম। অন্ধকারে ভয় লাগছিল বলে চোখ বন্ধ করে সেখানেই শুয়ে পড়লাম। যখন চোখ খুললো তখন দেখতে পেলাম একটা মেয়ে আমার সামনে বসে আছে। মেয়েটা আমাকে বলল:

- তুমি কি তোমার বাবাকে খোঁজতে এখানে এসেছ ?
-- হু
- আস আমার সাথে ।
-- আমি কোন কথা না বলে চুপচাপ মেয়েটার পিছু পিছু হাটতে লাগলাম।

কিছুদূর গিয়ে দেখলাম মেয়েটা একটা পাহাড়ের ঝোপের মধ্য দিয়ে ঢুকে গেল। আমিও তার পিছু পিছু সেখানে ঢুকলাম। ঢুকার সাথে সাথে মানুষের কান্না আর চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমি মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করলাম:

- আমার বাবা কথায় ?
-- মেয়েটা আঙ্গুল দিয়ে ইশারা দিয়ে দেখালো।
- আমি দেখতে পেলাম বাবা শুয়ে আছেন এবং বাবার হাত পা বাঁধা এবং বাবার বুকের উপর বিশাল একটা পাথর রাখা যে পাথর একটু পরপর উপরে উঠছে এবং বাবার বুকের উপর এসে পড়ছে। যখন বুকের উপর পড়ছে তখন বাবার মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। বাবা চিৎকার করছেন এবং কাঁদছেন এবং বলছেন: হে খোদা, আমাকে ক্ষমা কর। আমি তোমাকে চিনতে ভুল করেছিলাম।

আমি তা দেখে এত ভয় পেয়েছিলাম যে অজ্ঞান হয়ে পড়লাম। যখন চোখ খুললও তখন দেখি আমার মা আমার সামনে বসে আছেন। আমি কাঁদতে কাঁদতে মা'কে জড়িয়ে ধরলাম এবং আস্তে আস্তে বুঝতে পারলাম এইটা স্বপ্ন ছিল।

অথচ স্বপ্ন যে স্বপ্ন ছিল না তা বুঝতে পারলাম তখন যখন আমি বারান্দায় বসে পড়ালেখা করছিলাম এবং কিছু মানুষ এসে বাবাকে বলল:
- ঠাকুর, মাটির নিচ থেকে একটা মূর্তির মাথা বের হয়েছে।
-- কথায় ?
- পাশের গ্রামের যে দুষি বাঁশবন আছে সেখানের ভেতর ।

আমি বুঝতে পারলাম বাবার সেখানে যাওয়া ঠিক হবে না। তাই বাবাকে স্বপ্নের কথা বললাম কিন্তু বাবাকে ঠেকাতে পারলাম না। সেদিন সত্যি সত্যি বাবা ফিরলেন না। আমি মাকেও স্বপ্নের কথা বললাম: কিন্তু মা আমার কথা বিশ্বাস করলেন না।

এক মাস পর মা মারা গেলেন।

এর কিছুদিন পর আমি গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে এলাম। জায়গায় জায়গায় ঘুরপাক খেলাম। চুরি করলাম। হাজতে কাটালাম। গির্জা মন্দির দরগাহ্‌ সবজায়গাতে খোদাকে খোঁজার চেষ্টা করতে থাকলাম...

তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম:
-- কিছু পেলেন ?
- তিনি একটা মুচকি হাসি দিলেন কিন্তু কোন উত্তর দিলেন না।
-- কিছুই কি পেলেন না ?
- আমি প্রথমেই বলেছিলাম আমি শুধু একটা প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য তোমাকে এই গল্প বলছি।
-- কোন প্রশ্নের উত্তর ?
- সেইটা গল্পের মধ্যেই আছে ।

[] তারপর সন্ন্যাসী বাবা হাটতে হাটতে চলে গেলেন এবং একবার ফিরেও তাকালেন না। তাদের হয়তো ফিরে তাকানোর কোন নিয়মও নেই।

কিন্তু আমি ফিরে তাকালাম সুমিত কুমারের সেই ছোট্ট দুষ্টামি ভরা শৈশবে । জমিদারের ছেলে কি ছিল আর কি হয়ে গেছে। সারা গ্রাম একসময় যাকে সম্মান করতো সে এখন পথে ঘাটে হাটাহাটি করে এক অপরিচিত ভণ্ডদের মত, যার চুল লম্বা দাড়ি লম্বা, পড়নে থাকে ছেড়া ফাড়া দুর্গন্ধ যুক্ত কাপড়।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

#0007




একটা বেশ মজার গল্প পড়লাম। কিন্তু মজার চেয়েও বেশি ভালো লেগেছে এই জন্য যে এই কাহিনী অনেক কিছুই মনে করিয়ে দেয়, অনেক দায়িত্বের কথা বলে যা আমরা অবহেলার সাথে এড়িয়ে যাই। [ একটা ইংরেজি গল্প থেকে অনুবাদ করেছি ]

একদা একটা ইঁদুর একটা কৃষকের ঘরে বাস করত। একদিন ঈঁদুরটা দেয়ালের ফাঁক দিয়ে দেখতে পেল কৃষক এবং তার বউ একটা প্যাকেট থেকে কি যেন বের করছে । ইঁদুরটা খুশী হয়ে গেল এই ভেবে যে প্যাকেটের মধ্যে নিশ্চই কোন মজার খাবার আছে। কিন্তু সে খুবই ব্যথিত হল যখন দেখতে পেল কৃষক বাজার থেকে ইঁদুর মারার যন্ত্র নিয়ে এসেছে।

সে এক দৌড়ে গোয়াল ঘরে গেল এবং সবাইকে সতর্ক করতে লাগলো । প্রথমেই সে মুরগির কাছে গেল এবং বলল:
- ঘরে একটা ইঁদুর মারার যন্ত্র আনা হয়েছে, ঘরে একটা ইঁদুর মারার যন্ত্র আনা হয়েছে।
-- মুরগি কিছুক্ষণ "কক কক" করে বলল: সেইটা তোমার চিন্তার বিষয় আমার চিন্তার বিষয় নয়।

তারপর সে গেল ছাগলের কাছে এবং বলল:
- ঘরে একটা ইঁদুর মারার যন্ত্র আনা হয়েছে, ঘরে একটা ইঁদুর মারার যন্ত্র আনা হয়েছে।
-- ছাগল "মে মে" করে বলল: ইঁদুর সাহেব আমি দুঃখিত । কিন্তু তোমার জন্য দো'আ করা ছাড়া আমার আর কিছুই করার নাই।

তারপর ইঁদুর গেল গরুর কাছে এবং বলল:
- ঘরে একটা ইঁদুর মারার যন্ত্র আনা হয়েছে, ঘরে একটা ইঁদুর মারার যন্ত্র আনা হয়েছে।
-- গরু " হাম্বা হাম্বা" করে বলল: হে ছোট্ট ইঁদুর, এইটা তো আমার জন্য দুঃসংবাদ নহে, তুমি বরং আমাদের কথা চিন্তা না করে নিজের প্রতি খেয়াল নাও।

ইঁদুরটা তার বাসায় ফিরে গেল এবং মনমরা হয়ে বসে থাকলো কারণ কেও তার কথা পাত্তা দিল না।

সেদিন রাতে হটাৎ কি একটা শব্দ হলো । শব্দ শুনে মনে হলো ইঁদুর মারার যন্ত্র তার শিকার ধরে ফেলেছে। কৃষকের বউ দৌড়ে এলেন কি আটকা পড়েছে দেখার জন্য । কিন্তু অন্ধকারে তিনি দেখতে পেলেন না যে, সেখানে সাপ আটকা পড়েছে । যন্ত্রে সাপের লেজ আটকা পড়েছিল এবং যখন মহিলা কাছে গেলেন তখন সাপটা কামড়িয়ে দিল কৃষকের বউকে। মহিলা সাথে সাথে চিৎকার করলেন । কৃষক তার বউকে হাসপাতালে নিয়ে গেল।

সেদিন খুব জ্বর ছিল মহিলার। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী স্ত্রীকে চিকেন সুপ খাওয়ানোর জন্য কৃষক গোয়াল ঘর থেকে মুরগীকে ধরে আনলেন জবাই দেয়ার জন্য। যখন মুরগীকে জবাই দিচ্ছিলেন তখন এক কোণা থেকে ইঁদুরটা মুরগির এই নির্মম পরিনতি দেখছিল।

কিন্তু কৃষকের বউয়ের জ্বর কমলো না বরং শরীর আরো খারাপ হতে থাকলো। কৃষকের বউয়ের পরিবার এলো গ্রাম থেকে তাকে দেখার জন্য। সবাইকে খাওয়ানোর জন্য কৃষক তার ছাগল জবাই করল এবং দূর থেকে ইঁদুরটা ছাগলের নির্মম পরিণতি দেখলো।

অবশেষে কিছুদিন পর কৃষকের বউ মারা গেলো। বউ মারা যাবার কিছুদিন পর কৃষক তার বউ এর মাগফেরাতের জন্য একটা দো'আ মাহফিলের আয়োজন করলো এবং সেখানে এলাকা বাসীদের দাওয়াত করলো। মাহফিলে প্রচুর মানুষ এলেন এবং তাদের খাওয়ার জন্য কৃষক তার গরুকে জবাই করলো এবং দূর থেকে দাঁড়িয়ে ছোট্ট ইঁদুর তা দেখলো...

এই ছিল কাহিনী, কিন্তু কাহিনী কি মনে করিয়ে দেয় জানেন ? কাহিনী মনে করিয়ে দেয়, আমরা ওই মুরগি, ছাগল, এবং গরুর মত যারা অন্যের বিপদের সময় হাত-পা গুটিয়ে বসে থেকে বলি এইটা আমার কোন সমস্যা না আমি কেন খালি খালি ঝামেলায় জড়াবো ? তবে মনে রাখিয়েন, যখন আমাদের মধ্য থেকে কেও একজন বিপদে থাকে তখন তার সাথে আমরাও হুমকির মধ্যে থাকি । মানুন আর নাই মানুন, আমরা সবাই একে অপরের সাথে এক অদ্ভুত অদৃশ্য বাঁধনে জড়িত ।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

#0006

মোহাম্মদ আলম ভাই এর কাহিনী ।

মোহাম্মদ আলম ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় আজকে। বন্ধুদের সাথে আড্ডা শেষে বাসায় আসার পথে যে রিক্সাতে উঠেছিলাম সেই রিক্সার চালক হচ্ছেন মোহাম্মদ আলম ।

কাহিনী শুরু:

মোহাম্মদ আলম জন্মগ্রহণ করে কক্সবাজারে । সাত বছর বয়স পর্যন্ত মা-বাবা আর চার ভাই এর সুখের পরিবার ছিল তার । ৭ বছর বয়সে মা-বাবা দুজন মারা যান। বেচে থাকার লড়াই করতে এই ছোট্ট বয়সে সমুদ্রের বুকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে করে মাছ ধরতো আলম ।

আরো কয়েক বছর পর বড় ভাই বিয়ে করলেন। বাসায় ঢুকলো এক ডাইনি। ভাইদের মধ্যে মারা-মারি লাগিয়ে দিত সবসময় । ভাই আর ভাবির বাজে ব্যাবহারের কারণে বাসা ছেড়ে চেলে এলো ফেনিতে।

ফেনিতে এক লোকের বাসায় কাজ করে থাকতও । গরু দেখা, গরুর জন্য ঘাস কাটা, উঠান ঝাড়ু দেয়া অনেক কাজ করতে হত । কাজ খুব কষ্টের ছিল বলে সেখান থেকেও চলে এলো কুমিল্লায় । পকেটে মাত্র ২০০ টাকা। সেখানে এক লোকের সাথে পরিচয় হল। লোকটা বলল তুমি আমার সাথে সায়েস্তা গঞ্জে চলো, সেখানের একটা মাজারের কাজে লাগিয়ে দিব।
লোকটা তার হাতে ২০০ টাকার একটা টিকিট দিয়ে বলল তুমি ট্রেনে উঠে বসও, আমি আসতেছি।

কিছুক্ষণ পড় ট্রেন ছেড়ে দিল কিন্তু লোকটার আর কোন খবর পেলো না আলম। তখন আলমের বয়স ছিল ১৮/১৯ ।. এই ছোট্ট বয়সে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে, কথায় যাচ্ছে, কি করছে কিছুই জানে না।

সায়েস্তা গঞ্জ পার হয়ে আলম এসে পৌঁছলও সিলেটে। সিলেট কোর্ট (আদালত) অফিসের বারান্দা এসে ঘুমিয়ে পড়ল। অজানা শহরের কিছুই সে জানে না। পকেটে মাত্র ১৫০ টাকা। কয়েকদিন এই বারান্দা কাটিয়ে দিল সে। অবশেষে একজন তাকে জিজ্ঞেস করলেন তার কথা এবং একটা বাসা এবং সাহিন হোটেলে কাজ দিলেন।

তারপর সে তার জীবনে রাস্তায় রাস্তায় চা বিক্রি করেছে, বিভিন্ন হোটেলে চাকরি করেছে, গাড়ির বয় হিসেবে কাজ করেছে... এবং অবশেষে এক মৌলভীবাজারের একটা মেয়েকে বিয়ে করেছে।

কিন্তু আলমের দুর্দিন এখনো তার পিছু ছাড়ে নাই। তার বউ এর নাকি মাথা খারাপ । তার ২০ মাসের এক ছোট্ট মেয়ে ছিল কিন্তু তার বউ তার মেয়েটাকে আছাড় দিয়ে লাথি দিতে দিতে মেরে ফেলেছে। মেয়েটা কাঁদলেও নাকি তার বউ মেয়েটাকে মারতো অবশেষে একদিন কোল থেকে ফেলে দিয়ে মেরে ফেলে।

সিলেট আসার ১২ বছর পর এখন আলম রিক্সা চালায় এবং একা একা থাকে।

[] মানুষ কত রকম কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকে আর আমরা বাপের টাকায় খাই দাই ঘুমাই, আড্ডা মারি, ফুর্তি করি প্রেম করি এবং তারপরেও বলি শান্তি নাই। এই সবকিছুর পেয়েও আমরা যদি বলি শান্তি নাই তাইলে এই লোকটা কি বলবে ?

[] So we should always thankful to God for what we are and what we have []



½ Life

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

#00004



অদ্ভুত একটা ঘটনা ঘটলো। একটু আগে আমি আর আম্মা বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলাম তখন একটা বিড়াল ছানা আমার চেয়ারের পাশে বসে মেআও মাআও বলে ডাকতে শুরু করল। আমি হাত দিয়ে তাড়িয়ে দেয়ার জন্য ভয় দেখাচ্ছিলাম কিন্তু বিড়াল ছানা ভয় না পেয়ে উলটা আমার চেয়ারের উপর উঠে যাইতে চাচ্ছিল। তখন মনে হল: বিড়াল ছানাটা অসহায় এবং কষ্ট ভরা দুটা টল টল চোখে আমার কাছে খানা ভিক্ষা চাচ্ছে । খেয়াল করলাম তার বুকের মধ্যে ও পায়ের মধ্যে রক্তের দাগ। বুঝতে পারলাম কেও একজন এই বিড়াল ছানাটাকে সাঙ্ঘাতিক মাইর দিছে। মাছের কাটা বিড়ালটাকে খাওয়াইতে চাইলাম কিন্তু আম্মা বললেন এখানে খাওয়াইস না।

তারপর আমি কাঁটা নিয়ে বাইরে গেলাম আর বিড়ালটাও আমার পিছু পিছু এলো। কাঁটা গুলা বিড়ালটাকে দিলাম আর সে খপখপ করে খেতে থাকলো। এবং খাওয়া দাওয়া শেষে একটা ফোটু তুললাম বিড়ালটার ।

[] কষ্ট লাগে যখন কেও নিস্পাপ পশু-পাখিদের সাথে এমন অত্যাচার করে। যদি মারতেই হয় তাইলে এক্কারে জানে মাইরালাও । এমন আধমরা করে রাখার কোন মানে হয় না। আমি ঠিক জানি না পশুপাখির অভিশাপ আল্লাহ কবুল করেন কি না। তবে এতটুকু জানি পশুপাখির প্রতি মায়া দেখানো এবং এদের প্রতি সহানুভুতি হওয়াটা আল্লাহ পছন্দ করেন। মাঝে মাঝে বিড়াল খুবই বিরক্ত করে এইটা ঠিক। তারপরেও এরা তো নিস্পাপ । এরা তো আর বুঝে না। []



½ Life

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

#00003

এতদিন একটা ছেলেরে নিয়া আমি খুব হাসাহাসি করতাম । হাসাহাসি করার কারণ হচ্ছে: আমাদের এলাকায় কমিশনার নির্বাচনের সময় আমি ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করেছিলাম । তখন একটা ছেলেকে দেখলাম যে তার জীবনের প্রথম ভোট দিতে গেছে। ভোট দেয়া শেষে চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর হটাৎ করে দৌড় দিয়ে ভেতরে ঢুকলো। সাথে সাথে গার্ড এবং আর্মি অস্ত্র তাক করে তার পিছন পিছন দৌড়ে এলো। 

ছেলেটা ভেতরে এসে বলল: আমার হাতে ভুল করে মার্কারের দাগ দেন নাই। দাগটা দিয়ে দেন । তখন তাকে খুশি করার জন্য মার্কার দিয়ে তার আঙ্গুলে বেশী করে দাগ দেয়া হল।

তারপর থেকে যখনই সে ছেলেটাকে রাস্তায় দেখতাম তখন সবাইকে আমি ছেলেটার কাহিনীটা বলতাম এবং হাসতাম ।

আজ এশা'র নামাজ পড়তে গেলাম আমাদের পাশের এলাকার মসজিদে। মসজিদে গিয়ে দেখি সেই ছেলেটা বসে আছে। পুরোনো কাহিনী মনে পড়ে গেলো । হটাৎ ছেলেটা দাঁড়িয়ে প্রথম কাতারে ইমাম হুজুরের পেছনে গিয়ে দাঁড়ালো। তার দাঁড়ানোর সাথে সাথে সবাই দাঁড়িয়ে পড়লেন । আমিও দাঁড়ালাম । তখন ছেলেটা একামাত দেয়া শুরু করলো... মাসাআল্লাহ !!!
[ ছেলেটা সেই মসজিদের মোয়াজ্জিন ]

[] বিশ্বাস করেন, সেই মুহূর্তে নিজেরে কি পরিমাণ গর্ধব মনে হচ্ছিল তা বলে বুঝাতে পারবো না। এতদিন যে ছেলেটাকে বোকা ভেবে হাসাহাসি করতাম সেই ছেলেটা যে আমার চেয়ে হাজার গুন উত্তম এবং আল্লাহ'র অতি প্রিয় এক বান্দা তা দেখে নিজেরেই বোকা মনে হল ।

যাজ্ঞে বুঝতে পারলাম: না জেনে শুনে কারও সম্বন্ধে বাজে মন্তব্য করা অথবা কাওকে নিয়ে হাসাহাসি করা শুধুই নিজেকে বোকা প্রমাণ করা আর কিছুই নয় []


½ Life

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

#00002

ভাইয়া আর আমার মারামারির ছোট্ট একখান দৃশ্যঃ

SSC পরীক্ষা শেষ হবার পর মনে মনে ঠিক করলাম সারাদিন বসে বসে গেইম খেলবো । কিন্তু কম্পিউটার হচ্ছে ভাইয়ার রুমে। আর ভাইয়া সারা দিন খালি ঘুমায় আর ঘুমায়। গেইম খেলার টেনশনে সকাল ১০ টার দিকে ঘুম ভেঙ্গে গেল। কিন্তু ভাইয়া ঠিকই নাক ডাকিয়ে ঘুমাচ্ছে।

আম্মারে গিয়ে বললামঃ
- আম্মা ভাইয়ারে ডেকে তুলে বল। দরজা খুলে দেয়ার জন্য। আমি গেইম খেলবো।
-- আমি পারবো না। তুই গিয়ে ডেকে তুল যা।
- আমি ডাকলে ভাইয়া আমারে মারবো তো ।
-- তাইলে গিয়া টিভি দেখ। যন্ত্রনা করিস না ।

আমি আস্তে আস্তে ভাইয়ার রুমে গিয়ে দরজায় টুকা দিলাম। ভিতর থেকে কোন সাড়া শব্দ না পাইয়া একটু জোরে খটখটাইলাম। ভেতর থেকে ভাইয়া বললেনঃ
- কে ?
-- ভাই আমি ।
- কি হইছে ?
-- ভাইয়া দরজাটা খুলে দাও একটু...গেইম খেলবো।
- এখন না। যা ভাগ

কিছুক্ষন পর আমি আবার টুকা দিলাম...
- কে ?
-- ভাইয়া আমি ।
- মিজু এখন কিন্তু মাইর খাবি কইলাম।

আমি ভয়ে দৌড় দিলাম। কিন্তু মনের মধ্যে শান্তি পাচ্ছিলাম না তাই একটূ পর আবার গিয়ে দড়জায় টূকা দিলাম।
- দরজা খুললে কিন্তু মাইর খাবি মিজু...

আমি ব্যাহায়ার মত আবার দরজাটাতে টুকা দিয়ে দৌড় দিয়ে পাশের রুমের জানালা দিয়ে দেখতে লাগলাম । ভাইয়া দরজা খুলে বের হয়ে এল। আমি সেখান থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বললাম
- ভাইয়া একটু গেইম খেলবো, সাউন্ড অফ করে খেলবো। কোন শব্দ করব না...
-- এক থাপ্পড় দিব বেয়াদব ছেলে।

এ কথা বলেই ভাইয়া দড়জা লাগিয়ে দিল । তবে আমিও হার মানা ছেলে নয়। আমারে গেইম খেলতে না দিলে তোমারেও শান্তিতে ঘুমাতে দিব না।

কিছুক্ষন পর আবার দরজাতে টুকা দিলাম । সাথে সাথে ভাইয়া দরজা খুললেন... আমি দিলাম দৌড় আর পিছনে পিছনে দৌড়াচ্ছেন ভাইয়া। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারলাম না। ভাইয়া আমারে ধরে কয়েকটা কিল ঘুষি বসাই দিলেন 


½ Life 

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

#00001

একটা গল্প শুনে মাথা আউলা ঝাউলা হয়ে গেছে। নাউযুবিল্লাহ !!!

বন্ধুর ব্যান্ড দল আছে তো সে বলতেছে সে একবার এক থার্টি ফার্স্ট নাইটে গেছিলো প্রোগ্রাম করতে । প্রোগ্রামটা সেট-আপ করেছিলেন এক বিদেশী মাফিয়া তার আলিশান মহলে।

উল্লাস করার জন্য প্রোগ্রামে ভাড়া করে আনা হয়েছিল সুন্দর সুন্দর রমণী । সারা মহলে বিদেশী মদের বাহার ছিল । যখন বন্ধুরা গান গাওয়া শুরু করল তখন কেও কেও মদ্য পানে ব্যাস্ত ছিল এবং কেও কেও রমণীদের সাথে ডিং ডং করছিল... নাউযুবিল্লাহ ।

বন্ধু বুক ফুলিয়ে আমাকে বলছে:
শেষে আমরাও গান বাজনা ফালাইয়া যার যা ইচ্ছে তা করছি... এই করেছি সেই করেছি, চুম্মা দিছি... ডান্স করছি, রুমে নিয়া গেছি...

ভাবতে পারেন ?
সমাজের শিক্ষিত পুলাপাইন কোন পথে যাচ্ছে ?

[] একটা কথা বলি: নিজের পরিবারের ছোটদের প্রতি যত্ন নেন। সে কার সাথে যায় কি করে তার খেয়াল রাখেন।

ছোটরা নাদান, অবুঝ । তারা বুঝে না। কিন্তু আমাদের বুঝা উচিত এই সমাজ এখন ভয়ংকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদেরকে যদি এখন না বুঝাতে পারেন আর কখনো বুঝাতে পারবেন না []

আল্লাহ আমাদেরকে এবং আমাদের সমাজকে হেফাজতে রাখুন ... আমিন

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

বাংলা সিনেমা "রুস্তম" এর ছোট্ট পেইনফুল চিত্র

আম্মা আর আমি দুপুরের খাবার খেতে বসেছি। বসে টিভিটা ছাড়ার সাথে সাথে দেখি বিটিভিতে ছবি চলছে: আমি আর চ্যানেল পাল্টালাম না। ছবিতে যা দেখলাম:

চার-পাঁচটা গাড়িতে করে কিছু সন্ত্রাসী এলো। তাদের লিডারের এটাক বলার সাথে সাথে চারিদিকে বোমা ফুটা আর মারামারি শুরু হয়ে গেল। বস্তির সকল ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হলো। বস্তিবাসীর একজন নেতা ছিলেন। নেতাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে বুকে উপর পা রেখে ভয় দেখালো ছবির সন্ত্রাসীর নেতা। ভয়ে সেই নিঃস্বার্থ বস্তিবাসীর নেতা কি যেন একটা দলিলে সই দেবার কথা দেন। মনে হয় জায়গা জমির বেপার ।

[] যাজ্ঞে অবশেষে নিস্বাঃর্থবান নেতা উনার সকল কিছু বিলিয়ে দিলেন এই বস্তিবাসীর ভালোর জন্য। বস্তিবাসীরা বলল:
- আপনি এমন কোন উপায় বের করেন যাতে ২৫ বছর পর আমাদের সন্তানেরা আমাদের সকল যায়গা সম্পত্তি ফিরিয়ে আনতে পারে।

[] নেতা অনেক ভেবে চিনতে একটা উপায় বের করলেন। বললেন:
- তুমাদের প্রত্যেকের ঘর থেকে যেকোনো একটা ছেলেকে কুরবানি দিতে হবে। তাদেরকে আমি প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তুলব। যাতে করে তারা আত্মরক্ষা করতে পারে ।

[] নেতার কথায় সবাই সম্মতি প্রকাশ করল এবং সবাই প্রত্যেকের ঘর থেকে একটা একটা ছেলেকে নিয়ে এলো নেতার কাছে। প্রত্যেক ছেলের হাতে একটা করে বাঁশ ছিল। নেতা বললেন:
- আজ পর্যন্ত তুমরা যে হাত দিয়ে কলম ধরেছ আজ থেকে সেই হাতে তুমাদেরকে লাঠি তুলে নিতে হবে। বাঁচার জন্য লড়াই করতে হবে অথবা লড়াই করতে করতে মরতে হবে...তুমরা কি প্রস্তুত ?
-- সকল ছেলেরা বাঁশ তুলে চিৎকার করে বলল: আমরা প্রস্তুত ।

[] তারপর নেতা বললেন:
- এখন আমার ঘর থেকে একটা ছেলেকে কুরবানি দিতে হবে। প্রথমে উনার বড় ছেলেকে কুরবানি দেয়ার জন্য ডাক দিলেন !
--বড় ছেলে একটা মেয়ের সাথে বসে দাবা খেলছিল। বাবার ডাক শুনে মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গেল ।
- তারপর তিনি উনার আরেকটা ছেলেকে ডাক দিলেন !
-- দ্বিতীয় ছেলেও পালালো।
-তারপর তিনি উনার আরেক ছেলেকে রুস্তম বলে ডাক দিলেন:
- তৃতীয় ছেলে রুস্তম বুক ফুলিয়ে হাটতে হাটতে এসে বাবার পায়ে ধরে সালাম করল । এবং মাটিতে পড়ে থাকা বাঁশ কে পা দিয়ে উপর কিক মারল।

[] বাঁশ উপরে উপরে উঠার সাথে সাথে আম্মা পাশ থেকে বললেন: ছেলেটা বড় হয়ে যাবে।

চমৎকার ভাবে ঘটনা সত্য হয়ে গেল । বাঁশ উপর থেকে নিচে নামতে নামতে ছেলেটা বড় হয়ে গেল। এবং সে আর কেও না আমাদের প্রিয় মরহুম মান্না ভাই। বুঝতে পারলাম মান্না ভাই মারাত্মক প্রতিবাদী হবেন । ব্যাপারটা মারাত্মক ইন্টারেস্টিং। চোখ বড় বড় করে দেখতে লাগলাম।

[] তারপর নায়িকার সাক্ষাত পেলাম। নায়িকা হচ্ছেন সেই গুণ্ডার মেয়ে যে গুণ্ডা, নায়কের বাপের বুকের উপর পা রেখে ভয় দেখিয়ে সবকিছু ছিনিয়ে নিয়েছিল। যাইহোক, নায়িকার হটাৎ ইচ্ছে হলো নাচ শিখবে । তাই নায়িকার চাচা একজন ডান্স মাস্টারকে বললেন আসার জন্য ।

আমি ডান্স মাস্টারকে দেখে পুরাই অবাক: ওরে সব্বনাশ । ডান্স-মাস্টার দেখি আমাদের মান্না ভাই। যে ছেলে ছোট কালে পা দিয়ে লাথি মেরে বাঁশ হাতে তুলে নিয়েছিল, আজ সেই ছেলে বড় হয়ে এখন ১০ মহিলাকে ডান্স শিখায়...

আমি আর পারলাম না মাথা ঠাণ্ডা রাখতে... হাত ধুয়ে টিভি অফ করে চলে এলাম আপনাদেরকে ছবির ফেন্সিডিল মার্কা কাহিনী শুনাতে...

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

রাজনৈতীক কথাবার্তা

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

No proof No Sin!

DON 2 ছবিতে একটা ডাইলোগ আছে: কয়ি সাবুত নেহি তো কয়ি গুনেহগার নেহি...
ঠিক এই ধরনের মতবাদে বিশ্বাসী আমার এক বন্ধু আছে যে বিজনেস করে। তার সাথে অনেক হ্যান ত্যান আর অনেক তর্ক বিতর্ক করার পরেও বুঝাইতে পারলাম না বিজনেস দুই ধরনের- কোন বিজনেস আছে সত্য এবং সততা দিয়ে চলে আবার কোন বিজনেস আছে মিথ্যা এবং বেইমানীর উপর চলে।
তর্ক কিভাবে শুরু হল:
এক বন্ধু বলল: আমাদের ভার্সিটি থেকে সিলেট টুরে আসবে। আমারে বলে দিয়েছে হোটেল ভাড়া কেমন পড়বে তা জেনে যাওয়ার জন্য।
[] তখন আরেক বন্ধু তারে একটা বিজনেস ট্রিক্স শিখাই দিল:
- তুই প্রথমেই হোটেলের সাথে একটা ডিল করবি। ধর্‌ একটা হোটেলের প্রত্যেক রুমের ভাড়া ৩ হাজার । তুই হোটেলের সাথে ডিল করবি যে, যখন আমরা ভার্সিটির টুরে আসব তখন হোটেলের বিলের রিসিটে প্রত্যেক রুমের জন্য ২০০ টাকা কম ২৮০০ টাকা লিখা থাকবে। কিন্তু আপনার সাথে আমার ডিল হচ্ছে আমি আপনারে প্রত্যেক রুমের জন্য ২ হাজার করে দিব।
তাহলে যদি মিনিমাম ১০ টা রুম নেওয়া হয় এবং প্রত্যেক রুম থেকে তুই ৬শ করে লাভ করছ এবং অন্তত ৩ দিন থাকা পড়ে তাহলে তোর লাভ হয়: ১৮ হাজার টাকা ।
[] তখন আরেক বন্ধু উঠে বলল: এইটা তো বাটপারি হইয়া গেল দোস্ত।
[] সেখান থেকেই তর্ক শুরু । আমার বন্ধুর কথা হচ্ছে আমি তো এখানে কাওকে ঠকাচ্ছি না এখানে শুধুই বিজনেস করছি। যেখানে হোটেলের রুম ভাড়া হচ্ছে ৩ হাজার সেখানে আমি ২শ টাকা কমিয়ে এনে ২৮০০ টাকা করেছি... কিন্তু মাঝখানে আমি কিছু বিজনেস করলাম ।
[] আমার কথা হচ্ছে যদি কেও যানে তুমি তার সাথে বিজনেস করছ Then It's fair।
যেমন আমি কোন দোকান থেকে কোন প্রডাক্ট কিনতে গেলে আমার অবশ্যই জানার কথা, দোকানদার এখান থেকে যত বেশি পারে আমার কাছ থেকে ততো বেশি লাভ করতে চাইবে।
But When Some one Trust you and there is no business dealings in between Then it's unfair !
যেমন: আমি এমন কোন দোকানে গেলাম যেখানের মালিক আমার বন্ধু এবং আমার বিশ্বাস সে আমারে ঠকাবে না। তখন সে যদি বলে দোস্ত সব খরচ বাদ দিয়ে আমি তোর কাছ থেকে মাত্র ২০০ টাকা লাভ নিচ্ছি তাইলে Its fare কিন্তু বন্ধু মিথ্যে বলে যদি আমার কাছ থেকে লাভ করতে যায় তাইলে সেইটা বেইমানি হয়ে যাবে । তবে বেইমানি হলেও সেইটাও কিন্তু বিজনেস...

[] এখন আমাদেরকেই বুঝতে হবে: What is fair And What is unfair. []

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

হিমুর একদিন

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

নিস্বার্থ ভালোবাসা

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ইফাত ও কিছু ছিন্তাইকারির গল্প

ইফাত কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। সাধারণত সে সন্ধ্যার পর ঘরের বাইরে থাকে না । যদি বাইরে যায় তাহলে ৮ টা ৯ টা’র আগে ঘরে চলে আসে । কিন্তু আজ আসছে না । ঘরের সবাই ইফাতের চিন্তায় পেরেসান । ইফাতের মা কাঁদতে কাঁদতে চোখ লাল করে ফেলেছেন । ইফাতের বড় বোন ইফাতের সকল বন্ধুদের বাসায় ফোন করছে কিন্তু ইফাতের কোন খবর পাচ্ছে না । ইফাতের বাবা বিভিন্ন মেডিকেল গুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ইফাতের খোঁজে।

ইফাত এখন হাত-পা বান্ধা অবস্থায় আছে । কথায় আছে সে জানে না। তার সামনে কিছু গুণ্ডা টাইপের লোক দাঁড়িয়ে আছে । সে টিভিতে দেখেছে এরা ছোট বাচ্চাদেরকে ধরে নিয়ে এসে ঘরে ফোন করে বলে: আপনার বাচ্চা এখন আমাদের কাছে । বাচ্চাকে জীবিত পেতে হলে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে,
বাবা বলবে: এর আগে আমি আমার ছেলের সাথে কথা বলতে চাই।
ছেলে ফোনে বলবে: হ্যালো বাবা...আমাকে বাঁচাও আমাকে বাঁচাও... আমার খুব ভয় করছে ।
বাবা বলবেন: খোকা ভয় পেও না... তোমার কিচ্ছু হবে না।

কিন্তু ইফাত বড় হয়ে গেছে...সে এখন কলেজে পড়ে । সে ফোনে তার বাবাকে কি বলবে তা ভাবছে । যদি বাবাকে বলে: সে ভয় পাচ্ছে তাহলে তার প্রেস্টিজ এর পাংচার হবে, তাই ইফাত ঠিক করেছে সে ফোনে বাবাকে বলবে: বাবা তুমি টেনশন করো না... আমি মোটেও ভয় পাচ্ছি না ।

চশমা পড়া এক লোক ঘরে ঢুকলো । ইফাতের কাছে এসে বসল এবং বলল:
-তোর নাম ইফাত না ?
-- জ্বি আমার নাম ইফাত, ইফাত চক্রবর্তী ।
- বেশি কথা বলবি না। যা প্রশ্ন করছি তার উত্তর দিবি...ব্যস।
-- আমি তো প্রশ্নের উত্তরটাই দিলাম... ইফাত চক্রবর্তী আমার নাম ।
- আবার কথা বলে ।
-- তাইলে আমি কথা বলব না ?
- ইশ্‌শ্‌ ... কথা বলবি না কেলা ? যা জিগাই তার উত্তর দিবি খালি...
-- জ্বি অবশ্যই...উত্তর দিব ।
- তোর বাবার মোবাইল নাম্বার জানিস ?
-- জ্বি জানি ।
- নাম্বার বল ।
-- কোনটা বলব ?
- মানে  ?
-- বাবার দুইটা সিম আছে। একটা গ্রামীণ আর একটা এয়ারটেল ।
- কোনটাতে ফোন দিলে তোর বাবাকে পামু  ?
-- গ্রামীণে ।
- তাইলে গ্রামীণ নাম্বারটা দে ।
-- ০১৭১......

বাবাকে ফোন দিয়ে বলল: আপনার ছেলে আমার কাছে আছে । যদি ছেলের ভাল চান তাহলে মন দিয়ে শুনেন কি করতে হবে । পুলিশকে এই বিষয়ে জানাবেন না...যদি জানান আর আমরা সেই বিষয়ে টের পাই তাহলে মনে রাখিয়েন, আপনার ছেলেকে আর জীবিত পাবেন না। কাল সন্ধ্যার মধ্যে ১০ লাখ টাকা রেডি রাখবেন। আমরা ফোন করে জানাবো কখন এবং কোথায় তা নিয়ে আসতে হবে ।
তারপর লোকটা ইফাতের কানে মোবাইল লাগিয়ে বলল বাপের লগে কথা বল ।
ইফাত ফোনে বাবাকে বলল: বাবা তুমি টেনশন করো না। আমি মোটেও ভয় পাচ্ছি না । মাকে বলিও আমি ভাল আছি । আচ্ছা রাখি বাবা, পরে কথা হবে, ভাল থাক- আল্লাহ হাফেজ ।

লোকটা কল কেটে দিয়ে হা করে ইফাতের দিকে তাকিয়ে আছে । বুঝতে পারছে না ছেলেটা কয় কি ? লোকটা রেগে গিয়ে ইফাতকে বলল:
-ওই ফাজিল ছেলে, তুই কি জানোস তুই ছিনতাই হইছোস ?
-- হ্যাঁ, জানি তো ।
-তাইলে তুই ভয় পাস নে কেনে ?
-- বাবা কালকে টাকা নিয়ে আসবে, আপনারা আমাকে ছেড়ে দিবেন...এতে ভয় পাওয়ার কি আছে ?
- যদি আমরা তোরে মাইরা ফেলি ?
-- আপনারা আমাকে কেন খামাখা মারবেন ?
- যদি তোর বাপ টাকা না দেয়ে ?
-- যদি টাকা দেয়ে তাহলে ভয় পাব...আপাতত ভয় পাচ্ছি না ।

লোকটা মাথা চুলকাইতে চুলকাইতে উঠে চলে গেল । এখন ইফাতের সামনে যে লোকটা বসে আছে তার মাথায় একটাও চুল নাই, স্বাস্থ্য মাশ্‌আল্লাহ ভাল, গুলগাল চেহারা । লোকটা বসে বসে সিগারেট টানছিল তখন ইফাত লোকটাকে ডাকদিল ।
লোকটা ইফাতের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল: কি হইছে ?
-পেশাব ধরছে...পেশাব করব ।
--সাথে সাথে লোকটা ইফাতের পেন্ট খুলতে শুরু করল ।
- আপনি এইটা কি করছেন ? থাক পেশাব করব না ।
-- লোকটা ইফাতের পেন্ট টান দিয়ে খুলে একটা খালি বোতলের মুখ আগায় লাগিয়ে বলল: কর, পেশাব কর ।
- ইফাত বোতলে পেশাব করল ।
--লোকটা ইফাতের পেন্ট আবার লাগিয়ে দিল ।
- আমার যদি হাগু পায় তাইলে কি ভাবে করব ?
-- লোকটা ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিল ইফাতের গালে ।

ইফাত আর কোন কথা বলল না। এখন ইফাত্‌ একটু একটু ভয় পাচ্ছে । হাগু ধরলে কি করবে সেই টেনশন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে ।

রাতে ইফাতের হাত পা খুলে দেয়া হল। বিরিয়ানি আনা হয়েছে । সবাই এক সাথে বসে খাওয়া দাওয়া করছে । ইফাত খুব মজা করেই তাদের সাথে বসে বিরিয়ানি খাচ্ছে । ইফাত ঐ চশমা পড়া লোকটাকে বলল: দাদা, green chilli আছে ?
লোকটা ইফাতের দিকে বিস্ময়ের সাথে তাকিয়ে আছে । ইফাত কি চাইলো লোকটা বুঝতে পারে নাই । একে অন্যের দিকে চাওয়া চাওয়ি করল কিন্তু কেও বুঝতে পারলো না ।
-কি চিলি কইলি ?
--গ্রিন চিলি।
- গ্রিন চিলি কি ?
- আরে গ্রিন চিলি বুঝেন না ? গ্রিন চিলির মানে হচ্ছে: কাঁচামরিচ । আছে ?
লোকটা তার বিরিয়ানির প্যাকেট থেকে কাঁচামরিচ ইফাতকে দিল ।
ইফাত জিজ্ঞেস করল: আপনারা এই দশ লাখ টাকা দিয়ে কি করবেন ?
কেউ কোন কথা বলল না ।

খাওয়া দাওয়ার পর সবাই ঘুমিয়ে পড়ল । ইফাতের সাথে গল্প করতে করতে তারা ভুলেই গেল যে ইফাতকে তারা ছিনতাই করে এনেছে । তাকে বেঁধে রাখতে ভুলে গেল । ইফাত তাদের সাথে ঘুমিয়ে পড়ল । সকালে সবাই ঘুমাচ্ছে তখন চশমা-ওয়ালা লোকটা ঘুম থেকে উঠে দেখে ইফাত নাই। বাইরে বের হয়ে দেখে ইফাত টয়লেটে ।
ইফাত টয়লেট থেকে বের হয়ে বলল: শামিম ভাই গুড মর্নিং ।
শামিম হা করে তাকিয়ে আছে ।
-শামিম ভাই, চল, কোন রেস্টুরেন্ট থেকে নাস্তা করে আসি । খুব খিদা লাগছে ।

শামিম আর ইফাত গেল রেস্টুরেন্টে। বসে বসে নাস্তা করছিল তখন ইফাত বলল:
শামিম ভাই, তুমি কি জান আমার বাবার কাছে কোন টাকা নাই । দিদি’র বিয়ের জন্য কিছু টাকা জমিয়েছিল বাবা। দিদি’র বিয়ের কথাবার্তা চলছে, আপনাকে টাকা দেয়ার পরে দিদির বিয়ে ভেঙ্গে যেতে পারে ।
-শামিম কোন কথা বলল না।
সারাদিন ইফাতের সাথে লুডু আর ক্যারাম খেলল শামিমের দলের সকল সাঙ্গপাঙ্গ’রা । হাসি ঠাট্টা’র মধ্যে কাটলো সারাটাদিন ।

সন্ধ্যায় ইফাতের বাবা ১০ লাখ টাকা নিয়ে এসেছেন ইফাতকে ছাড়িয়ে নিতে । যাওয়ার সময় শামিম ইফাতকে একটা কেটবেরি চকলেট দিল এবং সাথে তার বাবাকে ৯ লাখ টাকা ফিরিয়ে দিয়ে বলল: মেয়ের বিয়ের জন্য শুভকামনা রইল ।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

পরিবেশ বাঁচান

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

BrotherHood

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

একটি অসহায় দেশের কাহিনী

অনেককাল আগে একটা দেশে কিছু শাষক গোষ্ঠি খুব অত্যাচার করিত মানুষদের উপর। শাষকেরা যা ইচ্ছা তাহাই করিত । তখন সেই দেশের মানুষজন এই অত্যাচার সহ্য করিতে না পারিয়া এক হইয়া শাষকদের বিরুদ্ধে লড়াই করিল এবং জয়ী হইল। অবশেষে শাষকেরা দেশ ছাড়িয়া ভাগিয়া যাইতে বাধ্য হইল। সেই দেশের যে নেতা ছিলেন তিনি দেশকে স্বাধীন ঘোষনা করিলেন। সেই স্বাধীন দেশে মানুষ স্বাধীন ভাবে বাস করিতে লাগিল । কিন্তু সেই শাষকদের রাখিয়া যাওয়া কিছু যন্তু জানোয়ার থাকিয়া গেল সেই দেশেই। তারা সুযোগ পাইয়া দেশের নেতাকে হত্যা করিল । দেশের নেতা আরেকজন হইলেন। এই ভাবে অনেক বছর পার হইয়া গেল। একে একে নেতা পরিবর্তন হইলেও দেশ কিন্তু সময়ের স্রোতে পিছাইতে থাকিল । দেশের মানুষ আবার শাসিত হইতে শুরু করিল কিছু শাষক গোষ্ঠির অধিনে। আবার কিছু শাষক গোষ্ঠির কাছে বন্দী হইয়া গেল। শাষকেরা প্রত্যেকটা কাজের জন্য মানুষের রক্ত চুষিয়া নিতে শুরু করিল। এইটা করিতে গেলে ঘুষ লাগে, সেইটা করিতে গেলে মামা-চাচা লাগে, পড়ালেখা করিতে গেলে দূর্নিতীর শিকার হইতে হয় আরো অনেক কিছু...

[প্রশ্ন রইল আপনাদের কাছে]
তাহলে কিসের জন্য এই দেশের মানুষ যুদ্ধ করিয়াছিল ? আবার কি যুদ্ধ করিতে হইবে ? আবার যদি যুদ্ধ করিতেও হয় তাহলে কে হইবে রাজাকার আর কে হইবে মুক্তিযোদ্ধা ?

[ আমার উত্তরটা বলিয়া ফেলিঃ আবার যুদ্ধ করিতে হইবে অবশ্যই। তবে এই যুদ্ধ হইবে নতুন কোন সত্যবাদি নেতার অধিনে যুদ্ধ । আর সেখানে রাজাকার হইবে তারাই যারা আওয়ামিলীগ, বিএনপি আর অন্যান্য দলের দালালি করিবে। ]

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

মা এর ভালবাসা অতুলনীয়

এইটা ইংরেজি একটা পোস্ট। জানি না সত্য কি মিথ্যা। কিন্তু পড়ে খুব ভালো লাগলো বলে অনুবাদ করে শেয়ার করলাম। 

এক ছেলে তার মায়ের কাছে গেল যখন তার মা রাতের খাবার তৈরী করাতে ব্যাস্ত ছিলেন। ছেলেটা মাকে একটা কাগজ দিল। তিনি হাত মুছে কাগজটা নিলেন এবং পড়তে লাগলেন। কাগজে যা লিখা ছিলঃ

ঘরের সামনের ঘাষ কাটার জন্যঃ ১০০ টাকা ।
আমার রুম পরিস্কার করার জন্যঃ ৫০ টাকা।
তোমার জন্য দোকানে যেতে হয় তার জন্যঃ ৫০ টাকা।
তুমি যখন বাইরে যাও তখন ছোট ভাইকে দেখে রাখার জন্যঃ ১০০ টাকা।
ঘরের ময়লা বাইরের ডাস্টবিনে নিয়ে যাওয়ার জন্যঃ ৫০ টাকা
ভাল রেজাল্ট এর জন্যঃ ২০০ টাকা

আমার এ সপ্তাহের মোট বিলঃ ৫৫০ টাকা।

তিনি তার কাছ থেকে কলম নিলেন এবং কাগজের উল্টো পাতায় কিছু একটা লিখতে লাগলেন। ছেলেটা তার মায়ের চোখের দিকে তাকালো। দেখলো মায়ের চোখ টলটল করছে। কিছুক্ষন পর তিনি ছেলেকে কাগজটা দিলেন। ছেলেটা পড়তে লাগল।

- নয় মাস আমি তোকে আমার পেটের ভেতর রেখেছি। তুই অনেক দুষ্টূমি করতি, আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছিলি তারপরেও আমি নয় মাস সবকিছু সহ্য করেছি তার বিলঃ শূন্য ।
- তারপর তোর জন্মের পর সারা রাত তোর পাসে থাকতাম। তুই কাঁদতি আমি তোকে কোলে নিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতাম । তুই অসুস্থ হয়ে পড়লে সারা রাত তর সেবা-যত্ন করতাম আর তোর জন্য দো'আ করতাম সেই সবকিছুর বিলঃ শূন্য ।
- রাতে ভয় পেয়ে যখন কেঁদে উঠতি তখন তোর পাশে বসেই তোর মাথা বুলিয়ে দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতাম তার বিলঃ শূন্য ।
- তোর সকল খেলনা, কাপড়, খাবার, নিজ হাতে তোকে খাইয়ে দেয়া, তোকে গোসল করানো, তাছাড়া তোর নাকের সর্দি পর্যন্ত মুছে দেয়ার বিলঃ শূন্য।
- তোর জন্য আমার ভালবাসার বিলঃ শূন্য ।

ছেলেটা যখন এইটা পড়ল তখন তার চোখ থেকে গড়গড় করে অশ্রু ঝড়তে লাগল। সে মায়ের দিকে তাকালো আর জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললঃ আই লাভ ইউ মা। আই রিয়েলি লাভ ইউ।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

কল্পনার জগতে রেলওয়ে স্টেষনের এক রাত

সারাটা দিন অনেক চেষ্টা করেও কিছু লিখতে পারলাম না। এ এক আজব কারখানা। কিছুই লিখার খোঁজে পাইলাম না।
আমার জীবনের সকল কাহিনী কি ফুরিয়ে গেছে ?
নাকি আমি আস্তে আস্তে সবকিছু ভুলতে বসেছি ?
এই সব নিয়ে ভাবতে ভাবতে অস্থির হয়ে পড়ছি, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে আছে।

খুব ইচ্ছে করছে রেলস্টেষনে বসে বসে সিগেরেট আর চা খাই।
আর সেখানকার ব্যেস্ত মানুষজনের কোলাহল দেখি।
গরীব ভিক্ষুকদের ভিক্ষা করা দেখি।
সেখানে ঘুমিয়ে থাকা অসহায়দের ঘুম দেখি।

কিন্তু এখন যাওয়া যাবে না । কারন সভ্য সমাজ এই সব উদ্ভট কাজকর্ম খুব অসভ্য বিবেচনা করেন। সভ্য সমাজের মতে সভ্য সমাজের ছেলে পুলেরা এই ধরনের উদ্ভট কাজকর্ম করে না। কিন্তু আমার করতে ইচ্ছে হচ্ছে। তার মানে এই যে আমি অসভ্য সমাজের মানুষ ?
জানি না, এই সব অসভ্য চিন্তা ভাবনারে ... ।

তাই কিছুক্ষনের জন্য লিখালিখির জগতে স্টেষন ঘুরে আসি। স্টেষনের করিম স্টোর-দোকানে বসে চা-আর সিগেরেট খাচ্ছি। অসাধারন তৃপ্তি।

১)
এক লোক আর এক মহিলা পাশাপাশি বসে অপেক্ষা করছেন ট্রেনের। মহিলার কোলে একটা ছেলে বয়স ৬ কি ৭ ।. ঠিক বুঝতে পারছি না। ২ ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছেন কিন্তু ট্রেনের এখনো কোন নাম নিষানা নাই।
লোকটা উনার বউ রে বললেনঃ খুব জোরে ধরছে। আমি টয়লেট করে আসি ।
লোকটাকে যেতে দেখে ছেলেটা মায়ের কোল থেকে নেমে দৌড় দিয়ে বাপের পায়ে ধরে বললঃ বাবা আমি যাবো।
- কথায় যাবি ? হাগা করতে ?
না বাবা।
-আমি তো হাগা করতে যাচ্ছি।
না না না...আমি যাব আমি যাব।
লোকটার খুব জোরে ধরেছিল বলে কন্ট্রোল করতে পারলেন না। ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিলেন ছেলেটার গালে।
-ছেলেটা গালে হাত দিয়ে হেটে হেটে আস্তে করে মায়ের কোলে উঠে বসে রইল ।


২)
অন্য দিকে চারটা ছেলে আর ২ টা মেয়ে। দেখেই মনে হচ্ছে খুব হাঙ্কু পাঙ্কু ঘরের ছেলে-মেয়ে। তারা কক্সবাজার যাবে। একটা ছেলের গলায় DSLR ক্যামেরা ঝুলানো। ট্রেনের দেরি হচ্ছে বলে সকল বন্ধুরা ফোটো তুলা শুরু করে দিল।

ফোটোগ্রাফার খুব ভাব নিয়ে ছবি তুলছেন এবং বিভিন্ন ভঙ্গি শিখিয়ে দিচ্ছেন। ফোটোগ্রাফারের দেখানো পথে বাকি তিন জন বালক আর দুই বালিকা কাকের ঠ্যেং আর বকের ঠ্যাং স্টাইলে ছবি তুললেন।

সবচেয়ে আকর্ষনীয় যে স্টাইল ছিল সেইটা হল কুকুর যে ভাবে এক পা তুলে পেশাব করে সেই রকম।
কুকুরের পেশাব স্টাইল ইংরেজিতে বললে ডগ পি স্টাইলে তিন ছেলে আর দু’টি মেয়ের ছবি তুলার দৃশ্য দেখতে দেখতে একটা ছোট্ট ছেলে আমার সামনে দিয়ে দৌড় দিল।

৩)
ছেলেটার বয়স হবে ৩ কি ৪।. খুব ফর্সা ছেলে দেখেই মনে হচ্ছে এই ছেলেটা দেশের প্রডাক্ট না অবশ্যই বৈদেশী মাল। যাই হোক ছেলেটা দেখতে কিন্তু অদ্ভুত সুন্দর। একটা প্লাস্টিকের বল দিয়ে ফুটবল টাইপের কোন এক খেলা খেলছে আর এই দিক সেই দিক দৌড়া দৌড়ি করছে।

ছেলেটা লাথি দিতেই বলটা আমার পায়ের কাছে এসে পড়ল। আমি সামান্য এক্সাইটেড হয়ে গোল দিয়ার ভঙ্গিতে বলটাতে কিক করার সাথে সাথে বলটা পাশের দোকানের চুলার উপর গিয়ে পড়ল এবং সাথে সাথে ঢাস্‌ করে ফুটে গেল।

আমি সাথে সাথে মাটিতে বসে কানে ধরে ছেলেটাকে বললামঃ আই এম সরি বাবা ।
ছেলেটা অতি মায়াময় ভঙ্গিতে একটা হাসি দিয়ে বললঃ it’s ok.

ছেলেটার এই হাসি দেখেই আমি মুগ্ধ । আমার মন ভাল হয়ে গেছে।
এই মিস্টি হাসি নিয়েই এখন ঘরে ফিরার পালা।

½ Life

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

মোবাইল চুর মকছুদ

আমি সিলেট-ঢাকা হাইওয়ের কোন এক বট গাছের নিচের টং এর দোকানে চা খাচ্ছি। এই টং এই দোকান আমার বাসা থেকে অনেক দূরে সাইকেল দিয়ে আসতে ১ ঘন্টা লেগেছে।
মুগ্ধ হয়ে দেখছি চারিপাশ। দোকানের পিছন দিকে পানি আর পানি। বাতাসের স্পর্শে শরীরে হালকা আরাম অনুভব করছি। মনে হচ্ছে এখানে চাটি বিছিয়ে শুয়ে পড়ি।
আমি সিগেরেট টানছি, কারন এই পরিবেশে সিগেরেট স্থান সবার উপরে। শরীর যখন আরাম পায় তখন নিকোটিন ঢুকিয়ে তাকে বিরক্ত করতে মন আলাদা একটা শান্তি পায়।

শরীরের আরাম আর মনের শান্তি দু'টাই এত ঘন হয়ে এল যে ঘুম পেয়ে গেল। আমি দোকানের পিছনে ঘাষের উপর বটগাছটায় মাথা ঠেকে শুয়ে পড়লাম।

তখন স্বপ্ন দেখলামঃ
আমি ঠিক এখানেই মোবাইলে বাংলা গান শুনে শুনে ঘুমিয়ে পড়েছি। মোবাইলটা আমার ঠিক পেটের উপরে রাখা।
একটা কালা ছেলে মানে আমার চেয়েও কালা এমন কালা যাকে আফ্রিকার কালা ছেলেরাই তাকে কালা কালা বলে ডাকবে।
ছেলেটা আস্তে আস্তে এসে আমার মোবাইলটা চুরি করার চেষ্টা করছে। আমি কিছু করতে পারছি না কারন আমি ঘুমে ছিলাম। হটাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল দেখি ছেলেটা আমার মোবাইলে শুধু হাত দিয়েছে।
আমার ঘুম ভেঙ্গে যাওয়াতে ছেলেটা ভয় পেয়ে গেল।

-তোমার নাম কি কালা ?
আমি মকছুদ।
-আমি আরাম করে গান শুনে শুনে ঘুমাচ্ছি তোমার কি তা স্বহ্য হচ্ছে না ?
সরি দাদা। আমারে ক্ষমা করে দেন
-যাও ক্ষমা করলাম। তুমি মোবাইল চুরি করে কি করবে ?
গান শুনবো।
-মহৎ উদ্দেশ্য। আমার পছন্দ হয়েছে।
কালা চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
-শুনো কালা। আমি এখন ঘুমাবো। গান শুনে শুনে ঘুমাবো। যখন আমি ঘুমিয়ে যাবো তখন তুমি আমার মোবাইলটা চুরি করে নিয়ে যেও।
-কালা এখনো জগতের সকল বিস্বয় নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

আমি গান শুনে শুনে ঘুমানোর চেষ্টা করছি।
প্রায় ২০ মিনিট পর মকছুদ চুরির উদ্দেশ্যে মোবাইলে ধরল।
আমি আবার চোখ খুলে উঠে পড়লাম। মকছুদ ভয় পেয়ে গেছে। আগে চোখ বড় ছিল এখন মুখটাও হা করে আছে।

-আমি তো এখনো ঘুমাই নাই।
ঠিক আছে দাদা, আপনি ঘুমান ।
আমি আবার ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। প্রায় তিন ঘন্টা পর ঘুম ভাংলো। উঠে দেখি আমার পাশে মকছুদ ছেলেটাও ঘুমাচ্ছে।

তখন স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল। আমি সাইকেলে করে আবার বাসায় ফিরছি...

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

স্বরাস্ট্র মন্ত্রীর সাথে হিমুর কথপোকথন

আমি বসে বসে খাবারের অপেক্ষা করছি। যে হোটেলে বসে আছি তার নামঃ “মাছে-ভাতে” রেস্টুরেন্ট। একটা বড় নোটিশ বোর্ড ঝুলানো যেখানে লিখা আছেঃ খাম্বা ধরে নাড়াচাড়া করবেন না।
নোটিশটা পড়েই মনে পরে গেল একজন বিচক্ষন মানুষের কথা।

ধরেন আমার সাথে উনার ইন্টারভিউ হচ্ছেঃ

আচ্ছা সার আপনি বলেছেন মৌলবাদীরা ধাক্কা দিয়ে রানা-প্লাজা ধসিয়ে দিয়েছে। আপনি কি তা সিরিয়াসলি বলেছিলেন ?
- না।
আমারো তাই মনে হয়। আপনি হচ্ছেন মহাপুরুষদের দলে। আপনি কোন জিনিস সিরাসলি বলবেন তা মেনে নেয়া যায় না। আর সাধারন মানুষের উচিত তা সিরিয়াসলি না নেয়া। মহাপুরুষদের কথা শুধু শুনতে হয়, মানতে হয় না।
- তুমি ক আমার সাথে ফাইজলামি করছ ?
জ্বি না সার। আমি কোন মহাপুরুষের সাথে ফাইজলামি করি না। আই এম সিরিয়াস ।
- আচ্ছা ঠিক আছে বল।
আচ্ছা সার গত তিন দিন ধরে ঢাকায় যে হাটু পানি, তার পিছনে কি কোন বিরোধি দলের হাত আছে মনে করেন ?
- কি বলতে চাও তুমি ?
আমি বলতে চাচ্ছি এমনও তো হতে পারে বিরোধীদলের কর্মিরা ইচ্ছে করে বেশী বেশী পেশাব করে পানির স্তর বাড়িয়ে ফেলছে ?
- অনেক হইছে আর সহ্য করা যায় না। গার্ড ?
এক দল গার্ড সংগে সংগে ভেতরে ঢুকল ।
- একে নিয়ে হাজতে ঢুকাও আর অসিরে বল, এর যেন ভাল করে সেবা যত্ন করে।




রাত ১ টা ৪৯ মিনিট।
অসি সাহেবের টেবিলের সামনে বসে আছি। এবং এমন ভাবে মুখ নাড়াচ্ছি যেন আমি পান চিবুচ্ছি। অসি সাহেব আমার দিকে খুব অবাক দৃষ্টিতে চাহিয়া আছেন। আমার মুখ নড়ানো দেখে খুব যে বিরক্ত হচ্ছেন তা স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছে।
- কি হয়েছে মন্ত্রীর সাথে ?
কিছু হয় নাই। উনি আমার ব্যেবহারে খুব বেশী ইম্প্রেসড। তাই এখানে পাঠিয়েছেন সেবা-যত্ন করতে ।
- ফাইজলামি করছ ?
জ্বি না। খালি খালি ফাইজলামি করতে যাব কেন ?
- তুই নাকি মন্ত্রী সাহেবরে মহাপুরুষ কইছস ?
উনি তো মহাপুরুষই। মহাপুরুষরা সহজ ভাষায় কিছু বলে না, উনাদের কথায় দার্ষনিক টাইপ ছাপ থাকে। যা সাধারন মানুষ বুঝতে পারে না বিধায় হাসাহাসি করে।
- তুই কেমনে বুঝলি ?
আমিও মহাপুরুষ হবার চেষ্টায় আছি।
- তুই মহাপুরুষ ? তাইলে একটা মহাপুরুষের বানী শুনা ।
পুলিশ রে নিয়া একটা বানী বলি ?
- বল।
যে পুলিশ জাতি ঘুষ খাইয়া পেট করতে পারলো না বড় সেই পুলিশ জাতি ব্যের্থ।
- তোর কি মনে হয় ? আমি ঘুষ খাই ?
জ্বি খান। এবং আজকেও ১০ হাজার টাকা খেয়েছেন। তবে সেইটা ঘুষ না। আমার সেবা যত্নের খরচ।
- ওসি সাহেবের মুখের হাব ভাব চেঞ্জ হয়ে গেল। তিনি বুঝতে পারছেন না কি বলবেন। তিনি মেলাতে পারছেন না, আমি তা কেমনে জানলাম ?

তিনি গার্ডকে ডেকে আমাকে ভেতরে নিয়ে যেতে বললেন। ১০ হাজার টাকার সেবাযত্ন খানিকটা দীর্ঘক্ষন চলল।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

আমার গায়ের রঙ কালা

সবাই বলে আমার গায়ের রঙ নাকি কালা। আমি নিজেও মনে করি আমি কালা মানুষ। মাঝে মাঝে ছোট্ট ছেলে-মেয়েরা আমাকে দেখে ভয় পেয়ে যায়। কয়েকদিন আগে আমি বাসায় আসছিলাম একটা ছোট্ট ছেলে হাটিহাটি পা পা করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাকে আসতে দেখেই থমকে দাঁড়িয়ে থাকল। আমি যতই কাছে যাচ্ছি ততই তার মুখ ভোতা হতে থাকল। আমি যখন কাছে গিয়ে তার সামনে দাড়ালাম তখন প্রচন্ড ভয় তার চোখে দেখতে পেলাম।
আমি তার সামনে গিয়ে উপুড় হয়ে তার চোখের দিকে তাকাতে লাগলাম। আমি ভুত কখনো দেখিনি, তবে মানুষ ভুত দেখে যেমন ভয় পাওয়ার কথা হয়ত ঠিক তেমন ভয় পাচ্ছে পিচ্চিটা। ছেলেটা হয়ত বেশী ভয় পেয়ে গেছে তাই কাঁদতেও পারছে না। আমি তার গালে একটা চুমু দিলাম। এবং চলে এলাম।

তো যা বলছিলাম,
আজ হটাৎ করে মিফ্‌তাহ ভাই কইলেন আমি নাকি কিছুটা ফর্সা হয়ে গেছি।
কিন্তু একটা সমস্যা হয়ে গেছে। আমি একটু পর পর আয়নার সামনে যাচ্ছি আর নিজের চেহারা দেখছি, আদৌকি আমি কিছুটা ফর্সা হইছি ?

ভাই এই যন্ত্রনা থাইক্কা আমারে বাঁচা,
আমি কালা আর এইটাই আমার জন্য ভালা।
ছোট বেলা থেকেই বিশ্বাস করে আসছি,
কালা জগতের ভালা,
যদিও জগতের সব ময়লাও কালা হয় এক মাত্র মানুষের "..." ছাড়া। ওইটা হয় হলুদ ... 

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

মহান বীর রাজা আলেকজান্ডারের একটা কাহিনী

মহান বীর রাজা আলেকজান্ডারের একটা কাহিনী বলিঃ 
অনেক আগে এইটা লিখেছিলাম এবং পোস্ট দিয়েছিলাম। আশা করছি যারা এই বিক্ষাত রাজার এই কাহিনী এখনো পড়েননাই অথবা জানেন না তারা পড়বেন এবং কিছু শিখতে ইচ্ছা হলে শিখবেন...

অনেকেরই হয়তো এই কাহিনী জানা আছে, তাই যদি এই কাহিনী জানা থাকে তাইলে সময় নষ্ট করে পড়ার দরকার নাই।

আলেকজান্ডারের নাম তো শুনেছেন নিশ্চই, তারপরেও বলি, তিনি ছিলেন প্রাচীন গ্রীসের মেসিডনের রাজা এবং মহান এক যোদ্ধা।
তিনি পরিচিত পৃথিবীর (টলেমির মানচিত্র অনুযায়ী) বেশির ভাগ জয় করেছিলেন।

তার শেষ দু'টি কথা ছিলঃ
"Ice melts when heated"
"Eyes melt when hated"

এইবার কাহিনীটা বলিঃ

যখন রাজা অনেক রাজ্য জয়ের পর ঘরে ফিরছিলেন তখন পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এবং বোঝতে পারেন উনার মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে। এখনো অনেক দুরের পথ অতিক্রম করতে হবে মা'কে শেষ বারের মত দেখার জন্য। কিন্তু তার ডুবন্ত জীবন তা হতে দিবে না।

তাই তিনি তার বিস্বস্ত প্রধান সেনাপতিকে ডেকে বললেন আমি খুব শিঘ্রই বিদায় নিতে যাচ্ছি, কথা দাও তুমি আমার শেষ তিনটে ইচ্ছে পুরন করবে সবার সামনে।

সেনাপতি অশ্রুভর্তি চোখে কথা দিলেন।

রাজা বললেনঃ
প্রথম ইচ্ছেঃ আমার ডাক্তার যেন আমার মৃত শরীরকে কবর পর্যন্ত নিয়ে যায়।

দ্বিতীয় ইচ্ছেঃ আমাকে যখন কবর পর্যন্ত নেয়া হবে তখন কবর পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তায় সোনা,রুপা আর দামি দামি পাথর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখবে।

তৃতীয় ইচ্ছেঃ যখন আমার লাশ কফিনের মধ্য করে নেয়া হবে তখন আমার হাত দু'টা যেন কফিনের বাইরে থাকে ...

সেনাপতি রাজাকে বিশ্বাস দিলেন উনার এই তিনটে ইচ্ছে পালন করা হবে, তারপর জানতে চাইলেন এর কারনঃ

রাজা বললেনঃ আমি মানুষকে জানাতে চাই যা আমি এই শেষ মুহুর্তে এসে শিখতে পেরেছি।

>আমার ডাক্তাররা যখন আমার লাশ নিয়ে যাবে তখন মানুষ জানবে ডাক্তাররা কাওকে মৃত্যুর থাবা থেকে রক্ষা করতে পারে না। যখন কোন মানুষ জান রক্ষা করতে পারে না,তখন কারো কোন মানুষের জান নেওয়ার অধিকার নাই।

> যখন আমার সারা জীবনের অর্জিত সোনা,রুপা আর দামি দামি পাথরের উপর দিয়ে হেটে আমার লাশকে নিয়ে যাওয়া হবে তখন মানুষ বোঝবে ধন-সম্পদের পেছনে ছোটা-ছোটি করা শুধুমাত্রই সময়ের অপব্যেয় ।

>আর যখন আমার কফিনের ভেতর থেকে আমার দু খালি হাত ঝুলে থাকতে দেখবে তখন মানুষ বোঝবে, আমি এসেছিলাম খালি হাতে এবং যাচ্ছিও খালি হাতে।

এই কথা গুলো বলে রাজা চোখ বন্ধ করেন এবং ধিরে ধিরে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন।

একটা শেষ কথা বলিঃ

"যখন আমরা কিছু নিজের জন্য করি তার মৃত্যু হয় আমাদের মৃত্যুর সাথে সাথেই, কিন্তু অন্যের জন্য যখন কিছু করি তখন তা চিরকাল জীবত থাকে..."

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

এক প্রফেসরের জীবন সম্পর্কিত কথা

একদিন এক প্রফেসর উনার ক্লাশ শুরু করলেন পানি ভর্তি একটা গ্লাস হাতে নিয়ে হাত উচু করে গ্লাসটা ধরলেন যাতে সকল ছাত্র-ছাত্রী তা দেখতে পায় এবং জিজ্ঞেশ করলেন, কি মনে হয় তোমাদের , এই গ্লাসটার ওজন কত ?

কেউ কেউ বলল ৫০ গ্রাম, কেউ আবার বললঃ ১০০ গ্রাম, কেউ আবার ১২৫ গ্রাম ।

প্রফেসর বললেন আমি ঠিক জানি না এর ওজন কত যতক্ষন না আমি এর ওজন এর মাপ নিচ্ছি না । যাই হোক আমার প্রশ্ন হলঃ কি হবে যদি আমি এই গ্লাস কয়েক মিনিটের জন্য এই ভাবে ধরে রাখি ?

ছাত্র-ছাত্রী বললঃ কিছুই হবে না ।

ওকে,ভাল কথা ! কি হবে যদি আমি এই গ্লাসটা এই ভাবে এক ঘন্টা ধরে রাখি ?

ছাত্র-ছাত্রী বললঃ আপনার হাত ব্যেথা করবে ।

প্রফেসর বললেনঃ ঠিক ! এখন বল "কি হবে যদি আমি সারা দিন এই ভাবে গ্লাসটা ধরে রাখি" ?

ছাত্র-ছাত্রী বললঃ আপনার হাত থেকে সারা শরিরে ব্যেথা ছড়িয়ে পড়বে এবং আপনার সারা শরির আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে পড়বে । এবং আপনাকে নিয়ে আমাদের হাসপাতালে যেতে হবে । সবাই হাসা-হাসি করল ।

প্রফেসর বললেনঃ খুব ভাল ! কিন্তু এইবার বল "এই সবকিছুর পরেও কি এই গ্লাসের ওজন পরিবর্তন হবে ?

ছাত্র-ছাত্রী বললঃ ‘না, অবশ্যই না’

প্রফেসর বললেনঃ তাইলে কেন আমার হাত অবশ হয়ে পড়বে ? কেন আমার সারা শরির নিস্তেজ হয়ে যাবে ?

ছাত্র-ছাত্রীরা চিন্তার মধ্যে পড়ে গেল ?

এর মধ্যে একটা ছাত্র বললঃ এখন গ্লাসটা রেখে দেন সার !

প্রফেসর বললেনঃ সেটাই ! জীবনের সমস্যা গুলো হচ্ছে এই গ্লাসের মতই । কিছু সময়ের জন্য চিন্তা করবা কিছু হবে না, দীর্ঘ্য সময়ের জন্য চিন্তা করবা তাইলে তোমার মাথা ব্যেথা শুরু হবে । আরো বেশীক্ষন চিন্তা করবা, এটা তোমাকে নিস্তেজ [প্যেরালাইজ/paralyze] করতে পারে। কিন্তু তুমি কিছুই করতে পারবা না ।

আমরা আমাদের সমস্যা গুলানিয়ে চিন্তা করব এটাই স্বাভাবিক কিন্তু তারচেয়েও বেশী দরকার হচ্ছে আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখা এবং দুশ্চিন্তা গুলো এই গ্লাসের মতই নামিয়ে রাখা ।
যা হবার হয়ে গেছে, এখন ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন এবং নতুন চেলেঞ্জ এর মুকাবিলা করুন ।
------------½ Life------------

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

আল্লাহ'র প্রিয় বান্দা

আল্লাহর কালাম মুখস্থ করতে ব্যস্ত এই শিশু গুলোর সওয়াবের পরিমাণ কি অনুমান করা সম্ভব? একটি আয়াত মুখস্থ করতে আয়াতটিকে সর্বনিম্ন কতবার পড়তে হয়? ৬৬৬৬ আয়াত মুখস্থ করতে গিয়ে পুরো কোরআন তাহলে কতবার পড়তে হবে ? একেকটি আয়াতে কত গুলো অক্ষর থাকে? কোরআন ও নির্ভরযোগ্য হাদিস অনুসারে, প্রতিটি অক্ষরে যদি কমপক্ষে ১০ টি করেও সওয়াব দেয়া হয়, প্রতিদিন তারা কি পরিমাণ সওয়াব কামাই করছেন, যান্ত্রিক ক্যালকুলেটরে কি তা হিসেব করা সম্ভব ???

এতদসত্ত্বেও, কোরআন হিফয ও পরবর্তী মাদ্রাসা শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট এই শ্রেণিটি আমাদের দৃষ্টিতে অযোগ্য ও নিরর্থক পরিশ্রমে লিপ্ত। কেননা, সমাজে আর ১০জন মানুষের মত স্বাভাবিক ভাবে বেচে থাকার জন্য কোরআনের সাথে এই সংশ্লিষ্টতা কোন কাজে আসে না। এই পরিশ্রমের কোন OUTPUT নেই। কোন FUTURE নেই।

---------------------------------------

যুক্তির আলোকে বিচার করলে হয়তো আমাদের এই চিন্তাধারাটি সঠিক। আসলেই আমাদের তথাকথিত এই সমাজ ব্যবস্থাতে কেবল কোরআন ও হাদিসের সাথে সংশ্লিষ্টতা একটি ছেলেকে স্বাচ্ছন্দ্য পূর্ণ জীবন দান করতে পারে না। কিন্তু যাদেরকে নিয়ে আমি আপনি এত ভাবছি, তারা নিজেদেরকে নিয়ে কিন্তু কখনই এভাবে ভাবে না।

তাদের কাছে জীবন একটাই। সেটা আখেরাতের জীবন। জীবনের লক্ষ্যও একটাই। সেটা রসুলের মত জীবন গড়ন। কোরআন হাদিস নিয়ে পড়ে থাকার কারণে যখন রাসুলের মত একবেলা খেয়ে না খেয়ে কাটানো জীবন তাদের ভাগ্যে জোটে, আমাদের দৃষ্টিতে তাদেরকে অভাগা মনে হলেও তাদের নিজেদের কাছে নিজেদেরকে পৃথিবীর সবচেয়ে সৌভাগ্যবান বলেই মনে হয়।

---------------------

তোমরা তো কেবল দুনিয়ার জীবনকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছ। অথচ আখেরাতের জীবন অনেক উত্তম ও চিরস্থায়ী । ( ১৬,১৭ সুরাহ আ'লা)

:::রিজওয়ানুল কবির সানিন:::

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

মসজিদের কিছু লক্ষনিয় বাজে দিক

BY: Abdul Mouhit

মুমিন মুসলমান ভাইদের প্রতি আমার কিছু কথা। কথাগুলো কোন জ্ঞানের কথা নয়, অবশ্য পালনীয় কথা বার্তা নয়। নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করলেই উত্তর পেয়ে যাবেন।

আমরা সবাই যে কাজটা করি শুক্রবারে জুম্মার নামাযে যাওয়ার পরে জুতা যেন চুরি না হয় সে জন্য জুতাটা হাতে করে মসজিদের ভিতরে নিয়ে যাই। খুব ভাল কথা। কিন্তু একবারও কি কেউ এ কথা চিন্তা করে দেখেছি যে জুতা ভিতরে নিয়ে যাওয়াটা ভাল কাজ? দেখুন আপনি নিশ্চয় ওযু করার সময় পা ধোয়ার সাথে সাথে জুতাটাও ধুয়েছেন কিংবা পা ধোয়ার সময় আপনার জুতা ভিজেছে। এবং ওযু সেরেই মসজিদের ভিতর প্রবেশ করছেন? তাহলে আপনি যখন জুতা হাতে করে ভিতরে ঢুকতেছেন আপনার হাতের জুতা থেকে কি পানি টপ টপ করে পড়ছে না? এবং এই জুতার পানি যে মসজিদের ভিতরে পড়ছে সে দিকে কি আপনার খেয়াল আছে? আপনার জু্তার পানি যেখানে পড়ছে সেই জায়গাতেই একটু পরে অন্য একজন মুসল্লি ভাই এসে নামায পড়বেন। আপনি কি সিওর হয়ে বলতে পারবেন আপনার জুতা থেকে যে পানি পড়ছে তা পাক? বাসা থেকে আসার সময় রাস্তায় আপনি কত কিছুর উপর দিয়ে হেটে এসেছেন সে দিকে কি খেয়াল আছে?
এছাড়াও অনেকেই নামাযের শেষের দিকে এসে সামনের কাতারে বসার চেষ্টা করেন। উনারাত আরো মারাত্মক। উনাদের জুতার পানি শুধু মসজিদের ভিতরে নয় সকল মুসল্লি ভাইদের গায়ের উপরে গিয়ে পড়ে। এছাড়াও উনারা সবার শরীরের উপর পাড়া দিতে দিতে সামনে গিয়ে বসেন।

আরে ভাই আপনার জুতার মূল্য কি এতই বেশি যে আপনার কারণে একটা পরিষ্কার জায়গাকে আপনি ময়লা করবেন? অন্যের শরীরে আপনার জুতার ময়লা পানি ফেলাবেন? মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট করবেন। কত শত শত টাকা আমরা ফালতু কাজে নষ্ট করি আর এখানে সামন্য কয়েকটা টাকার জন্য ......আমি লক্ষ করেছি এমনকি অনেকে আছে যে তাদের জুতার বয়স কম হলেও ৪-৫ বছর হয়ে গিয়েছে, জুতায় ৭-৮ টা সেলাই লাগানো, অথচ সেই জুতাটাও বগলে করে মসজিদের ভিতর নিয়ে ঢুকতে হয়।
এখন অবস্থা এমন দাড়িয়েছে যে মসজিদের ভিতর ঢুকলে মনে হয় আমি বাটার শো রুমে এসেছি। যেখানে বসবেন সেখানেই জুতা। পেছনেও জুতা সামননেও জুতা। সেজদা করতে যাচ্ছেন আপনার কপালের সামনে জুতা। সেজদার সময় আপনার মাথা গিয়ে লাগবে জুতার সাথে। কি এসব? একটু পরে দেখবেন আপনি যে জায়গায় বসে আছেন সে জায়টা জুতার পানিতে ঢুবে গেছে।

এখন ই যদি এমন অবস্থা হয় তাহলে বর্ষা কালের কথা একটু চিন্তা করে দেখুন। !! তখন রীতিমত মসজিদের ভিতর জুতার পানির বন্যা বয়ে যায়। যারা এমন কাজ করে তাদের বিবেক বোধ দেখে আমার বুমি আসে। কি পরিমাণ খেচ্ছর না হতে পারে মানুষ।

শুধু এখানেই শেষ নয়। নামায শেষ হল। এবার হল বম ফোটানোর পালা। মসজিদের ভেতরেত বগলের নিচে করে জুতা নিয়ে ঢুকলাম, আবার বগলে করে জুতা নিয়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে চটাশ চটাশ করে জুতা আছাড় দিয়ে ফেলতে হবে না? সবাইকে জানাতে হবে না যে আমার নামা্য শেষ।
কি পরিমান বিশ্রী এই কাজ? আরে ভাই আপনিত সুন্নত না পড়েই দৌড়াচ্ছেন, কিন্তু এখানে যে আরো অনেকেই পুরা নামায শেষ করে বের হতে চায়। তাদেরকে শান্তিতে নামায পড়তে দেন। আপনাদের সবার জুতার শব্দে যদি ঐ মুসল্লি ভাইয়ের নামায নষ্ট হয় তবে ঐ গুনাহটুকু যে আপনার ঘাড়ে এসে পড়বে তাকি আপনি জানেন??
এছাড়াও এভাবে জুতা ঢিল দেয়া ফেলা কিন্তু মসজিদের অবমাননা হয়। এটা ঢং তামাশার জায়গা নয়।

আরো একটা জিনিস দেখলাম আমাদের ইয়াং পুলাপানেরা এই কাজটা বেশী করে। হুযুর খুতবা পরছেন। আন্য দিকে উনারা বন্ধুরা বসে বাসার যা মজার মজার গল্প আছে তা বলা এখানে এনে বুমি করে বের করতেছেন। আরে মিয়ারা খুতবার সময় হাতের নোখ খোনটানো পর্যন্ত নিষেধ। খুতবা শুনতে হবে।

এখন আমার আর কিছু বলার নাই। বাকিটুকু আপনার বিবেকের উপরে ছেড়ে দিলাম। এবং আমি এটাও জানি যারা এই লেখাটা পড়বেন তারাই এই কাজ গুলা আরো বেশী করে করবেন।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

রিকশাওয়ালার ভাড়া

তিতা পোস্ট । অনেকে হয়ত পড়ে বিরক্ত বোধ করতে পারেন। তাই প্রথমেই বলে নিচ্ছি এই পোস্ট পড়ে কেউ কোন রস পাবেন না। সাবধান ।

ভার্সিটিতে যাব। আমি আর আমার এক বন্ধু রিক্সার জন্য দাড়িয়ে আছি। অনেকক্ষন থেকে দাড়িয়ে আছি। কোন রিক্সা পাচ্ছি না। শেষ পর্যন্ত একটা পেলাম।

ড্রাইভার যাবা?
যামু কই যাইবেন?
মেডিকেল।
এ কথা বলার পরেই আমি আর আমার বন্ধু রিক্সায় উঠে পড়লাম। ড্রাইভার তখন সাথে সাথে জিজ্ঞেস করল, 
ভাই ভাড়া কত দিবেন?
ভাড়া যত তত পাবেন।
না ভাই তারপরেও বলুন ।
আমি বললাম আপনার কত লাগবে ?
ভাই ২৫ টাকা দিয়েন ।
আচ্ছা ঠিক আছে দেব।

রিক্সায় উঠার পর ড্রাইভার বলতে লাগল,
“ভাইজানেরা এখন এমন দিনকাল পড়ছে কেউ সঠিক ভাড়া দিতে চায় না।“
আরো অনেক কথা । আমি ঐ দিকে যাচ্ছি না।

যাই হোক আমারা আমাদের জায়গাতে এসে পৌঁছালাম। রিক্সা থেকে নেমে ২৫ টাকার জায়গায় ৩০ টাকা দিলাম। লোকটা কোন কথা না বলে আমার দিকে তাকিয়ে একটা সালাম দিয়ে বলল “ ভাই আপনাকে সালাম দিলাম”

আমার হা করে দাড়িয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।

এখন প্রশ্ন হল মাত্র ৫ টাকা বেশী দেওয়ার কারনে সে কেন আমাকে সালাম দিবে???

বাসার খরচ পাতি না করলেও কম বেশি সবাই বাজারের কি অবস্থা জানি। পূর্বে যে চাল কিনতে লাগত ২০ টাকা এখন সেই চাল পার কেজি ৬০ টাকা । যেখানে ডালের কেজি ৫০ছিল টাকা সেখানে ১২০ টাকা।
২ বছর পূর্বে জিন্দাবাজার থেকে মেডিকেল যাওয়ার জন্য রিক্সাওয়ালাকে দিতাম ২০ টাকা এখনও দেই ২০ টাকা । এটা কোন কথা হল? আমরা সাধারনত যা করি ৫ টাকা ১০ টাকার জন্য রিক্সাওয়ালাদের সাথে ঝগড়া করি। ঠাস করে চড় মারি। ২০ টাকার জায়গায় রিক্সা ওয়ালারা ২৫ টাকা চাইলেই মেজাজ চড়ে যায়। আরে বাবা ৫ টাকা বেশি দিলে কি হয়? এরাত আর তোমাকে ঠকিয়ে টাকা নিচ্ছে না। নিজের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কষ্ট করে নিচ্ছে। তুমি এদের দিবা নাত কাকে দিবা?

আমাদের সকলের এই অভ্যাসটা হল রিক্সাওয়ালাকে কিভাবে টাকা কম দেয়া যায়। বলতে লজ্জা লাগলেও আমার নিজের বন্ধুদের মধ্যেও এই অভ্যাস দেখেছি। যে বন্ধু রিক্সাওলাকে ২০ টাকার জায়গায় ২৫ টাকা দিতে কার্পণ্য করে সেই বন্ধু আবার আমাকে চাইনিজে গিয়ে হাজার দুই খরচ করতে দ্বিধা বোধ করে না । আমার মনে প্রশ্ন জাগে কিন্তু কেন?

আমাদের সিলেটে পাহাড় বা টিলার সংখ্যা বেশী। তাই আমি যখন সাইকেল চালিয়ে বাসায় আসি মনে হয় এত কষ্ট ! নিজের শরীরের ওজন নিজে টানতে পারি না, আর এ দিকে রিক্সাওলা বেচারা কত কিছুর ওজন টানে?
রিক্সার ওজন
ওর নিজের ওজন
১ বা ২ বা ৩ জন পেসেঞ্জারের ওজন

এখন চিন্তা করেন এত কষ্ট করার পর যদি রিক্সাওয়ালারা যদি আমার কাছে ৫-১০ টাকা বেশি চায় তাতে আমি দোষের কিছু দেখি না।
প্রতিদিন কত ফালতু কাজেই না শত শত টাকা খরচ করি।আড্ডায় বসে সিগারেট বেনসন খাওয়া, কাপের পর কাপ চা খাওয়া, মোবাইলে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলা কত কিছু??
গার্ল ফ্রেন্ডকে নিয়া শপিং করেন, রিক্সাওয়ালা সেই শপিং ব্যাগটাও পর্যন্ত বাসার ভিতর দিয়ে আসে এবং আপনি ৫ টাকা ভাড়া কম দিয়ে তার মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেন।

আর সেখানে ৫ টাকা মাত্র ৫ টাকা কি বেশী দিলে কি আপনার টাকা একদম জলায় পড়ে যায়?

আর হ্যা মাঝে মধ্যে রিক্সা ওয়ালারা আমাদের কাছে অতিরিক্ত ভাড়া চায় বা বেয়াদবি করে । হ্যা অতিরিক্ত যে ভাড়া চায় সেইটাও কিন্তু আপনার কারনে। আপনি আগেই টাকা পয়সা কম দিয়ে বিদায় করেছেন । মেজাজত তাদের খারাপ থাকবেই।

লিখেছেন আমাগুর Abdul Mouhit ভাই

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ফকিন্নির পুত কয় কোন হালা ?

কিছু কিছু বদ কিছিমের মানুষ আছে যারা বলে পাবলিক ভার্সিটিতে যারা পড়ে তারা নাকি ফকিন্নির পোলা।
আরে অবুঝ, তুই এইডা কেন বুঝস না ? এই পাবলিক ভার্সিটি থেকে বের হওয়া ছাত্রছাত্রি আর বড় বড় গুনি ব্যাক্তিদের জন্য তুই এই বাংলাদেশের মাটিতে নেংটা হইয়া বড় হইছস, যেখানে হাগা-মুতা থেকে নিয়া বাংলা কথা কইতে পর্যন্ত শিখছস্‌ স্বাধীন ভাবে।

না হইলে বদনা লইয়া হাগতে বসিতা আর পাকিস্তানের ডান্ডা যেমনে পড়ত পাছার মধ্যে তেমনে হাগা অর্ধেক রাখিয়া বদনা ফালাইয়া দৌড় দিতা।

যদি এমন মানুষের দেখা পানঃ ডাইরেক্ট বলিয়েন, আমি ফকিন্নি এবং আই এম প্রাউড টু বি এ ফকিন্নি
  feeling ভেরি এংরি.

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

সাগরের শেষ কি নদীতে ?

সাগর এখন বাসের জানালা দিয়ে সবুজ বাংলাদেশ দেখছে। কড়া রোদের কারনে বাসে বসে রঙ্গিন বাংলাদেশ দেখার সৌভাগ্য হয়েছে তার।
সে তার মামার বাসায় বেড়াতে যাচ্ছে। এইচ.এস.সি পরিক্ষা শেষ করেই গাট্টগুচ্ছু নিয়ে বেশ কয়েকদিনের জন্য মামার বাসায় রওয়ানা দিয়েছে।

মামা রহমান সাহেব ঐখানকার খুব নামিদামি ব্যাক্তি। উনাদের গ্রামে গত ১২ বাছর ধরে চেয়ারমেন তিনি। খুবই ভাল মানুষ হয়তো, সে কারনেই মানুষ চেয়ারমেন পদে তাকে এখনো ধরে রেখেছে। এই গ্রামের জন্য গ্রামের মানূষের জন্য তিনি অনেক করেছেন এই জীবদ্দশায়। উনার এক ছেলে এক মেয়েঃ সুমন আর মিতা ।

সুমনের কারনেই সাগরের মামা'র বাসায় আসা। সুমন আর সাগর নিতান্তই ভাল বন্ধু। সুমন খুবই ধূর্ত টাইপের ছেলে এবং বেশ আদর্শবান। পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ আদায় করে এবং গ্রামের মানুষের সাথে তার খুব খাতির। তার ধূর্তামি, আদর্শ এবং তার বাবার নামের কারনেই তাকে গ্রামের মানুষ বেশ পছন্দ করে। রহমান সাহেব আশা রাখেন, যে উনার পর উনার ছেলে এই গ্রামের মানুষের পাশে সবসময় থাকবে।

রহমান সাহেবের মেয় মিতা জাহানারা খাতুন গার্লস কলেজে পড়ছে। সামনের বছর এইচ.এস.সি দিবে। রহমান সাহেব এই মেয়েটাকে খুবই স্নেহ করেন। স্নেহ করেন বিধায় মেয়েটার গায়ে কোখনো হাত তুলেননি । অবশ্য হাত তুলে শাষন করার প্রোয়জনও হয় নি।

মিতার চেহারার সাথে মিতার মায়ের চেহারার এক চমৎকার মিল আছে।
মিতার চেহারার দিকে তাকালেই রহমান সাহেবের মায়া হয়, মিতার মায়ের কথা মনে পড়ে যায়। মিতার বয়স যখন ১ তখন মিতার মা ইন্তেকাল করেন।

মিতা হচ্ছে রহমান সাহেবের এক আদর্শ মেয়। রহমান সাহেবের খাওয়াদাওয়া, ঔষধ সময় মত খাওয়া,সময় মত ঘুমানো সবকিছুর খেয়াল রাখতে হয় মিতাকেই। প্রত্যেকদিন ঘরে কি রান্না হবে তা মিতাকেই ঠিক করতে হয়। ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা বা ধরে রাখার দায়িত্ব মিতার। খাবার শেষে রহমান সাহেবকে ঔষধ দিতে হয় মিতাকেই, না হলে রহমান সাহেব ভুলে যান। বিকেলে রহমান সাহেবকে ঘুম থেকে তোলার দায়িত্ব মিতার। কিন্তু সকালবেলা মিতাকে ডেকে দিতে হয় রহমান সাহেবকে। ফজরের আজানের সাথে সাথে মিতার রুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে
“মা মিতা, ও, মা মিতা”
“মা মিতা, ও, মা মিতা”
বলতে থাকেন যতক্ষন না মিতা উঠে এসে দরজা খুলে।

মিতা সাগরকে ভালবাসে। যদিও সাগর সেইটা জানে না।
ছোট বেলা সাগরের সাথে মিতা খেলতে পছন্দ করত। মিতা তখন থেকেই সাগরকে ভালবাসে।
সাগর আসছে বলে মিতা আজ প্রচন্ড ধরনের খুশি।নতুন জামা ইস্ত্রি করে রেখেছে। গোসল করে মিতা এই জামা পড়বে। কপালে লাল টিপ দিবে, জামার সাথে মিলিয়ে চুড়ি পরবে,চুলে খোপা করবে।

মিতা গোসল করতে যাওয়ার আগে সুমনের ঘর পরিস্কার করছে। বিছানায় নতুন বিছানার চাদর বিছিয়ে দিচ্ছে তখন তাদের বাসার ফোন বেজে উঠল। মিতা দৌড়ে গিয়ে ধরতেই ও পাশ থেকে সুমনের কাপা কাপা কণ্ঠঃ সাগর যে বাসে আসছিল সেই বাস এক্সিডেন্ট করেছে। ব্রীজের উপর থেকে নদীতে পড়ে গেছে। সাগরের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। উদ্ধার কাজ চলছে। বাবাকে জানিয়ে দিস।

মিতার দু চোখ দিয়ে গড় গড় করে নোনা জল বের হতে লাগল। সাগরের নোনা জল নদীর মিঠা জলে অবসান হল। মিতার আর আজ সাঁজা হল না। আর কবে সে সাঁজবে সে নিজেও জানে না। চোখের কাজল ধুয়ে কালো হয়ে অশ্রু ঝড়তে লাগল গাল বেয়ে... 

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

যুদ্ধাকালিন এক কাল্পনিক কাহিনী

একি রে আজব ?
-কি হইছে ভাই ? 
ঘুম আহে না কেন ?
- আমি কেমনে কমু ভাই? আমার ঘুম আইছে, আমি ঘুমাই।
ঘুমা ঘুমা...সালা, ঘুমাইতে ঘুমাইতে একদিন এই ঘুমেই মইরা যাবি।
- নাক ডাকার গর্‌র্‌ গর্‌র্‌ শব্দ ছাড়া কিছুই পেলুম না।

এই আজবটা কেও না। যখন একা একা থাকি কাল্পনিক চরিত্রের সাথে কথা বলতে বেশ ভাল লাগে। আমি বাইরে গিয়ে চেয়ার এ বসে বসে বৃষ্টি দেখতে লাগলাম। সেহরি খেয়ে নামাজ পড়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। অথচ আমি ঘুমুতে পারছি না।

বৃষ্টির ফোটা চাচি'র ঘরের চালের উপর পড়ে যে ঝংকার সৃষ্টি হচ্ছে তার আওয়াজ আমার কানে গুলির আওয়াজের মত এসে বিধল।

যুদ্ধের সময়। জামাল সাহেব উনার দু'বাচ্চা আর স্ত্রীকে নিয়ে রাতের খাবার খেতে বসেছেন। উনার স্ত্রীর নাম কামিলা আর উনার দু জমজ ছেলে নাম সুফিয়ান আর নাহিয়ান।
বাইরে প্রচন্ড ধরনের ঝড় হচ্ছে। ঘরের দরজা জানালা সবকিছুই বন্ধ অথচ শাঁ শাঁ বাতাসের শব্দ ভিতর পর্যন্ত আসছে। ঝড়ের তেজ হাওয়া ঘরের চাল গুলো যেন এক্ষনি উড়িয়ে নিয়ে যাবে এমন ভাব।
হটাৎ দরজায় ধাক্কার আওয়াজ শুনা গেল।
জামাল সাহেব বললেনঃ কে ?
বাইরে থেকে অনেক মানুষের চিল্লাচিল্লির আওয়াজ শুনা যাচ্ছে ।

কামিলা আর দু'ছেলেকে ঘরের পিছনের দরজা দিয়ে বের করে দিয়ে ঘরের দরজা খুললেন জামাল সাহেব।
কয়েকটা পাক হানাদার আর তাদের মসজিদের মুয়াজ্জিন সত্তার হোসেন ঘরের ভেতরে ঢুকলেন।

ঘরের ভেতর অনেক খোঁজাখোঁজি করার পর পাক হানাদার বাহিনী কাওকে খুজে পেল না বিধায় মোয়াজ্জিন সাহবের উপর বজ্রকন্ঠে হুঙ্কার দিয়ে তাদের এক অফিসার বললঃ ইহা তো কয়ি নেহি হে । কাহা হে উস্কা বিবি ?

সত্তার সাহেব কাপতে কাপতে জিজ্ঞেশ করলেনঃ তুমার বৌ-বাচ্চারা কই মাস্টর সাহেব?
জামাল সাহেব ভয়ে ভয়ে উত্তর দিলেনঃ তারা তো বাড়িতে চলে গেছে।
বাড়ি কই ?
-নেত্রকোণা।
মোয়াজ্জ্বিন সাহেব পাক হানাদার বাহিনিকে বললেনঃ মাস্টর নাকি তার বিবি বাচ্চাকা ভাগান দিছে।
হানাদার খেপে গিয়ে বললঃ হামারে সাথ ঝুট ? হামারে সাথ ঝুট ?

এই বলে গলায় ধরে মোয়াজ্জ্বিনকে ঘরের উঠানে নিয়ে গিয়ে কপালে গুলি করে হত্যা করল ।

তারা তখন চলে যাবে ঠিক তখন আরো কিছু পাক হানাদার জামাল সাহেবের বৌ কামিলা আর ছোট ছেলে নাহিয়ানকে ধরে নিয়ে এল।

জামাল সাহেব দৌড়ে গিয়ে স্ত্রীকে ছাড়াবার চেষ্টা করেন কিন্তু পারলেন না। উনার স্ত্রীর সামনে উনার ছোট ছেলে আর জামাল সাহেবকে গুলি করে মারা হল।

জামাল সাহেব মাটিতে শুয়ে শুয়ে তাকিয়ে দেখছেন এক দিকে উনার ছোট ছেলে নাহিয়ানের রক্তাক্ত লাশ ওপর দিকে পাক হানাদার কুত্তারা উনার বউ কে ধরে নিয়ে যাচ্ছে।

উনি চিৎকার করিতে লাগিলেন... ইয়া আল্লাহ !!! ইয়া আল্লাহ !!! ইয়া আল্লাহ !!!
এবং অবশেষে আস্তে আস্তে অন্ধকার হইতে লাগিল...

[ হটাৎ করেই কাহিনীটা মাথায় এসে চাপলো বিধায় লেখিয়া ফেলিলাম ]

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS