মোহাম্মদ আলম ভাই এর কাহিনী ।
মোহাম্মদ আলম ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় আজকে। বন্ধুদের সাথে আড্ডা শেষে বাসায় আসার পথে যে রিক্সাতে উঠেছিলাম সেই রিক্সার চালক হচ্ছেন মোহাম্মদ আলম ।
কাহিনী শুরু:
মোহাম্মদ আলম জন্মগ্রহণ করে কক্সবাজারে । সাত বছর বয়স পর্যন্ত মা-বাবা আর চার ভাই এর সুখের পরিবার ছিল তার । ৭ বছর বয়সে মা-বাবা দুজন মারা যান। বেচে থাকার লড়াই করতে এই ছোট্ট বয়সে সমুদ্রের বুকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে করে মাছ ধরতো আলম ।
আরো কয়েক বছর পর বড় ভাই বিয়ে করলেন। বাসায় ঢুকলো এক ডাইনি। ভাইদের মধ্যে মারা-মারি লাগিয়ে দিত সবসময় । ভাই আর ভাবির বাজে ব্যাবহারের কারণে বাসা ছেড়ে চেলে এলো ফেনিতে।
ফেনিতে এক লোকের বাসায় কাজ করে থাকতও । গরু দেখা, গরুর জন্য ঘাস কাটা, উঠান ঝাড়ু দেয়া অনেক কাজ করতে হত । কাজ খুব কষ্টের ছিল বলে সেখান থেকেও চলে এলো কুমিল্লায় । পকেটে মাত্র ২০০ টাকা। সেখানে এক লোকের সাথে পরিচয় হল। লোকটা বলল তুমি আমার সাথে সায়েস্তা গঞ্জে চলো, সেখানের একটা মাজারের কাজে লাগিয়ে দিব।
লোকটা তার হাতে ২০০ টাকার একটা টিকিট দিয়ে বলল তুমি ট্রেনে উঠে বসও, আমি আসতেছি।
কিছুক্ষণ পড় ট্রেন ছেড়ে দিল কিন্তু লোকটার আর কোন খবর পেলো না আলম। তখন আলমের বয়স ছিল ১৮/১৯ ।. এই ছোট্ট বয়সে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে, কথায় যাচ্ছে, কি করছে কিছুই জানে না।
সায়েস্তা গঞ্জ পার হয়ে আলম এসে পৌঁছলও সিলেটে। সিলেট কোর্ট (আদালত) অফিসের বারান্দা এসে ঘুমিয়ে পড়ল। অজানা শহরের কিছুই সে জানে না। পকেটে মাত্র ১৫০ টাকা। কয়েকদিন এই বারান্দা কাটিয়ে দিল সে। অবশেষে একজন তাকে জিজ্ঞেস করলেন তার কথা এবং একটা বাসা এবং সাহিন হোটেলে কাজ দিলেন।
তারপর সে তার জীবনে রাস্তায় রাস্তায় চা বিক্রি করেছে, বিভিন্ন হোটেলে চাকরি করেছে, গাড়ির বয় হিসেবে কাজ করেছে... এবং অবশেষে এক মৌলভীবাজারের একটা মেয়েকে বিয়ে করেছে।
কিন্তু আলমের দুর্দিন এখনো তার পিছু ছাড়ে নাই। তার বউ এর নাকি মাথা খারাপ । তার ২০ মাসের এক ছোট্ট মেয়ে ছিল কিন্তু তার বউ তার মেয়েটাকে আছাড় দিয়ে লাথি দিতে দিতে মেরে ফেলেছে। মেয়েটা কাঁদলেও নাকি তার বউ মেয়েটাকে মারতো অবশেষে একদিন কোল থেকে ফেলে দিয়ে মেরে ফেলে।
সিলেট আসার ১২ বছর পর এখন আলম রিক্সা চালায় এবং একা একা থাকে।
[] মানুষ কত রকম কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকে আর আমরা বাপের টাকায় খাই দাই ঘুমাই, আড্ডা মারি, ফুর্তি করি প্রেম করি এবং তারপরেও বলি শান্তি নাই। এই সবকিছুর পেয়েও আমরা যদি বলি শান্তি নাই তাইলে এই লোকটা কি বলবে ?
[] So we should always thankful to God for what we are and what we have []
মোহাম্মদ আলম ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় আজকে। বন্ধুদের সাথে আড্ডা শেষে বাসায় আসার পথে যে রিক্সাতে উঠেছিলাম সেই রিক্সার চালক হচ্ছেন মোহাম্মদ আলম ।
কাহিনী শুরু:
মোহাম্মদ আলম জন্মগ্রহণ করে কক্সবাজারে । সাত বছর বয়স পর্যন্ত মা-বাবা আর চার ভাই এর সুখের পরিবার ছিল তার । ৭ বছর বয়সে মা-বাবা দুজন মারা যান। বেচে থাকার লড়াই করতে এই ছোট্ট বয়সে সমুদ্রের বুকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে করে মাছ ধরতো আলম ।
আরো কয়েক বছর পর বড় ভাই বিয়ে করলেন। বাসায় ঢুকলো এক ডাইনি। ভাইদের মধ্যে মারা-মারি লাগিয়ে দিত সবসময় । ভাই আর ভাবির বাজে ব্যাবহারের কারণে বাসা ছেড়ে চেলে এলো ফেনিতে।
ফেনিতে এক লোকের বাসায় কাজ করে থাকতও । গরু দেখা, গরুর জন্য ঘাস কাটা, উঠান ঝাড়ু দেয়া অনেক কাজ করতে হত । কাজ খুব কষ্টের ছিল বলে সেখান থেকেও চলে এলো কুমিল্লায় । পকেটে মাত্র ২০০ টাকা। সেখানে এক লোকের সাথে পরিচয় হল। লোকটা বলল তুমি আমার সাথে সায়েস্তা গঞ্জে চলো, সেখানের একটা মাজারের কাজে লাগিয়ে দিব।
লোকটা তার হাতে ২০০ টাকার একটা টিকিট দিয়ে বলল তুমি ট্রেনে উঠে বসও, আমি আসতেছি।
কিছুক্ষণ পড় ট্রেন ছেড়ে দিল কিন্তু লোকটার আর কোন খবর পেলো না আলম। তখন আলমের বয়স ছিল ১৮/১৯ ।. এই ছোট্ট বয়সে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে, কথায় যাচ্ছে, কি করছে কিছুই জানে না।
সায়েস্তা গঞ্জ পার হয়ে আলম এসে পৌঁছলও সিলেটে। সিলেট কোর্ট (আদালত) অফিসের বারান্দা এসে ঘুমিয়ে পড়ল। অজানা শহরের কিছুই সে জানে না। পকেটে মাত্র ১৫০ টাকা। কয়েকদিন এই বারান্দা কাটিয়ে দিল সে। অবশেষে একজন তাকে জিজ্ঞেস করলেন তার কথা এবং একটা বাসা এবং সাহিন হোটেলে কাজ দিলেন।
তারপর সে তার জীবনে রাস্তায় রাস্তায় চা বিক্রি করেছে, বিভিন্ন হোটেলে চাকরি করেছে, গাড়ির বয় হিসেবে কাজ করেছে... এবং অবশেষে এক মৌলভীবাজারের একটা মেয়েকে বিয়ে করেছে।
কিন্তু আলমের দুর্দিন এখনো তার পিছু ছাড়ে নাই। তার বউ এর নাকি মাথা খারাপ । তার ২০ মাসের এক ছোট্ট মেয়ে ছিল কিন্তু তার বউ তার মেয়েটাকে আছাড় দিয়ে লাথি দিতে দিতে মেরে ফেলেছে। মেয়েটা কাঁদলেও নাকি তার বউ মেয়েটাকে মারতো অবশেষে একদিন কোল থেকে ফেলে দিয়ে মেরে ফেলে।
সিলেট আসার ১২ বছর পর এখন আলম রিক্সা চালায় এবং একা একা থাকে।
[] মানুষ কত রকম কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকে আর আমরা বাপের টাকায় খাই দাই ঘুমাই, আড্ডা মারি, ফুর্তি করি প্রেম করি এবং তারপরেও বলি শান্তি নাই। এই সবকিছুর পেয়েও আমরা যদি বলি শান্তি নাই তাইলে এই লোকটা কি বলবে ?
[] So we should always thankful to God for what we are and what we have []






