RSS

আমার গায়ের রঙ কালা

পাশের বাসার পিচ্চি মেয়েটা আমারে অপমান করছে :(
বয়স ১১ কি ১২ হবে কিন্তু কথা বলতে শুরু হইলে আল্লাহ'র বিশেষ রহমত ছাড়া পিচ্চির কথা বন্ধ হয় না।

গতকাল বিকেলে। আমি আর আম্মা বারান্দার সিঁড়িতে বসে গল্প করছিলাম। তখন দরজা খোলে বের হয়ে এলো মেয়েটা। আমাদেরকে দেখে বলে:

- মা আর পুত এখানে বসে বসে কি করেন ?

আম্মা বলল, মা পুত গল্প করি

তারপর মেয়েটা আমারে বলে কি জানেন ? মেয়েটা বলে,
- কাইলকা খালার কম্পুটারে আপনের ছবি দেখছি মামা । আপনে যে কালা ছিলেন । আপনে কি সাবন দিয়ে গোসল করইন না ? আগেও কালা ছিলেন এখনও কালা। আমি বাড়ি থাইকা আইছিলাম তখন কালা ছিলাম, এখন সাবন দিয়া ডলা দিয়া সাদা হই গেছি... দেখছইন ?

পিচ্চির কথা শুনিয়া আমার তো পুরাই মাথা নষ্ট । বলে কি এই মাইয়া ?
এ জীবনে আর কত অপমান সহ্য করুম বলেন ?
পিচ্চিরাও এই কালা রঙ নিয়া টিটকারি মারে :(

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

আমাদের চারটি সম্পদ

আজকে এক রাজার এক ইংরেজি কাহিনী পড়লাম । কাহিনীটা খুব একটা ভালো না লাগলেও কাহিনীর পরের অংশটুকু অত্যন্ত ভালো লেগেছে তাই কষ্ট করে বাংলায় অনুবাদ করে শেয়ার করতে হলঃ

একদা এক রাজা ছিলেন যিনি চারটি বিবাহ করেছিলেন।
[] চতুর্থ স্ত্রীকে তিনি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন এবং সবচেয়ে দামি এবং মূল্যবান গহনা এবং পোশাক আশাক দিয়ে সাজিয়ে রাখতেন ।
[] তৃতীয় স্ত্রীকে তিনি ভালোবাসতেন এবং বিভিন্ন রাজ্যে যাতায়াত কালে সঙ্গে নিয়ে যেতেন। কিন্তু তিনি ভয় করতেন, একদিন সে উনাকে ফেলে রেখে চলে যাবে।
[] দ্বিতীয় স্ত্রীকেও তিনি ভালবাসতেন। রাজ্যের যে কোন কাজে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরামর্শ নিতেন । দ্বিতীয় স্ত্রী রাজাকে উনার ধন-সম্পদ গুছিয়ে রাখতে সাহায্য করতেন ।
[] প্রথম স্ত্রী রাজার সেবায় সবসময় নিয়োজিত থাকত এবং অনেক ভালবাসত অথচ রাজা প্রথম স্ত্রীকে ভালবাসতেন না। প্রথম স্ত্রী রাজার অবহেলিত স্ত্রী ছিলেন ।

একদিন রাজার শরীর খারাপ হয়ে পড়ে এবং বুঝতে পারেন উনার কাছে খুব একটা সময় নেই । তিনি ভাবতে লাগলেন তিনি মারা গেলে একা হয়ে যাবেন ।

[] তাই তিনি চতুর্থ স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন:
- "আমি তোমাকে অনেক বেশি ভালবেসেছি, অনেক খেয়াল রেখেছি, অনেক সম্পদ দিয়েছি কিন্তু এখন যখন আমি মারা যাচ্ছি তুমি কি আমার সাথে যাবে ?"
-- সম্ভব না ! এই বলেই চতুর্থ স্ত্রী বের হয়ে গেল ...

[] রাজা তৃতীয় স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন:
- আমি আমার সারাটা জীবন তোমাকে ভালবেসেছি,  এখন যখন আমি মারা যাচ্ছি তুমি কি যাবে আমার সাথে ?
-- না, তুমি মারা যাচ্ছ, আমি তো মারা যাচ্ছি না, আমার জীবন এখনও বাকি আছে

[] তারপর রাজা দ্বিতীয় স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন:
- আমি তোমাকে ভালবেসেছি এবং যে কোন সাহায্যের দরকার পড়লে আমি তোমার কাছেই এসেছি এবং তুমি আমাকে কখনও ফিরিয়ে দেও নাই। এখন আমি মারা যাচ্ছি, আমি চাই তুমি আমার সাথে চল ...
-- i am sorry , আমি এইবার তোমাকে সাহায্য করতে পারবও না । যদি তুমি চাও তাহলে তোমার লাশ কবর পর্যন্ত নেয়ার ব্যবস্থা করতে পারি ।

ঠিক তখন প্রথম স্ত্রী বলে উঠলেন:
- আমি যাব তোমার সাথে, যেখানেই তুমি যাবে আমি যাব তোমার সাথে । রাজা ফিরে দেখলেন উনার প্রথম স্ত্রীকে । যাকে তিনি সবসময় শুধুই অবহেলা করেছেন,  যার কোন খেয়াল রাখেন নাই সে স্ত্রী উনার সাথে যেতে চায় ।
- রাজা বললেন: আমার ভুল হয়ে গেছে। আমাকে ক্ষমা করে দিও । তোমাকে বুঝতে অনেক দেরি হয়ে গেছে...

আমাদের প্রত্যেকের কাছেও এমন চারটা মূল্যবান এবং অতি-প্রিয় কিছু জিনিস আছে ।

[] আমাদের চতুর্থ সম্পদ হচ্ছে আমাদের শরীর । যাকে আমরা খুব বেশি ভালোবাসি । সুন্দর পোশাক পড়ে সৌন্দর্য বাড়াই, এবং অনেক টাকা খরচ করে শরীরের যত্ন নেই । কিন্তু মৃত্যুর সাথে সেই শরীর আমাদের ছেড়ে চলে যায়
[] আমাদের তৃতীয় সম্পদ হচ্ছে আমাদের অর্জিত সম্পত্তি এবং মান-সম্মান এবং অর্থ । যা মৃত্যুর সাথে সাথে আমাদেরকে ত্যাগ করে ।
[] আমাদের দ্বিতীয় সম্পদ হচ্ছে আমাদের পরিবার, আত্মিয় এবং বন্ধু-বান্ধব । মৃত্যুর পর যারা শুধুই কবর পর্যন্ত নিয়ে যাবে ।
[] এবং প্রথম সম্পদ হচ্ছে আমাদের আত্মা, আমাদের প্রাণ । অর্থ, ক্ষমতা এবং আরাম আয়েসের পেছনে ছুটতে গিয়ে যে সম্পদকে আমরা সারাজীবন ধরে অবহেলা করি, সেই সম্পদ শেষপর্যন্ত আমাদের সাথে থাকে এবং মৃত্যুর পরেও আমাদের সাথে যাবে।

#শেষ_কথাঃ নিজেকে জানুন নিজেকে চিনুন এবং নিজেকে ভালবাসুন..

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ইসলাম এবং সমাজ

শখ ছিল চাচা চৌধুরীর মত গোঁফ লম্বা করার । তাই গোঁফ লম্বা করতে শুরু করলাম। তখন সোসাইটি (society) আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল আমাকে বুঝাতে যে, গোঁফ রাখা ইসলামে নিষেধ । গোঁফে লাগা পানি পান করা হারাম । যেহেতু সোসাইটি সঠিক ছিল তাই আল্লাহ'র ভয়ে গোঁফ কেটেই ফেললাম ।

কিন্তু যখন দাড়ি রাখা শুরু করলাম তখন সোসাইটি আবার আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। আমাকে বলতে লাগলও দাড়ি কেটে ফেল, দেশের অবস্থা ভাল নয়, তোমারে জঙ্গি লাগে, এত অল্প বয়সে দাড়ি রাখলে কোন মেয়ে বিয়ে করবে না এবং বিভিন্ন হাবিজাবি কথাবার্তা ...

যেহেতু এ বেপারে সোসাইটি সঠিক নয়, তাই মানতে পারলাম না। দাড়ি শুধুই রেখেছি আল্লাহ'রে খুশি করার জন্য। দাড়ি রাখলে আমারে তেলাপোকা লাগুক অথবা গাঁগাঁ ভুতু লাগুক অথবা জঙ্গি লাগুক তাতেও যদি আল্লাহ খুশি হয় তাতেই আমার চলবে।

তাই একটা কথা মনে রাখবেন:
জীবন চলাকালে অনেক কিছুই শুনতে হবে অনেক কিছুই করতে হবে। কেও যদি ভাল কথা বলে তাহলে ঠিক আছে আর কেও যদি মন্দ কথা বলে তাহলে তার সাথে তর্ক না করে শুধু তার সেই কথাকে এড়িয়ে চলুন। দেখবেন সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে।

[] মূল কথা হচ্ছে: আগে বুঝুন ভাবুন তারপর ঠিক করেন কি করবেন। লোকজন কি বলল তা মন দিয়ে শুনুন এবং ভাবুন আপনি যা শুনেছেন তা কি ঠিক না বেঠিক ? যদি ঠিক হয় তাহলে মানুন এবং যদি ঠিক না হয় তাহলে এড়িয়ে চলুন ।

#chose_your_way_carefully

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

আমার ক্রিকেটের ইতিহাস

আমার ক্রিকেট খেলা এখন শুধুই ইতিহাস :(

একসময় ক্রিকেট খেলাটা অনেক প্রিয় কিছু ছিল। কোন যায়গায় খেলার চান্স পাইলেই হইল । খুব একটা ভাল প্লেয়ার যে ছিলাম তা না, তবে মাঝে মাঝে ভাল রান করতে পারতাম, এবং মাঝে মাঝে সুযোগ বুঝে গতিতে বল করতে গিয়ে ইচ্ছে করেই চাকিং করতাম। চাকিং বুজছেন তো ? চাকিং হচ্ছে হাত ভেঙ্গে ঢিল ছুড়ার মত অনেকটা । illegal activity :P

[] একবার এক টুর্নামেন্টে এত জোড়ে চাক বল মারছিলাম এবং বলটা ব্যাটসম্যানের এমন এক যায়গায় গিয়ে পড়ছিল যে ব্যাটসম্যানের যায় যায় অবস্থা, অনেক্ষন নাক বন্ধ করে বসে থাকতে হল তারে। পানি টানি খাওয়ার পর যখন ব্যাটিং করতে উঠল তখন ভয়ে খেলতে গিয়া আউট হয়ে গেল :v :v

[] আরেকবার এক টুর্নামেন্ট খেলতে গেছিলাম পানিউড়া নামের এক যায়গায়। সিলেট থেকে আমি আর আমার ভাই । ভাড়া করা প্লেয়ার হিসেবে গেছিলাম। সেখানে আমাদের ভাব দেখে সবাই আমাদেরকে মাথায় তুলে রাখছে। সবাই বলাবলি করছিল, সিলেট থেকে দুইটা প্লেয়ার আনছে । খুব ভাল প্লেয়ার । চার ছক্কা ছাড়া কোন কথা নাই !!!

অবশেষে যখন খেলা শুরু হল তখন আমার ভাই ওপেনার হিসেবে খেলতে উঠে প্রথম ওভারেই রান আউট হয়ে নেমে আসে ... [ বলে রাখি: আমার ভাই কিন্তু আসলেই ভাল প্লেয়ার ]

তারপর উঠলাম আমি, সবাই মনে করল, একজন রান পায় নাই তো আরেকজন রান পাবে। ভাব টাব নিয়ে বেটিং করতে গিয়ে দেখি: ও মা !!! বল গুল্লির মতন আমার ঘাড়ের উপর দিয়া যাইতাছে :O

এবং যা হওয়ার তাই হইল আর কি । শূন্য রানে আউট হয়ে আসতে হল। মান ইজ্জৎ সব গেল গাঙ্গে ভাসিয়া ... :(

যদিও বলিং এ এক উইকেট পাইছিলাম ;) আর খেলাতেও জিতছিলাম :D

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

Do Not forget to say Alhamdulillah

ভার্সিটি থেকে বাসায় আসার জন্য রিক্সা নিলাম। রিক্সার ড্রাইভার ছিল বৃদ্ধ । থুরথুরা শরীর । গরমে ঘেমে গিয়ে গেঞ্জি পুরা চুপচুপা হয়ে আছে।  মানিব্যাগ খুলে দেখি মাত্র ৪০ টাকা। ভাড়া দিতে হবে ৩০ টাকা । সমস্যা না, বাসায় গিয়ে আম্মার কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভাড়া দেয়া যাবে। রিক্সা থামিয়ে 7-up কিনলাম আর দোকান থেকে একটা প্লাস্টিকের গ্লাস নিলাম।

মার্কেটের সামনের সিঁড়িতে বসে চাচাকে ডাক দিলাম। বললাম:
- বসেন চাচা
-- চাচা আমার পাশেই বসলেন
- গ্লাস ধরেন
-- বাবা আমি খাব না, তুমি খাও
- গরম আমার বেশি লাগছে না আপনার বেশি লাগছে ? ধরেন গ্লাস ধরেন !

ঠাণ্ডা খেতে খেতে কিছুক্ষণ গল্প করলাম চাচার সাথে। জানতে পারলাম:

-  চাচার বাড়ি ময়মনসিংহ এর কোন একটা গ্রামের কথা বলেছিলেন মনে হচ্ছে না। স্ত্রী অনেক বছর আগেই মারা গেছে।  চাচার দুই ছেলে । বড় ছেলে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে মারা গেছে । ছোট ছেলে গ্রামের একটা মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গেছে। ছেলের কারণে গ্রামের মানুষ উনাকেও গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। সবকিছু হারিয়ে এই বৃদ্ধ বয়সে তিনি এখন রিক্সা চালিয়ে নিজের দিন চালাচ্ছেন। এই বৃদ্ধকালে একা একা ঘুরে ফিরছেন এক যায়গা থেকে আরেক যায়গায় ভবঘুরে হয়ে । 

[] এই বৃদ্ধ বয়সেও লোকটার কপালে শান্তি জুটলও না। 
আর আমরা নাফরমান বান্দারা, অল্পতেই হতাশ হয়ে বলে উঠি- আমার জীবনে শান্তি নাই । সবসময় শুধু আফসোস আর আফসোস । 

যেভাবেই আছুন বিশ্বাস করেন অনেক অনেক ভাল আছেন।
Do not forget to say #Alhamdulillah

[ কমেন্টে আলহামদুলিল্লাহ লিখবেন না প্লিজ ]

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ফিজিক্যালি সে বাসায় থাকে, কিন্তু মেন্টালিটি সে বাসায় নাই

বাসায় এসে ঢুকতে না ঢুকতেই আম্মা ডাক দিলেন। আমি আম্মার রুমে গেলাম। আম্মা বললেন:
- বস
-- আমি উনার পাশে বসলাম
- একটু আগে একটা টক শো দেখছিলাম। যেখানে তোদের কথা বলছিল। একদম সত্য কথা
-- আমি কিছু বুঝতে পারলাম না, জিজ্ঞেস করলাম: আমাদের কথা মানে ?
- লোকটা একটা কথা বলেছিল । যা আমি ভুলে যাব বলে লিখে রেখেছি
-- কি কথা ?
- আম্মা উঠে গিয়ে একটা কাগজের টুকরা নিয়ে এসে আমারে বললেন:

"ফিজিক্যালি সে বাসায় থাকে, কিন্তু মেন্টালিটি সে বাসায় নাই"

-- সাথে সাথে বুঝতে পারলাম আম্মা আজকে ফেইসবুকের উপর লেকচার শুনানোর মুডে আছেন । তাই আমিও তৈরি করে নিলাম নিজেকে।

[] তারপর আম্মা লেকচার দিতে শুরু করলেন আপনার এবং আমার কথা। আজকাল-কার ছেলে-মেয়েরা মা-বাবাকে সময় দেয় না । ঘরে থাকে কিন্তু সারাক্ষণ ফেইসবুকে ...

লেকচার শুনতে শুনতে যখন বিরক্ত লাগছিল তখন আম্মাকে বললাম:
- আম্মা তোমারে কেমন কেমন জানি লাগতেছে
-- মানে ?
- দাঁত খুলে রাখছ নাকি ?
-- হ্যা
- অনেকদিন পর দেখলাম তোমার দাঁত ছাড়া চেহারা, কেমন জানি মায়া মায়া লাগতেছে
-- বুড়া হয়ে গেছি তাই না ?
- তা তো হইছই, তবে তোমারে দেখতে একদম নানার মত লাগতেছে

এই কথা বলতে না বলতেই আম্মার মুখে হাসি। তারপর লেকচারের পার্ট শেষ করে এসে ফেইসবুক পার্ট শুরু করলাম।

[] কাহিনীটা যদিও কিছুটা funny কিন্তু আমাদের এই বাস্তবতা অস্বীকার করলে চলবে না যে আমরা সত্যি সত্যি পরিবারকে সময় দিতে ভুলে যাচ্ছি ।  তাই আমাদেরকে এ বেপারে সচেতন হতে হবে। মা-বাবাকে সময় দিতে হবে। হয়তো আপনার মা-বাবা আমার মায়ের মত এমন চট করে মনের কথা বলতে পারছে না, মনে কষ্ট নিয়ে বসে আছেন । তাই তাদের সাথে কথা বলুন, তাদের শরীর কেমন, জিজ্ঞেস করুন। তারপর বাকি সময় বন্ধু, আড্ডা আর ফেইসবুক তো আর আছেই...

#Remember
"Facebook is not the most important thing. Family is.”

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS