RSS

#0006

মোহাম্মদ আলম ভাই এর কাহিনী ।

মোহাম্মদ আলম ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় আজকে। বন্ধুদের সাথে আড্ডা শেষে বাসায় আসার পথে যে রিক্সাতে উঠেছিলাম সেই রিক্সার চালক হচ্ছেন মোহাম্মদ আলম ।

কাহিনী শুরু:

মোহাম্মদ আলম জন্মগ্রহণ করে কক্সবাজারে । সাত বছর বয়স পর্যন্ত মা-বাবা আর চার ভাই এর সুখের পরিবার ছিল তার । ৭ বছর বয়সে মা-বাবা দুজন মারা যান। বেচে থাকার লড়াই করতে এই ছোট্ট বয়সে সমুদ্রের বুকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে করে মাছ ধরতো আলম ।

আরো কয়েক বছর পর বড় ভাই বিয়ে করলেন। বাসায় ঢুকলো এক ডাইনি। ভাইদের মধ্যে মারা-মারি লাগিয়ে দিত সবসময় । ভাই আর ভাবির বাজে ব্যাবহারের কারণে বাসা ছেড়ে চেলে এলো ফেনিতে।

ফেনিতে এক লোকের বাসায় কাজ করে থাকতও । গরু দেখা, গরুর জন্য ঘাস কাটা, উঠান ঝাড়ু দেয়া অনেক কাজ করতে হত । কাজ খুব কষ্টের ছিল বলে সেখান থেকেও চলে এলো কুমিল্লায় । পকেটে মাত্র ২০০ টাকা। সেখানে এক লোকের সাথে পরিচয় হল। লোকটা বলল তুমি আমার সাথে সায়েস্তা গঞ্জে চলো, সেখানের একটা মাজারের কাজে লাগিয়ে দিব।
লোকটা তার হাতে ২০০ টাকার একটা টিকিট দিয়ে বলল তুমি ট্রেনে উঠে বসও, আমি আসতেছি।

কিছুক্ষণ পড় ট্রেন ছেড়ে দিল কিন্তু লোকটার আর কোন খবর পেলো না আলম। তখন আলমের বয়স ছিল ১৮/১৯ ।. এই ছোট্ট বয়সে সে বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছে, কথায় যাচ্ছে, কি করছে কিছুই জানে না।

সায়েস্তা গঞ্জ পার হয়ে আলম এসে পৌঁছলও সিলেটে। সিলেট কোর্ট (আদালত) অফিসের বারান্দা এসে ঘুমিয়ে পড়ল। অজানা শহরের কিছুই সে জানে না। পকেটে মাত্র ১৫০ টাকা। কয়েকদিন এই বারান্দা কাটিয়ে দিল সে। অবশেষে একজন তাকে জিজ্ঞেস করলেন তার কথা এবং একটা বাসা এবং সাহিন হোটেলে কাজ দিলেন।

তারপর সে তার জীবনে রাস্তায় রাস্তায় চা বিক্রি করেছে, বিভিন্ন হোটেলে চাকরি করেছে, গাড়ির বয় হিসেবে কাজ করেছে... এবং অবশেষে এক মৌলভীবাজারের একটা মেয়েকে বিয়ে করেছে।

কিন্তু আলমের দুর্দিন এখনো তার পিছু ছাড়ে নাই। তার বউ এর নাকি মাথা খারাপ । তার ২০ মাসের এক ছোট্ট মেয়ে ছিল কিন্তু তার বউ তার মেয়েটাকে আছাড় দিয়ে লাথি দিতে দিতে মেরে ফেলেছে। মেয়েটা কাঁদলেও নাকি তার বউ মেয়েটাকে মারতো অবশেষে একদিন কোল থেকে ফেলে দিয়ে মেরে ফেলে।

সিলেট আসার ১২ বছর পর এখন আলম রিক্সা চালায় এবং একা একা থাকে।

[] মানুষ কত রকম কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকে আর আমরা বাপের টাকায় খাই দাই ঘুমাই, আড্ডা মারি, ফুর্তি করি প্রেম করি এবং তারপরেও বলি শান্তি নাই। এই সবকিছুর পেয়েও আমরা যদি বলি শান্তি নাই তাইলে এই লোকটা কি বলবে ?

[] So we should always thankful to God for what we are and what we have []



½ Life

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

#00004



অদ্ভুত একটা ঘটনা ঘটলো। একটু আগে আমি আর আম্মা বসে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলাম তখন একটা বিড়াল ছানা আমার চেয়ারের পাশে বসে মেআও মাআও বলে ডাকতে শুরু করল। আমি হাত দিয়ে তাড়িয়ে দেয়ার জন্য ভয় দেখাচ্ছিলাম কিন্তু বিড়াল ছানা ভয় না পেয়ে উলটা আমার চেয়ারের উপর উঠে যাইতে চাচ্ছিল। তখন মনে হল: বিড়াল ছানাটা অসহায় এবং কষ্ট ভরা দুটা টল টল চোখে আমার কাছে খানা ভিক্ষা চাচ্ছে । খেয়াল করলাম তার বুকের মধ্যে ও পায়ের মধ্যে রক্তের দাগ। বুঝতে পারলাম কেও একজন এই বিড়াল ছানাটাকে সাঙ্ঘাতিক মাইর দিছে। মাছের কাটা বিড়ালটাকে খাওয়াইতে চাইলাম কিন্তু আম্মা বললেন এখানে খাওয়াইস না।

তারপর আমি কাঁটা নিয়ে বাইরে গেলাম আর বিড়ালটাও আমার পিছু পিছু এলো। কাঁটা গুলা বিড়ালটাকে দিলাম আর সে খপখপ করে খেতে থাকলো। এবং খাওয়া দাওয়া শেষে একটা ফোটু তুললাম বিড়ালটার ।

[] কষ্ট লাগে যখন কেও নিস্পাপ পশু-পাখিদের সাথে এমন অত্যাচার করে। যদি মারতেই হয় তাইলে এক্কারে জানে মাইরালাও । এমন আধমরা করে রাখার কোন মানে হয় না। আমি ঠিক জানি না পশুপাখির অভিশাপ আল্লাহ কবুল করেন কি না। তবে এতটুকু জানি পশুপাখির প্রতি মায়া দেখানো এবং এদের প্রতি সহানুভুতি হওয়াটা আল্লাহ পছন্দ করেন। মাঝে মাঝে বিড়াল খুবই বিরক্ত করে এইটা ঠিক। তারপরেও এরা তো নিস্পাপ । এরা তো আর বুঝে না। []



½ Life

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

#00003

এতদিন একটা ছেলেরে নিয়া আমি খুব হাসাহাসি করতাম । হাসাহাসি করার কারণ হচ্ছে: আমাদের এলাকায় কমিশনার নির্বাচনের সময় আমি ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করেছিলাম । তখন একটা ছেলেকে দেখলাম যে তার জীবনের প্রথম ভোট দিতে গেছে। ভোট দেয়া শেষে চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর হটাৎ করে দৌড় দিয়ে ভেতরে ঢুকলো। সাথে সাথে গার্ড এবং আর্মি অস্ত্র তাক করে তার পিছন পিছন দৌড়ে এলো। 

ছেলেটা ভেতরে এসে বলল: আমার হাতে ভুল করে মার্কারের দাগ দেন নাই। দাগটা দিয়ে দেন । তখন তাকে খুশি করার জন্য মার্কার দিয়ে তার আঙ্গুলে বেশী করে দাগ দেয়া হল।

তারপর থেকে যখনই সে ছেলেটাকে রাস্তায় দেখতাম তখন সবাইকে আমি ছেলেটার কাহিনীটা বলতাম এবং হাসতাম ।

আজ এশা'র নামাজ পড়তে গেলাম আমাদের পাশের এলাকার মসজিদে। মসজিদে গিয়ে দেখি সেই ছেলেটা বসে আছে। পুরোনো কাহিনী মনে পড়ে গেলো । হটাৎ ছেলেটা দাঁড়িয়ে প্রথম কাতারে ইমাম হুজুরের পেছনে গিয়ে দাঁড়ালো। তার দাঁড়ানোর সাথে সাথে সবাই দাঁড়িয়ে পড়লেন । আমিও দাঁড়ালাম । তখন ছেলেটা একামাত দেয়া শুরু করলো... মাসাআল্লাহ !!!
[ ছেলেটা সেই মসজিদের মোয়াজ্জিন ]

[] বিশ্বাস করেন, সেই মুহূর্তে নিজেরে কি পরিমাণ গর্ধব মনে হচ্ছিল তা বলে বুঝাতে পারবো না। এতদিন যে ছেলেটাকে বোকা ভেবে হাসাহাসি করতাম সেই ছেলেটা যে আমার চেয়ে হাজার গুন উত্তম এবং আল্লাহ'র অতি প্রিয় এক বান্দা তা দেখে নিজেরেই বোকা মনে হল ।

যাজ্ঞে বুঝতে পারলাম: না জেনে শুনে কারও সম্বন্ধে বাজে মন্তব্য করা অথবা কাওকে নিয়ে হাসাহাসি করা শুধুই নিজেকে বোকা প্রমাণ করা আর কিছুই নয় []


½ Life

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

#00002

ভাইয়া আর আমার মারামারির ছোট্ট একখান দৃশ্যঃ

SSC পরীক্ষা শেষ হবার পর মনে মনে ঠিক করলাম সারাদিন বসে বসে গেইম খেলবো । কিন্তু কম্পিউটার হচ্ছে ভাইয়ার রুমে। আর ভাইয়া সারা দিন খালি ঘুমায় আর ঘুমায়। গেইম খেলার টেনশনে সকাল ১০ টার দিকে ঘুম ভেঙ্গে গেল। কিন্তু ভাইয়া ঠিকই নাক ডাকিয়ে ঘুমাচ্ছে।

আম্মারে গিয়ে বললামঃ
- আম্মা ভাইয়ারে ডেকে তুলে বল। দরজা খুলে দেয়ার জন্য। আমি গেইম খেলবো।
-- আমি পারবো না। তুই গিয়ে ডেকে তুল যা।
- আমি ডাকলে ভাইয়া আমারে মারবো তো ।
-- তাইলে গিয়া টিভি দেখ। যন্ত্রনা করিস না ।

আমি আস্তে আস্তে ভাইয়ার রুমে গিয়ে দরজায় টুকা দিলাম। ভিতর থেকে কোন সাড়া শব্দ না পাইয়া একটু জোরে খটখটাইলাম। ভেতর থেকে ভাইয়া বললেনঃ
- কে ?
-- ভাই আমি ।
- কি হইছে ?
-- ভাইয়া দরজাটা খুলে দাও একটু...গেইম খেলবো।
- এখন না। যা ভাগ

কিছুক্ষন পর আমি আবার টুকা দিলাম...
- কে ?
-- ভাইয়া আমি ।
- মিজু এখন কিন্তু মাইর খাবি কইলাম।

আমি ভয়ে দৌড় দিলাম। কিন্তু মনের মধ্যে শান্তি পাচ্ছিলাম না তাই একটূ পর আবার গিয়ে দড়জায় টূকা দিলাম।
- দরজা খুললে কিন্তু মাইর খাবি মিজু...

আমি ব্যাহায়ার মত আবার দরজাটাতে টুকা দিয়ে দৌড় দিয়ে পাশের রুমের জানালা দিয়ে দেখতে লাগলাম । ভাইয়া দরজা খুলে বের হয়ে এল। আমি সেখান থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বললাম
- ভাইয়া একটু গেইম খেলবো, সাউন্ড অফ করে খেলবো। কোন শব্দ করব না...
-- এক থাপ্পড় দিব বেয়াদব ছেলে।

এ কথা বলেই ভাইয়া দড়জা লাগিয়ে দিল । তবে আমিও হার মানা ছেলে নয়। আমারে গেইম খেলতে না দিলে তোমারেও শান্তিতে ঘুমাতে দিব না।

কিছুক্ষন পর আবার দরজাতে টুকা দিলাম । সাথে সাথে ভাইয়া দরজা খুললেন... আমি দিলাম দৌড় আর পিছনে পিছনে দৌড়াচ্ছেন ভাইয়া। কিন্তু বেশি দূর যেতে পারলাম না। ভাইয়া আমারে ধরে কয়েকটা কিল ঘুষি বসাই দিলেন 


½ Life 

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

#00001

একটা গল্প শুনে মাথা আউলা ঝাউলা হয়ে গেছে। নাউযুবিল্লাহ !!!

বন্ধুর ব্যান্ড দল আছে তো সে বলতেছে সে একবার এক থার্টি ফার্স্ট নাইটে গেছিলো প্রোগ্রাম করতে । প্রোগ্রামটা সেট-আপ করেছিলেন এক বিদেশী মাফিয়া তার আলিশান মহলে।

উল্লাস করার জন্য প্রোগ্রামে ভাড়া করে আনা হয়েছিল সুন্দর সুন্দর রমণী । সারা মহলে বিদেশী মদের বাহার ছিল । যখন বন্ধুরা গান গাওয়া শুরু করল তখন কেও কেও মদ্য পানে ব্যাস্ত ছিল এবং কেও কেও রমণীদের সাথে ডিং ডং করছিল... নাউযুবিল্লাহ ।

বন্ধু বুক ফুলিয়ে আমাকে বলছে:
শেষে আমরাও গান বাজনা ফালাইয়া যার যা ইচ্ছে তা করছি... এই করেছি সেই করেছি, চুম্মা দিছি... ডান্স করছি, রুমে নিয়া গেছি...

ভাবতে পারেন ?
সমাজের শিক্ষিত পুলাপাইন কোন পথে যাচ্ছে ?

[] একটা কথা বলি: নিজের পরিবারের ছোটদের প্রতি যত্ন নেন। সে কার সাথে যায় কি করে তার খেয়াল রাখেন।

ছোটরা নাদান, অবুঝ । তারা বুঝে না। কিন্তু আমাদের বুঝা উচিত এই সমাজ এখন ভয়ংকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদেরকে যদি এখন না বুঝাতে পারেন আর কখনো বুঝাতে পারবেন না []

আল্লাহ আমাদেরকে এবং আমাদের সমাজকে হেফাজতে রাখুন ... আমিন

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS