RSS

মা এর ভালবাসা অতুলনীয়

এইটা ইংরেজি একটা পোস্ট। জানি না সত্য কি মিথ্যা। কিন্তু পড়ে খুব ভালো লাগলো বলে অনুবাদ করে শেয়ার করলাম। 

এক ছেলে তার মায়ের কাছে গেল যখন তার মা রাতের খাবার তৈরী করাতে ব্যাস্ত ছিলেন। ছেলেটা মাকে একটা কাগজ দিল। তিনি হাত মুছে কাগজটা নিলেন এবং পড়তে লাগলেন। কাগজে যা লিখা ছিলঃ

ঘরের সামনের ঘাষ কাটার জন্যঃ ১০০ টাকা ।
আমার রুম পরিস্কার করার জন্যঃ ৫০ টাকা।
তোমার জন্য দোকানে যেতে হয় তার জন্যঃ ৫০ টাকা।
তুমি যখন বাইরে যাও তখন ছোট ভাইকে দেখে রাখার জন্যঃ ১০০ টাকা।
ঘরের ময়লা বাইরের ডাস্টবিনে নিয়ে যাওয়ার জন্যঃ ৫০ টাকা
ভাল রেজাল্ট এর জন্যঃ ২০০ টাকা

আমার এ সপ্তাহের মোট বিলঃ ৫৫০ টাকা।

তিনি তার কাছ থেকে কলম নিলেন এবং কাগজের উল্টো পাতায় কিছু একটা লিখতে লাগলেন। ছেলেটা তার মায়ের চোখের দিকে তাকালো। দেখলো মায়ের চোখ টলটল করছে। কিছুক্ষন পর তিনি ছেলেকে কাগজটা দিলেন। ছেলেটা পড়তে লাগল।

- নয় মাস আমি তোকে আমার পেটের ভেতর রেখেছি। তুই অনেক দুষ্টূমি করতি, আমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছিলি তারপরেও আমি নয় মাস সবকিছু সহ্য করেছি তার বিলঃ শূন্য ।
- তারপর তোর জন্মের পর সারা রাত তোর পাসে থাকতাম। তুই কাঁদতি আমি তোকে কোলে নিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতাম । তুই অসুস্থ হয়ে পড়লে সারা রাত তর সেবা-যত্ন করতাম আর তোর জন্য দো'আ করতাম সেই সবকিছুর বিলঃ শূন্য ।
- রাতে ভয় পেয়ে যখন কেঁদে উঠতি তখন তোর পাশে বসেই তোর মাথা বুলিয়ে দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতাম তার বিলঃ শূন্য ।
- তোর সকল খেলনা, কাপড়, খাবার, নিজ হাতে তোকে খাইয়ে দেয়া, তোকে গোসল করানো, তাছাড়া তোর নাকের সর্দি পর্যন্ত মুছে দেয়ার বিলঃ শূন্য।
- তোর জন্য আমার ভালবাসার বিলঃ শূন্য ।

ছেলেটা যখন এইটা পড়ল তখন তার চোখ থেকে গড়গড় করে অশ্রু ঝড়তে লাগল। সে মায়ের দিকে তাকালো আর জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললঃ আই লাভ ইউ মা। আই রিয়েলি লাভ ইউ।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

কল্পনার জগতে রেলওয়ে স্টেষনের এক রাত

সারাটা দিন অনেক চেষ্টা করেও কিছু লিখতে পারলাম না। এ এক আজব কারখানা। কিছুই লিখার খোঁজে পাইলাম না।
আমার জীবনের সকল কাহিনী কি ফুরিয়ে গেছে ?
নাকি আমি আস্তে আস্তে সবকিছু ভুলতে বসেছি ?
এই সব নিয়ে ভাবতে ভাবতে অস্থির হয়ে পড়ছি, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে আছে।

খুব ইচ্ছে করছে রেলস্টেষনে বসে বসে সিগেরেট আর চা খাই।
আর সেখানকার ব্যেস্ত মানুষজনের কোলাহল দেখি।
গরীব ভিক্ষুকদের ভিক্ষা করা দেখি।
সেখানে ঘুমিয়ে থাকা অসহায়দের ঘুম দেখি।

কিন্তু এখন যাওয়া যাবে না । কারন সভ্য সমাজ এই সব উদ্ভট কাজকর্ম খুব অসভ্য বিবেচনা করেন। সভ্য সমাজের মতে সভ্য সমাজের ছেলে পুলেরা এই ধরনের উদ্ভট কাজকর্ম করে না। কিন্তু আমার করতে ইচ্ছে হচ্ছে। তার মানে এই যে আমি অসভ্য সমাজের মানুষ ?
জানি না, এই সব অসভ্য চিন্তা ভাবনারে ... ।

তাই কিছুক্ষনের জন্য লিখালিখির জগতে স্টেষন ঘুরে আসি। স্টেষনের করিম স্টোর-দোকানে বসে চা-আর সিগেরেট খাচ্ছি। অসাধারন তৃপ্তি।

১)
এক লোক আর এক মহিলা পাশাপাশি বসে অপেক্ষা করছেন ট্রেনের। মহিলার কোলে একটা ছেলে বয়স ৬ কি ৭ ।. ঠিক বুঝতে পারছি না। ২ ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছেন কিন্তু ট্রেনের এখনো কোন নাম নিষানা নাই।
লোকটা উনার বউ রে বললেনঃ খুব জোরে ধরছে। আমি টয়লেট করে আসি ।
লোকটাকে যেতে দেখে ছেলেটা মায়ের কোল থেকে নেমে দৌড় দিয়ে বাপের পায়ে ধরে বললঃ বাবা আমি যাবো।
- কথায় যাবি ? হাগা করতে ?
না বাবা।
-আমি তো হাগা করতে যাচ্ছি।
না না না...আমি যাব আমি যাব।
লোকটার খুব জোরে ধরেছিল বলে কন্ট্রোল করতে পারলেন না। ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিলেন ছেলেটার গালে।
-ছেলেটা গালে হাত দিয়ে হেটে হেটে আস্তে করে মায়ের কোলে উঠে বসে রইল ।


২)
অন্য দিকে চারটা ছেলে আর ২ টা মেয়ে। দেখেই মনে হচ্ছে খুব হাঙ্কু পাঙ্কু ঘরের ছেলে-মেয়ে। তারা কক্সবাজার যাবে। একটা ছেলের গলায় DSLR ক্যামেরা ঝুলানো। ট্রেনের দেরি হচ্ছে বলে সকল বন্ধুরা ফোটো তুলা শুরু করে দিল।

ফোটোগ্রাফার খুব ভাব নিয়ে ছবি তুলছেন এবং বিভিন্ন ভঙ্গি শিখিয়ে দিচ্ছেন। ফোটোগ্রাফারের দেখানো পথে বাকি তিন জন বালক আর দুই বালিকা কাকের ঠ্যেং আর বকের ঠ্যাং স্টাইলে ছবি তুললেন।

সবচেয়ে আকর্ষনীয় যে স্টাইল ছিল সেইটা হল কুকুর যে ভাবে এক পা তুলে পেশাব করে সেই রকম।
কুকুরের পেশাব স্টাইল ইংরেজিতে বললে ডগ পি স্টাইলে তিন ছেলে আর দু’টি মেয়ের ছবি তুলার দৃশ্য দেখতে দেখতে একটা ছোট্ট ছেলে আমার সামনে দিয়ে দৌড় দিল।

৩)
ছেলেটার বয়স হবে ৩ কি ৪।. খুব ফর্সা ছেলে দেখেই মনে হচ্ছে এই ছেলেটা দেশের প্রডাক্ট না অবশ্যই বৈদেশী মাল। যাই হোক ছেলেটা দেখতে কিন্তু অদ্ভুত সুন্দর। একটা প্লাস্টিকের বল দিয়ে ফুটবল টাইপের কোন এক খেলা খেলছে আর এই দিক সেই দিক দৌড়া দৌড়ি করছে।

ছেলেটা লাথি দিতেই বলটা আমার পায়ের কাছে এসে পড়ল। আমি সামান্য এক্সাইটেড হয়ে গোল দিয়ার ভঙ্গিতে বলটাতে কিক করার সাথে সাথে বলটা পাশের দোকানের চুলার উপর গিয়ে পড়ল এবং সাথে সাথে ঢাস্‌ করে ফুটে গেল।

আমি সাথে সাথে মাটিতে বসে কানে ধরে ছেলেটাকে বললামঃ আই এম সরি বাবা ।
ছেলেটা অতি মায়াময় ভঙ্গিতে একটা হাসি দিয়ে বললঃ it’s ok.

ছেলেটার এই হাসি দেখেই আমি মুগ্ধ । আমার মন ভাল হয়ে গেছে।
এই মিস্টি হাসি নিয়েই এখন ঘরে ফিরার পালা।

½ Life

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

মোবাইল চুর মকছুদ

আমি সিলেট-ঢাকা হাইওয়ের কোন এক বট গাছের নিচের টং এর দোকানে চা খাচ্ছি। এই টং এই দোকান আমার বাসা থেকে অনেক দূরে সাইকেল দিয়ে আসতে ১ ঘন্টা লেগেছে।
মুগ্ধ হয়ে দেখছি চারিপাশ। দোকানের পিছন দিকে পানি আর পানি। বাতাসের স্পর্শে শরীরে হালকা আরাম অনুভব করছি। মনে হচ্ছে এখানে চাটি বিছিয়ে শুয়ে পড়ি।
আমি সিগেরেট টানছি, কারন এই পরিবেশে সিগেরেট স্থান সবার উপরে। শরীর যখন আরাম পায় তখন নিকোটিন ঢুকিয়ে তাকে বিরক্ত করতে মন আলাদা একটা শান্তি পায়।

শরীরের আরাম আর মনের শান্তি দু'টাই এত ঘন হয়ে এল যে ঘুম পেয়ে গেল। আমি দোকানের পিছনে ঘাষের উপর বটগাছটায় মাথা ঠেকে শুয়ে পড়লাম।

তখন স্বপ্ন দেখলামঃ
আমি ঠিক এখানেই মোবাইলে বাংলা গান শুনে শুনে ঘুমিয়ে পড়েছি। মোবাইলটা আমার ঠিক পেটের উপরে রাখা।
একটা কালা ছেলে মানে আমার চেয়েও কালা এমন কালা যাকে আফ্রিকার কালা ছেলেরাই তাকে কালা কালা বলে ডাকবে।
ছেলেটা আস্তে আস্তে এসে আমার মোবাইলটা চুরি করার চেষ্টা করছে। আমি কিছু করতে পারছি না কারন আমি ঘুমে ছিলাম। হটাৎ ঘুম ভেঙ্গে গেল দেখি ছেলেটা আমার মোবাইলে শুধু হাত দিয়েছে।
আমার ঘুম ভেঙ্গে যাওয়াতে ছেলেটা ভয় পেয়ে গেল।

-তোমার নাম কি কালা ?
আমি মকছুদ।
-আমি আরাম করে গান শুনে শুনে ঘুমাচ্ছি তোমার কি তা স্বহ্য হচ্ছে না ?
সরি দাদা। আমারে ক্ষমা করে দেন
-যাও ক্ষমা করলাম। তুমি মোবাইল চুরি করে কি করবে ?
গান শুনবো।
-মহৎ উদ্দেশ্য। আমার পছন্দ হয়েছে।
কালা চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
-শুনো কালা। আমি এখন ঘুমাবো। গান শুনে শুনে ঘুমাবো। যখন আমি ঘুমিয়ে যাবো তখন তুমি আমার মোবাইলটা চুরি করে নিয়ে যেও।
-কালা এখনো জগতের সকল বিস্বয় নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

আমি গান শুনে শুনে ঘুমানোর চেষ্টা করছি।
প্রায় ২০ মিনিট পর মকছুদ চুরির উদ্দেশ্যে মোবাইলে ধরল।
আমি আবার চোখ খুলে উঠে পড়লাম। মকছুদ ভয় পেয়ে গেছে। আগে চোখ বড় ছিল এখন মুখটাও হা করে আছে।

-আমি তো এখনো ঘুমাই নাই।
ঠিক আছে দাদা, আপনি ঘুমান ।
আমি আবার ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। প্রায় তিন ঘন্টা পর ঘুম ভাংলো। উঠে দেখি আমার পাশে মকছুদ ছেলেটাও ঘুমাচ্ছে।

তখন স্বপ্ন ভেঙ্গে গেল। আমি সাইকেলে করে আবার বাসায় ফিরছি...

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

স্বরাস্ট্র মন্ত্রীর সাথে হিমুর কথপোকথন

আমি বসে বসে খাবারের অপেক্ষা করছি। যে হোটেলে বসে আছি তার নামঃ “মাছে-ভাতে” রেস্টুরেন্ট। একটা বড় নোটিশ বোর্ড ঝুলানো যেখানে লিখা আছেঃ খাম্বা ধরে নাড়াচাড়া করবেন না।
নোটিশটা পড়েই মনে পরে গেল একজন বিচক্ষন মানুষের কথা।

ধরেন আমার সাথে উনার ইন্টারভিউ হচ্ছেঃ

আচ্ছা সার আপনি বলেছেন মৌলবাদীরা ধাক্কা দিয়ে রানা-প্লাজা ধসিয়ে দিয়েছে। আপনি কি তা সিরিয়াসলি বলেছিলেন ?
- না।
আমারো তাই মনে হয়। আপনি হচ্ছেন মহাপুরুষদের দলে। আপনি কোন জিনিস সিরাসলি বলবেন তা মেনে নেয়া যায় না। আর সাধারন মানুষের উচিত তা সিরিয়াসলি না নেয়া। মহাপুরুষদের কথা শুধু শুনতে হয়, মানতে হয় না।
- তুমি ক আমার সাথে ফাইজলামি করছ ?
জ্বি না সার। আমি কোন মহাপুরুষের সাথে ফাইজলামি করি না। আই এম সিরিয়াস ।
- আচ্ছা ঠিক আছে বল।
আচ্ছা সার গত তিন দিন ধরে ঢাকায় যে হাটু পানি, তার পিছনে কি কোন বিরোধি দলের হাত আছে মনে করেন ?
- কি বলতে চাও তুমি ?
আমি বলতে চাচ্ছি এমনও তো হতে পারে বিরোধীদলের কর্মিরা ইচ্ছে করে বেশী বেশী পেশাব করে পানির স্তর বাড়িয়ে ফেলছে ?
- অনেক হইছে আর সহ্য করা যায় না। গার্ড ?
এক দল গার্ড সংগে সংগে ভেতরে ঢুকল ।
- একে নিয়ে হাজতে ঢুকাও আর অসিরে বল, এর যেন ভাল করে সেবা যত্ন করে।




রাত ১ টা ৪৯ মিনিট।
অসি সাহেবের টেবিলের সামনে বসে আছি। এবং এমন ভাবে মুখ নাড়াচ্ছি যেন আমি পান চিবুচ্ছি। অসি সাহেব আমার দিকে খুব অবাক দৃষ্টিতে চাহিয়া আছেন। আমার মুখ নড়ানো দেখে খুব যে বিরক্ত হচ্ছেন তা স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছে।
- কি হয়েছে মন্ত্রীর সাথে ?
কিছু হয় নাই। উনি আমার ব্যেবহারে খুব বেশী ইম্প্রেসড। তাই এখানে পাঠিয়েছেন সেবা-যত্ন করতে ।
- ফাইজলামি করছ ?
জ্বি না। খালি খালি ফাইজলামি করতে যাব কেন ?
- তুই নাকি মন্ত্রী সাহেবরে মহাপুরুষ কইছস ?
উনি তো মহাপুরুষই। মহাপুরুষরা সহজ ভাষায় কিছু বলে না, উনাদের কথায় দার্ষনিক টাইপ ছাপ থাকে। যা সাধারন মানুষ বুঝতে পারে না বিধায় হাসাহাসি করে।
- তুই কেমনে বুঝলি ?
আমিও মহাপুরুষ হবার চেষ্টায় আছি।
- তুই মহাপুরুষ ? তাইলে একটা মহাপুরুষের বানী শুনা ।
পুলিশ রে নিয়া একটা বানী বলি ?
- বল।
যে পুলিশ জাতি ঘুষ খাইয়া পেট করতে পারলো না বড় সেই পুলিশ জাতি ব্যের্থ।
- তোর কি মনে হয় ? আমি ঘুষ খাই ?
জ্বি খান। এবং আজকেও ১০ হাজার টাকা খেয়েছেন। তবে সেইটা ঘুষ না। আমার সেবা যত্নের খরচ।
- ওসি সাহেবের মুখের হাব ভাব চেঞ্জ হয়ে গেল। তিনি বুঝতে পারছেন না কি বলবেন। তিনি মেলাতে পারছেন না, আমি তা কেমনে জানলাম ?

তিনি গার্ডকে ডেকে আমাকে ভেতরে নিয়ে যেতে বললেন। ১০ হাজার টাকার সেবাযত্ন খানিকটা দীর্ঘক্ষন চলল।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

আমার গায়ের রঙ কালা

সবাই বলে আমার গায়ের রঙ নাকি কালা। আমি নিজেও মনে করি আমি কালা মানুষ। মাঝে মাঝে ছোট্ট ছেলে-মেয়েরা আমাকে দেখে ভয় পেয়ে যায়। কয়েকদিন আগে আমি বাসায় আসছিলাম একটা ছোট্ট ছেলে হাটিহাটি পা পা করে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমাকে আসতে দেখেই থমকে দাঁড়িয়ে থাকল। আমি যতই কাছে যাচ্ছি ততই তার মুখ ভোতা হতে থাকল। আমি যখন কাছে গিয়ে তার সামনে দাড়ালাম তখন প্রচন্ড ভয় তার চোখে দেখতে পেলাম।
আমি তার সামনে গিয়ে উপুড় হয়ে তার চোখের দিকে তাকাতে লাগলাম। আমি ভুত কখনো দেখিনি, তবে মানুষ ভুত দেখে যেমন ভয় পাওয়ার কথা হয়ত ঠিক তেমন ভয় পাচ্ছে পিচ্চিটা। ছেলেটা হয়ত বেশী ভয় পেয়ে গেছে তাই কাঁদতেও পারছে না। আমি তার গালে একটা চুমু দিলাম। এবং চলে এলাম।

তো যা বলছিলাম,
আজ হটাৎ করে মিফ্‌তাহ ভাই কইলেন আমি নাকি কিছুটা ফর্সা হয়ে গেছি।
কিন্তু একটা সমস্যা হয়ে গেছে। আমি একটু পর পর আয়নার সামনে যাচ্ছি আর নিজের চেহারা দেখছি, আদৌকি আমি কিছুটা ফর্সা হইছি ?

ভাই এই যন্ত্রনা থাইক্কা আমারে বাঁচা,
আমি কালা আর এইটাই আমার জন্য ভালা।
ছোট বেলা থেকেই বিশ্বাস করে আসছি,
কালা জগতের ভালা,
যদিও জগতের সব ময়লাও কালা হয় এক মাত্র মানুষের "..." ছাড়া। ওইটা হয় হলুদ ... 

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

মহান বীর রাজা আলেকজান্ডারের একটা কাহিনী

মহান বীর রাজা আলেকজান্ডারের একটা কাহিনী বলিঃ 
অনেক আগে এইটা লিখেছিলাম এবং পোস্ট দিয়েছিলাম। আশা করছি যারা এই বিক্ষাত রাজার এই কাহিনী এখনো পড়েননাই অথবা জানেন না তারা পড়বেন এবং কিছু শিখতে ইচ্ছা হলে শিখবেন...

অনেকেরই হয়তো এই কাহিনী জানা আছে, তাই যদি এই কাহিনী জানা থাকে তাইলে সময় নষ্ট করে পড়ার দরকার নাই।

আলেকজান্ডারের নাম তো শুনেছেন নিশ্চই, তারপরেও বলি, তিনি ছিলেন প্রাচীন গ্রীসের মেসিডনের রাজা এবং মহান এক যোদ্ধা।
তিনি পরিচিত পৃথিবীর (টলেমির মানচিত্র অনুযায়ী) বেশির ভাগ জয় করেছিলেন।

তার শেষ দু'টি কথা ছিলঃ
"Ice melts when heated"
"Eyes melt when hated"

এইবার কাহিনীটা বলিঃ

যখন রাজা অনেক রাজ্য জয়ের পর ঘরে ফিরছিলেন তখন পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এবং বোঝতে পারেন উনার মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে। এখনো অনেক দুরের পথ অতিক্রম করতে হবে মা'কে শেষ বারের মত দেখার জন্য। কিন্তু তার ডুবন্ত জীবন তা হতে দিবে না।

তাই তিনি তার বিস্বস্ত প্রধান সেনাপতিকে ডেকে বললেন আমি খুব শিঘ্রই বিদায় নিতে যাচ্ছি, কথা দাও তুমি আমার শেষ তিনটে ইচ্ছে পুরন করবে সবার সামনে।

সেনাপতি অশ্রুভর্তি চোখে কথা দিলেন।

রাজা বললেনঃ
প্রথম ইচ্ছেঃ আমার ডাক্তার যেন আমার মৃত শরীরকে কবর পর্যন্ত নিয়ে যায়।

দ্বিতীয় ইচ্ছেঃ আমাকে যখন কবর পর্যন্ত নেয়া হবে তখন কবর পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তায় সোনা,রুপা আর দামি দামি পাথর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখবে।

তৃতীয় ইচ্ছেঃ যখন আমার লাশ কফিনের মধ্য করে নেয়া হবে তখন আমার হাত দু'টা যেন কফিনের বাইরে থাকে ...

সেনাপতি রাজাকে বিশ্বাস দিলেন উনার এই তিনটে ইচ্ছে পালন করা হবে, তারপর জানতে চাইলেন এর কারনঃ

রাজা বললেনঃ আমি মানুষকে জানাতে চাই যা আমি এই শেষ মুহুর্তে এসে শিখতে পেরেছি।

>আমার ডাক্তাররা যখন আমার লাশ নিয়ে যাবে তখন মানুষ জানবে ডাক্তাররা কাওকে মৃত্যুর থাবা থেকে রক্ষা করতে পারে না। যখন কোন মানুষ জান রক্ষা করতে পারে না,তখন কারো কোন মানুষের জান নেওয়ার অধিকার নাই।

> যখন আমার সারা জীবনের অর্জিত সোনা,রুপা আর দামি দামি পাথরের উপর দিয়ে হেটে আমার লাশকে নিয়ে যাওয়া হবে তখন মানুষ বোঝবে ধন-সম্পদের পেছনে ছোটা-ছোটি করা শুধুমাত্রই সময়ের অপব্যেয় ।

>আর যখন আমার কফিনের ভেতর থেকে আমার দু খালি হাত ঝুলে থাকতে দেখবে তখন মানুষ বোঝবে, আমি এসেছিলাম খালি হাতে এবং যাচ্ছিও খালি হাতে।

এই কথা গুলো বলে রাজা চোখ বন্ধ করেন এবং ধিরে ধিরে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেন।

একটা শেষ কথা বলিঃ

"যখন আমরা কিছু নিজের জন্য করি তার মৃত্যু হয় আমাদের মৃত্যুর সাথে সাথেই, কিন্তু অন্যের জন্য যখন কিছু করি তখন তা চিরকাল জীবত থাকে..."

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

এক প্রফেসরের জীবন সম্পর্কিত কথা

একদিন এক প্রফেসর উনার ক্লাশ শুরু করলেন পানি ভর্তি একটা গ্লাস হাতে নিয়ে হাত উচু করে গ্লাসটা ধরলেন যাতে সকল ছাত্র-ছাত্রী তা দেখতে পায় এবং জিজ্ঞেশ করলেন, কি মনে হয় তোমাদের , এই গ্লাসটার ওজন কত ?

কেউ কেউ বলল ৫০ গ্রাম, কেউ আবার বললঃ ১০০ গ্রাম, কেউ আবার ১২৫ গ্রাম ।

প্রফেসর বললেন আমি ঠিক জানি না এর ওজন কত যতক্ষন না আমি এর ওজন এর মাপ নিচ্ছি না । যাই হোক আমার প্রশ্ন হলঃ কি হবে যদি আমি এই গ্লাস কয়েক মিনিটের জন্য এই ভাবে ধরে রাখি ?

ছাত্র-ছাত্রী বললঃ কিছুই হবে না ।

ওকে,ভাল কথা ! কি হবে যদি আমি এই গ্লাসটা এই ভাবে এক ঘন্টা ধরে রাখি ?

ছাত্র-ছাত্রী বললঃ আপনার হাত ব্যেথা করবে ।

প্রফেসর বললেনঃ ঠিক ! এখন বল "কি হবে যদি আমি সারা দিন এই ভাবে গ্লাসটা ধরে রাখি" ?

ছাত্র-ছাত্রী বললঃ আপনার হাত থেকে সারা শরিরে ব্যেথা ছড়িয়ে পড়বে এবং আপনার সারা শরির আস্তে আস্তে নিস্তেজ হয়ে পড়বে । এবং আপনাকে নিয়ে আমাদের হাসপাতালে যেতে হবে । সবাই হাসা-হাসি করল ।

প্রফেসর বললেনঃ খুব ভাল ! কিন্তু এইবার বল "এই সবকিছুর পরেও কি এই গ্লাসের ওজন পরিবর্তন হবে ?

ছাত্র-ছাত্রী বললঃ ‘না, অবশ্যই না’

প্রফেসর বললেনঃ তাইলে কেন আমার হাত অবশ হয়ে পড়বে ? কেন আমার সারা শরির নিস্তেজ হয়ে যাবে ?

ছাত্র-ছাত্রীরা চিন্তার মধ্যে পড়ে গেল ?

এর মধ্যে একটা ছাত্র বললঃ এখন গ্লাসটা রেখে দেন সার !

প্রফেসর বললেনঃ সেটাই ! জীবনের সমস্যা গুলো হচ্ছে এই গ্লাসের মতই । কিছু সময়ের জন্য চিন্তা করবা কিছু হবে না, দীর্ঘ্য সময়ের জন্য চিন্তা করবা তাইলে তোমার মাথা ব্যেথা শুরু হবে । আরো বেশীক্ষন চিন্তা করবা, এটা তোমাকে নিস্তেজ [প্যেরালাইজ/paralyze] করতে পারে। কিন্তু তুমি কিছুই করতে পারবা না ।

আমরা আমাদের সমস্যা গুলানিয়ে চিন্তা করব এটাই স্বাভাবিক কিন্তু তারচেয়েও বেশী দরকার হচ্ছে আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখা এবং দুশ্চিন্তা গুলো এই গ্লাসের মতই নামিয়ে রাখা ।
যা হবার হয়ে গেছে, এখন ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন এবং নতুন চেলেঞ্জ এর মুকাবিলা করুন ।
------------½ Life------------

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

আল্লাহ'র প্রিয় বান্দা

আল্লাহর কালাম মুখস্থ করতে ব্যস্ত এই শিশু গুলোর সওয়াবের পরিমাণ কি অনুমান করা সম্ভব? একটি আয়াত মুখস্থ করতে আয়াতটিকে সর্বনিম্ন কতবার পড়তে হয়? ৬৬৬৬ আয়াত মুখস্থ করতে গিয়ে পুরো কোরআন তাহলে কতবার পড়তে হবে ? একেকটি আয়াতে কত গুলো অক্ষর থাকে? কোরআন ও নির্ভরযোগ্য হাদিস অনুসারে, প্রতিটি অক্ষরে যদি কমপক্ষে ১০ টি করেও সওয়াব দেয়া হয়, প্রতিদিন তারা কি পরিমাণ সওয়াব কামাই করছেন, যান্ত্রিক ক্যালকুলেটরে কি তা হিসেব করা সম্ভব ???

এতদসত্ত্বেও, কোরআন হিফয ও পরবর্তী মাদ্রাসা শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট এই শ্রেণিটি আমাদের দৃষ্টিতে অযোগ্য ও নিরর্থক পরিশ্রমে লিপ্ত। কেননা, সমাজে আর ১০জন মানুষের মত স্বাভাবিক ভাবে বেচে থাকার জন্য কোরআনের সাথে এই সংশ্লিষ্টতা কোন কাজে আসে না। এই পরিশ্রমের কোন OUTPUT নেই। কোন FUTURE নেই।

---------------------------------------

যুক্তির আলোকে বিচার করলে হয়তো আমাদের এই চিন্তাধারাটি সঠিক। আসলেই আমাদের তথাকথিত এই সমাজ ব্যবস্থাতে কেবল কোরআন ও হাদিসের সাথে সংশ্লিষ্টতা একটি ছেলেকে স্বাচ্ছন্দ্য পূর্ণ জীবন দান করতে পারে না। কিন্তু যাদেরকে নিয়ে আমি আপনি এত ভাবছি, তারা নিজেদেরকে নিয়ে কিন্তু কখনই এভাবে ভাবে না।

তাদের কাছে জীবন একটাই। সেটা আখেরাতের জীবন। জীবনের লক্ষ্যও একটাই। সেটা রসুলের মত জীবন গড়ন। কোরআন হাদিস নিয়ে পড়ে থাকার কারণে যখন রাসুলের মত একবেলা খেয়ে না খেয়ে কাটানো জীবন তাদের ভাগ্যে জোটে, আমাদের দৃষ্টিতে তাদেরকে অভাগা মনে হলেও তাদের নিজেদের কাছে নিজেদেরকে পৃথিবীর সবচেয়ে সৌভাগ্যবান বলেই মনে হয়।

---------------------

তোমরা তো কেবল দুনিয়ার জীবনকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছ। অথচ আখেরাতের জীবন অনেক উত্তম ও চিরস্থায়ী । ( ১৬,১৭ সুরাহ আ'লা)

:::রিজওয়ানুল কবির সানিন:::

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

মসজিদের কিছু লক্ষনিয় বাজে দিক

BY: Abdul Mouhit

মুমিন মুসলমান ভাইদের প্রতি আমার কিছু কথা। কথাগুলো কোন জ্ঞানের কথা নয়, অবশ্য পালনীয় কথা বার্তা নয়। নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করলেই উত্তর পেয়ে যাবেন।

আমরা সবাই যে কাজটা করি শুক্রবারে জুম্মার নামাযে যাওয়ার পরে জুতা যেন চুরি না হয় সে জন্য জুতাটা হাতে করে মসজিদের ভিতরে নিয়ে যাই। খুব ভাল কথা। কিন্তু একবারও কি কেউ এ কথা চিন্তা করে দেখেছি যে জুতা ভিতরে নিয়ে যাওয়াটা ভাল কাজ? দেখুন আপনি নিশ্চয় ওযু করার সময় পা ধোয়ার সাথে সাথে জুতাটাও ধুয়েছেন কিংবা পা ধোয়ার সময় আপনার জুতা ভিজেছে। এবং ওযু সেরেই মসজিদের ভিতর প্রবেশ করছেন? তাহলে আপনি যখন জুতা হাতে করে ভিতরে ঢুকতেছেন আপনার হাতের জুতা থেকে কি পানি টপ টপ করে পড়ছে না? এবং এই জুতার পানি যে মসজিদের ভিতরে পড়ছে সে দিকে কি আপনার খেয়াল আছে? আপনার জু্তার পানি যেখানে পড়ছে সেই জায়গাতেই একটু পরে অন্য একজন মুসল্লি ভাই এসে নামায পড়বেন। আপনি কি সিওর হয়ে বলতে পারবেন আপনার জুতা থেকে যে পানি পড়ছে তা পাক? বাসা থেকে আসার সময় রাস্তায় আপনি কত কিছুর উপর দিয়ে হেটে এসেছেন সে দিকে কি খেয়াল আছে?
এছাড়াও অনেকেই নামাযের শেষের দিকে এসে সামনের কাতারে বসার চেষ্টা করেন। উনারাত আরো মারাত্মক। উনাদের জুতার পানি শুধু মসজিদের ভিতরে নয় সকল মুসল্লি ভাইদের গায়ের উপরে গিয়ে পড়ে। এছাড়াও উনারা সবার শরীরের উপর পাড়া দিতে দিতে সামনে গিয়ে বসেন।

আরে ভাই আপনার জুতার মূল্য কি এতই বেশি যে আপনার কারণে একটা পরিষ্কার জায়গাকে আপনি ময়লা করবেন? অন্যের শরীরে আপনার জুতার ময়লা পানি ফেলাবেন? মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট করবেন। কত শত শত টাকা আমরা ফালতু কাজে নষ্ট করি আর এখানে সামন্য কয়েকটা টাকার জন্য ......আমি লক্ষ করেছি এমনকি অনেকে আছে যে তাদের জুতার বয়স কম হলেও ৪-৫ বছর হয়ে গিয়েছে, জুতায় ৭-৮ টা সেলাই লাগানো, অথচ সেই জুতাটাও বগলে করে মসজিদের ভিতর নিয়ে ঢুকতে হয়।
এখন অবস্থা এমন দাড়িয়েছে যে মসজিদের ভিতর ঢুকলে মনে হয় আমি বাটার শো রুমে এসেছি। যেখানে বসবেন সেখানেই জুতা। পেছনেও জুতা সামননেও জুতা। সেজদা করতে যাচ্ছেন আপনার কপালের সামনে জুতা। সেজদার সময় আপনার মাথা গিয়ে লাগবে জুতার সাথে। কি এসব? একটু পরে দেখবেন আপনি যে জায়গায় বসে আছেন সে জায়টা জুতার পানিতে ঢুবে গেছে।

এখন ই যদি এমন অবস্থা হয় তাহলে বর্ষা কালের কথা একটু চিন্তা করে দেখুন। !! তখন রীতিমত মসজিদের ভিতর জুতার পানির বন্যা বয়ে যায়। যারা এমন কাজ করে তাদের বিবেক বোধ দেখে আমার বুমি আসে। কি পরিমাণ খেচ্ছর না হতে পারে মানুষ।

শুধু এখানেই শেষ নয়। নামায শেষ হল। এবার হল বম ফোটানোর পালা। মসজিদের ভেতরেত বগলের নিচে করে জুতা নিয়ে ঢুকলাম, আবার বগলে করে জুতা নিয়ে মসজিদ থেকে বের হয়ে চটাশ চটাশ করে জুতা আছাড় দিয়ে ফেলতে হবে না? সবাইকে জানাতে হবে না যে আমার নামা্য শেষ।
কি পরিমান বিশ্রী এই কাজ? আরে ভাই আপনিত সুন্নত না পড়েই দৌড়াচ্ছেন, কিন্তু এখানে যে আরো অনেকেই পুরা নামায শেষ করে বের হতে চায়। তাদেরকে শান্তিতে নামায পড়তে দেন। আপনাদের সবার জুতার শব্দে যদি ঐ মুসল্লি ভাইয়ের নামায নষ্ট হয় তবে ঐ গুনাহটুকু যে আপনার ঘাড়ে এসে পড়বে তাকি আপনি জানেন??
এছাড়াও এভাবে জুতা ঢিল দেয়া ফেলা কিন্তু মসজিদের অবমাননা হয়। এটা ঢং তামাশার জায়গা নয়।

আরো একটা জিনিস দেখলাম আমাদের ইয়াং পুলাপানেরা এই কাজটা বেশী করে। হুযুর খুতবা পরছেন। আন্য দিকে উনারা বন্ধুরা বসে বাসার যা মজার মজার গল্প আছে তা বলা এখানে এনে বুমি করে বের করতেছেন। আরে মিয়ারা খুতবার সময় হাতের নোখ খোনটানো পর্যন্ত নিষেধ। খুতবা শুনতে হবে।

এখন আমার আর কিছু বলার নাই। বাকিটুকু আপনার বিবেকের উপরে ছেড়ে দিলাম। এবং আমি এটাও জানি যারা এই লেখাটা পড়বেন তারাই এই কাজ গুলা আরো বেশী করে করবেন।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

রিকশাওয়ালার ভাড়া

তিতা পোস্ট । অনেকে হয়ত পড়ে বিরক্ত বোধ করতে পারেন। তাই প্রথমেই বলে নিচ্ছি এই পোস্ট পড়ে কেউ কোন রস পাবেন না। সাবধান ।

ভার্সিটিতে যাব। আমি আর আমার এক বন্ধু রিক্সার জন্য দাড়িয়ে আছি। অনেকক্ষন থেকে দাড়িয়ে আছি। কোন রিক্সা পাচ্ছি না। শেষ পর্যন্ত একটা পেলাম।

ড্রাইভার যাবা?
যামু কই যাইবেন?
মেডিকেল।
এ কথা বলার পরেই আমি আর আমার বন্ধু রিক্সায় উঠে পড়লাম। ড্রাইভার তখন সাথে সাথে জিজ্ঞেস করল, 
ভাই ভাড়া কত দিবেন?
ভাড়া যত তত পাবেন।
না ভাই তারপরেও বলুন ।
আমি বললাম আপনার কত লাগবে ?
ভাই ২৫ টাকা দিয়েন ।
আচ্ছা ঠিক আছে দেব।

রিক্সায় উঠার পর ড্রাইভার বলতে লাগল,
“ভাইজানেরা এখন এমন দিনকাল পড়ছে কেউ সঠিক ভাড়া দিতে চায় না।“
আরো অনেক কথা । আমি ঐ দিকে যাচ্ছি না।

যাই হোক আমারা আমাদের জায়গাতে এসে পৌঁছালাম। রিক্সা থেকে নেমে ২৫ টাকার জায়গায় ৩০ টাকা দিলাম। লোকটা কোন কথা না বলে আমার দিকে তাকিয়ে একটা সালাম দিয়ে বলল “ ভাই আপনাকে সালাম দিলাম”

আমার হা করে দাড়িয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না।

এখন প্রশ্ন হল মাত্র ৫ টাকা বেশী দেওয়ার কারনে সে কেন আমাকে সালাম দিবে???

বাসার খরচ পাতি না করলেও কম বেশি সবাই বাজারের কি অবস্থা জানি। পূর্বে যে চাল কিনতে লাগত ২০ টাকা এখন সেই চাল পার কেজি ৬০ টাকা । যেখানে ডালের কেজি ৫০ছিল টাকা সেখানে ১২০ টাকা।
২ বছর পূর্বে জিন্দাবাজার থেকে মেডিকেল যাওয়ার জন্য রিক্সাওয়ালাকে দিতাম ২০ টাকা এখনও দেই ২০ টাকা । এটা কোন কথা হল? আমরা সাধারনত যা করি ৫ টাকা ১০ টাকার জন্য রিক্সাওয়ালাদের সাথে ঝগড়া করি। ঠাস করে চড় মারি। ২০ টাকার জায়গায় রিক্সা ওয়ালারা ২৫ টাকা চাইলেই মেজাজ চড়ে যায়। আরে বাবা ৫ টাকা বেশি দিলে কি হয়? এরাত আর তোমাকে ঠকিয়ে টাকা নিচ্ছে না। নিজের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কষ্ট করে নিচ্ছে। তুমি এদের দিবা নাত কাকে দিবা?

আমাদের সকলের এই অভ্যাসটা হল রিক্সাওয়ালাকে কিভাবে টাকা কম দেয়া যায়। বলতে লজ্জা লাগলেও আমার নিজের বন্ধুদের মধ্যেও এই অভ্যাস দেখেছি। যে বন্ধু রিক্সাওলাকে ২০ টাকার জায়গায় ২৫ টাকা দিতে কার্পণ্য করে সেই বন্ধু আবার আমাকে চাইনিজে গিয়ে হাজার দুই খরচ করতে দ্বিধা বোধ করে না । আমার মনে প্রশ্ন জাগে কিন্তু কেন?

আমাদের সিলেটে পাহাড় বা টিলার সংখ্যা বেশী। তাই আমি যখন সাইকেল চালিয়ে বাসায় আসি মনে হয় এত কষ্ট ! নিজের শরীরের ওজন নিজে টানতে পারি না, আর এ দিকে রিক্সাওলা বেচারা কত কিছুর ওজন টানে?
রিক্সার ওজন
ওর নিজের ওজন
১ বা ২ বা ৩ জন পেসেঞ্জারের ওজন

এখন চিন্তা করেন এত কষ্ট করার পর যদি রিক্সাওয়ালারা যদি আমার কাছে ৫-১০ টাকা বেশি চায় তাতে আমি দোষের কিছু দেখি না।
প্রতিদিন কত ফালতু কাজেই না শত শত টাকা খরচ করি।আড্ডায় বসে সিগারেট বেনসন খাওয়া, কাপের পর কাপ চা খাওয়া, মোবাইলে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলা কত কিছু??
গার্ল ফ্রেন্ডকে নিয়া শপিং করেন, রিক্সাওয়ালা সেই শপিং ব্যাগটাও পর্যন্ত বাসার ভিতর দিয়ে আসে এবং আপনি ৫ টাকা ভাড়া কম দিয়ে তার মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেন।

আর সেখানে ৫ টাকা মাত্র ৫ টাকা কি বেশী দিলে কি আপনার টাকা একদম জলায় পড়ে যায়?

আর হ্যা মাঝে মধ্যে রিক্সা ওয়ালারা আমাদের কাছে অতিরিক্ত ভাড়া চায় বা বেয়াদবি করে । হ্যা অতিরিক্ত যে ভাড়া চায় সেইটাও কিন্তু আপনার কারনে। আপনি আগেই টাকা পয়সা কম দিয়ে বিদায় করেছেন । মেজাজত তাদের খারাপ থাকবেই।

লিখেছেন আমাগুর Abdul Mouhit ভাই

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ফকিন্নির পুত কয় কোন হালা ?

কিছু কিছু বদ কিছিমের মানুষ আছে যারা বলে পাবলিক ভার্সিটিতে যারা পড়ে তারা নাকি ফকিন্নির পোলা।
আরে অবুঝ, তুই এইডা কেন বুঝস না ? এই পাবলিক ভার্সিটি থেকে বের হওয়া ছাত্রছাত্রি আর বড় বড় গুনি ব্যাক্তিদের জন্য তুই এই বাংলাদেশের মাটিতে নেংটা হইয়া বড় হইছস, যেখানে হাগা-মুতা থেকে নিয়া বাংলা কথা কইতে পর্যন্ত শিখছস্‌ স্বাধীন ভাবে।

না হইলে বদনা লইয়া হাগতে বসিতা আর পাকিস্তানের ডান্ডা যেমনে পড়ত পাছার মধ্যে তেমনে হাগা অর্ধেক রাখিয়া বদনা ফালাইয়া দৌড় দিতা।

যদি এমন মানুষের দেখা পানঃ ডাইরেক্ট বলিয়েন, আমি ফকিন্নি এবং আই এম প্রাউড টু বি এ ফকিন্নি
  feeling ভেরি এংরি.

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

সাগরের শেষ কি নদীতে ?

সাগর এখন বাসের জানালা দিয়ে সবুজ বাংলাদেশ দেখছে। কড়া রোদের কারনে বাসে বসে রঙ্গিন বাংলাদেশ দেখার সৌভাগ্য হয়েছে তার।
সে তার মামার বাসায় বেড়াতে যাচ্ছে। এইচ.এস.সি পরিক্ষা শেষ করেই গাট্টগুচ্ছু নিয়ে বেশ কয়েকদিনের জন্য মামার বাসায় রওয়ানা দিয়েছে।

মামা রহমান সাহেব ঐখানকার খুব নামিদামি ব্যাক্তি। উনাদের গ্রামে গত ১২ বাছর ধরে চেয়ারমেন তিনি। খুবই ভাল মানুষ হয়তো, সে কারনেই মানুষ চেয়ারমেন পদে তাকে এখনো ধরে রেখেছে। এই গ্রামের জন্য গ্রামের মানূষের জন্য তিনি অনেক করেছেন এই জীবদ্দশায়। উনার এক ছেলে এক মেয়েঃ সুমন আর মিতা ।

সুমনের কারনেই সাগরের মামা'র বাসায় আসা। সুমন আর সাগর নিতান্তই ভাল বন্ধু। সুমন খুবই ধূর্ত টাইপের ছেলে এবং বেশ আদর্শবান। পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ আদায় করে এবং গ্রামের মানুষের সাথে তার খুব খাতির। তার ধূর্তামি, আদর্শ এবং তার বাবার নামের কারনেই তাকে গ্রামের মানুষ বেশ পছন্দ করে। রহমান সাহেব আশা রাখেন, যে উনার পর উনার ছেলে এই গ্রামের মানুষের পাশে সবসময় থাকবে।

রহমান সাহেবের মেয় মিতা জাহানারা খাতুন গার্লস কলেজে পড়ছে। সামনের বছর এইচ.এস.সি দিবে। রহমান সাহেব এই মেয়েটাকে খুবই স্নেহ করেন। স্নেহ করেন বিধায় মেয়েটার গায়ে কোখনো হাত তুলেননি । অবশ্য হাত তুলে শাষন করার প্রোয়জনও হয় নি।

মিতার চেহারার সাথে মিতার মায়ের চেহারার এক চমৎকার মিল আছে।
মিতার চেহারার দিকে তাকালেই রহমান সাহেবের মায়া হয়, মিতার মায়ের কথা মনে পড়ে যায়। মিতার বয়স যখন ১ তখন মিতার মা ইন্তেকাল করেন।

মিতা হচ্ছে রহমান সাহেবের এক আদর্শ মেয়। রহমান সাহেবের খাওয়াদাওয়া, ঔষধ সময় মত খাওয়া,সময় মত ঘুমানো সবকিছুর খেয়াল রাখতে হয় মিতাকেই। প্রত্যেকদিন ঘরে কি রান্না হবে তা মিতাকেই ঠিক করতে হয়। ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা বা ধরে রাখার দায়িত্ব মিতার। খাবার শেষে রহমান সাহেবকে ঔষধ দিতে হয় মিতাকেই, না হলে রহমান সাহেব ভুলে যান। বিকেলে রহমান সাহেবকে ঘুম থেকে তোলার দায়িত্ব মিতার। কিন্তু সকালবেলা মিতাকে ডেকে দিতে হয় রহমান সাহেবকে। ফজরের আজানের সাথে সাথে মিতার রুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে
“মা মিতা, ও, মা মিতা”
“মা মিতা, ও, মা মিতা”
বলতে থাকেন যতক্ষন না মিতা উঠে এসে দরজা খুলে।

মিতা সাগরকে ভালবাসে। যদিও সাগর সেইটা জানে না।
ছোট বেলা সাগরের সাথে মিতা খেলতে পছন্দ করত। মিতা তখন থেকেই সাগরকে ভালবাসে।
সাগর আসছে বলে মিতা আজ প্রচন্ড ধরনের খুশি।নতুন জামা ইস্ত্রি করে রেখেছে। গোসল করে মিতা এই জামা পড়বে। কপালে লাল টিপ দিবে, জামার সাথে মিলিয়ে চুড়ি পরবে,চুলে খোপা করবে।

মিতা গোসল করতে যাওয়ার আগে সুমনের ঘর পরিস্কার করছে। বিছানায় নতুন বিছানার চাদর বিছিয়ে দিচ্ছে তখন তাদের বাসার ফোন বেজে উঠল। মিতা দৌড়ে গিয়ে ধরতেই ও পাশ থেকে সুমনের কাপা কাপা কণ্ঠঃ সাগর যে বাসে আসছিল সেই বাস এক্সিডেন্ট করেছে। ব্রীজের উপর থেকে নদীতে পড়ে গেছে। সাগরের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। উদ্ধার কাজ চলছে। বাবাকে জানিয়ে দিস।

মিতার দু চোখ দিয়ে গড় গড় করে নোনা জল বের হতে লাগল। সাগরের নোনা জল নদীর মিঠা জলে অবসান হল। মিতার আর আজ সাঁজা হল না। আর কবে সে সাঁজবে সে নিজেও জানে না। চোখের কাজল ধুয়ে কালো হয়ে অশ্রু ঝড়তে লাগল গাল বেয়ে... 

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

যুদ্ধাকালিন এক কাল্পনিক কাহিনী

একি রে আজব ?
-কি হইছে ভাই ? 
ঘুম আহে না কেন ?
- আমি কেমনে কমু ভাই? আমার ঘুম আইছে, আমি ঘুমাই।
ঘুমা ঘুমা...সালা, ঘুমাইতে ঘুমাইতে একদিন এই ঘুমেই মইরা যাবি।
- নাক ডাকার গর্‌র্‌ গর্‌র্‌ শব্দ ছাড়া কিছুই পেলুম না।

এই আজবটা কেও না। যখন একা একা থাকি কাল্পনিক চরিত্রের সাথে কথা বলতে বেশ ভাল লাগে। আমি বাইরে গিয়ে চেয়ার এ বসে বসে বৃষ্টি দেখতে লাগলাম। সেহরি খেয়ে নামাজ পড়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। অথচ আমি ঘুমুতে পারছি না।

বৃষ্টির ফোটা চাচি'র ঘরের চালের উপর পড়ে যে ঝংকার সৃষ্টি হচ্ছে তার আওয়াজ আমার কানে গুলির আওয়াজের মত এসে বিধল।

যুদ্ধের সময়। জামাল সাহেব উনার দু'বাচ্চা আর স্ত্রীকে নিয়ে রাতের খাবার খেতে বসেছেন। উনার স্ত্রীর নাম কামিলা আর উনার দু জমজ ছেলে নাম সুফিয়ান আর নাহিয়ান।
বাইরে প্রচন্ড ধরনের ঝড় হচ্ছে। ঘরের দরজা জানালা সবকিছুই বন্ধ অথচ শাঁ শাঁ বাতাসের শব্দ ভিতর পর্যন্ত আসছে। ঝড়ের তেজ হাওয়া ঘরের চাল গুলো যেন এক্ষনি উড়িয়ে নিয়ে যাবে এমন ভাব।
হটাৎ দরজায় ধাক্কার আওয়াজ শুনা গেল।
জামাল সাহেব বললেনঃ কে ?
বাইরে থেকে অনেক মানুষের চিল্লাচিল্লির আওয়াজ শুনা যাচ্ছে ।

কামিলা আর দু'ছেলেকে ঘরের পিছনের দরজা দিয়ে বের করে দিয়ে ঘরের দরজা খুললেন জামাল সাহেব।
কয়েকটা পাক হানাদার আর তাদের মসজিদের মুয়াজ্জিন সত্তার হোসেন ঘরের ভেতরে ঢুকলেন।

ঘরের ভেতর অনেক খোঁজাখোঁজি করার পর পাক হানাদার বাহিনী কাওকে খুজে পেল না বিধায় মোয়াজ্জিন সাহবের উপর বজ্রকন্ঠে হুঙ্কার দিয়ে তাদের এক অফিসার বললঃ ইহা তো কয়ি নেহি হে । কাহা হে উস্কা বিবি ?

সত্তার সাহেব কাপতে কাপতে জিজ্ঞেশ করলেনঃ তুমার বৌ-বাচ্চারা কই মাস্টর সাহেব?
জামাল সাহেব ভয়ে ভয়ে উত্তর দিলেনঃ তারা তো বাড়িতে চলে গেছে।
বাড়ি কই ?
-নেত্রকোণা।
মোয়াজ্জ্বিন সাহেব পাক হানাদার বাহিনিকে বললেনঃ মাস্টর নাকি তার বিবি বাচ্চাকা ভাগান দিছে।
হানাদার খেপে গিয়ে বললঃ হামারে সাথ ঝুট ? হামারে সাথ ঝুট ?

এই বলে গলায় ধরে মোয়াজ্জ্বিনকে ঘরের উঠানে নিয়ে গিয়ে কপালে গুলি করে হত্যা করল ।

তারা তখন চলে যাবে ঠিক তখন আরো কিছু পাক হানাদার জামাল সাহেবের বৌ কামিলা আর ছোট ছেলে নাহিয়ানকে ধরে নিয়ে এল।

জামাল সাহেব দৌড়ে গিয়ে স্ত্রীকে ছাড়াবার চেষ্টা করেন কিন্তু পারলেন না। উনার স্ত্রীর সামনে উনার ছোট ছেলে আর জামাল সাহেবকে গুলি করে মারা হল।

জামাল সাহেব মাটিতে শুয়ে শুয়ে তাকিয়ে দেখছেন এক দিকে উনার ছোট ছেলে নাহিয়ানের রক্তাক্ত লাশ ওপর দিকে পাক হানাদার কুত্তারা উনার বউ কে ধরে নিয়ে যাচ্ছে।

উনি চিৎকার করিতে লাগিলেন... ইয়া আল্লাহ !!! ইয়া আল্লাহ !!! ইয়া আল্লাহ !!!
এবং অবশেষে আস্তে আস্তে অন্ধকার হইতে লাগিল...

[ হটাৎ করেই কাহিনীটা মাথায় এসে চাপলো বিধায় লেখিয়া ফেলিলাম ]

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

Arif R Hossain এবং হিমু

Arif R Hossain এবং হিমু 

আমার এ লেখার প্রধান কারন হচ্ছে যদি হিমু'র সাথে Arif R Hossain' ভাই এর দেখা হয় তাহলে কথপোকথন কেমন হত তা জানার বড্ড ইচ্ছা !!! 

আরিফ ভাই'র অফিসে গিয়ে উপস্থিত হলাম। অনেক্ষন ধরে অপেক্ষা করছি। হটাৎ একজন এসে আমাকে বললেন। আপনার নাম কি হিমু ?
-জ্বি
আপনাকে ভিতরে যেতে বলেছেন, বস্‌ ।
-আমি দরজয়াতে আওয়াজ দিতেই ভেতর থেকে আরিফ ভাই বললেন।
ইয়েস ।
-আমি ইংরেজিতে বললামঃ মে আই কাম ইন বস্‌ ?
ইয়েস প্লিজ ।
-আমি ভিতরে ঢুকে বললামঃ মে আই সিট্‌ ডাওন বস্‌ ?
প্লিজ প্লিজ। আর আপনি আমাকে বস্‌ বস্‌ ডাকছেন কেন বার বার ? আমাকে আরিফ বললেই চলবে।
-আমি বসতে বসতে বললামঃ ঠিক আছে মি.আরিফ।

বলেন, আপনাকে কি ভাবে সাহাজ্য করতে পারি ?
-আমি আসলে সাহাজ্য নিতে আসি নাই। দিতে এসেছি।
বুঝলাম না বেপারটা। ক্লিয়ার করুন ।
- শুনেছি আপনি ফেইসবুকে খুব সম্মানিত ব্যাক্তি। যদি কিছু মনে না করেন একটা রিকুয়েস্ট নিয়ে এসেছিলাম।

আরিফ ভাইঃ বলেন, শুনছি।

- বিক্রমপুরে এক শ্রদ্ধেও বোতল বাবা আছেন যিনি পানি ভর্তি এক হাফ্‌ লিটার পেপসির বোতলে ফু দেয়ার সাথে সাথে পানি ঘোলা হয়ে যায় এবং সেই পানি পান করলে মানুষের রোগ এক সাপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়।

[আরিফ ভাই কান পেতে মনযোগ দিয়ে শুনছেন বোতল বাবার কথা, টু ফোটা শব্দ করছেন না]

- [আমি বলতে থাকলাম] আমি নিজেও বোতল বাবার শিষ্য ছিলাম। মাঝে মাঝে বোতল বাবার শরীর খারাপ থাকলে আমি নিজে ফু দিয়ে প্রতি বোতল ১০ টাকা করে বিক্রি করতাম। আমার ফু'তে পানি ঘোলা হত না তবে অসুখ সেরে যেত বলেই আমার ধারনা। পানি ঘোলা হয় না হবার কারনে ৫ টাকা কম ছিল আমার ফু দেয়া বোতলের দাম।

আরিফ ভাই বললেনঃ এক কাজ করেন। এই বোতলটাতে একটা ফু’দেন। শরীর খারাপ হলে পান করব।

- পেপসির বোতল ছাড়া অন্য বোতলে ফু’দিলে হবে না। বোতল বাবার কড়া নিষেধ আছে।

আরিফ ভাইঃ ও আচ্ছা। এখন, আমি কি করতে পারি ?

- আপনি ফেইসবুকে প্রতিদিন ১ বার করে দু’সপ্তাহ বোতল বাবার বিজ্ঞাপন দিবেন। বোতল বাবার ম্যানেজার মতিউর রাহমান্‌ ৫০ হাজার টাকার চ্যেক পাঠিয়েছেন আপনার জন্য।

আরিফ ভাইঃ আই এম রিয়েলি সরি, আমি এ বিষয়ে কোন সাহাজ্য করতে পারব না।

- আপনার মেয়ের অসুখের জন্য কিন্তু বোতল বাবা নিজে ফু’দিয়ে এক বোতল পানি পাঠিয়েছেন। কিন্তু ১৫ টাকা দাম রাখতে বলেছেন। বোতল বাবার কথা হচ্ছে খাস দিলে কিছু ভালা করলে তাতে ফ্রী নামের নষ্টা শব্দ ঢুকানো যাবে না, তাতে ভাল জিনিসের দাম কমে যায়।

আরিফ ভাই কিছুটা ভড়কে গেলেন। নিজেকে সামলিয়ে জিজ্ঞেশ করলেনঃ আমার মেয়ে যে অসুস্থ এইটা বোতল বাবা জানলেন কেমনে ?

- সেইটা তো বোতল বাবারে জিজ্ঞেস করি নাই। জিজ্ঞেশ করলেও কোন উত্তর পেতাম না। শুধু বলতেনঃ সব কিছুই গায়েবের ইচ্ছা।

বোতল বাবা কি মুসলমান না হিন্দু না অন্য কোন কিছু ?

- জানি না। তবে আমার মনে হয়ঃ উনি সেকুলাইজম্‌ এ বিশ্বাসী। উনাকে দেখেছি শাহবাগের পুলাপাইনের কাজ কর্ম বেশ আগ্রহ নিয়েই দেখেন। একদিন দেখলাম সোফা'তে এই পা তুলে লাকি'র ভাষন শুনছেন এবং মজা পেয়ে জোরে জোরে হাসছেন...
লাকি বলছেঃ চাই চাই চাই...
বাকি সবাই বলছেঃ রাজাকারের ফাঁসি চাই।

আরিফ ভাইঃ তাই নাকি ?

- আমার ধারনা ভুলও হতে পারে। যদিও আমার ধারনা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মিলে যায়।

বাহ্‌ বেশ ভালো, তো আপনার এখন আমার সম্পর্কে কি ধরনের ধারনা হচ্ছে ?

- আমার ধারনা হচ্ছে, আপনি বোতল বাবা’র এই পানি আপনার মেয়েকে দু’ফুটা হলেও খাওয়াবেন। এবং আপনার মেয়ে দু’দিনের মাথায় একদম সুস্থ হয়ে উঠবে।

আরিফ ভাইঃ আপনি কি চা খাবেন ?
- এখন কিছু খাব না। আমি রোজা রেখেছি।

কিন্তু রোজা শুরু তো কাল থেকে। এক দিন আগে থেকেই রোজা রাখা শুরু করে দিলেন না কি ? বাহ্‌ চমৎকার।

- আসলে বেপারটা তাও না। টাকা ছিল না পকেটে তাই সারাদিন ধরে কিছু খাই নাই। ভাবছি আর সন্ধ্যার সময় ইফতার করব।
সন্ধ্যার সময় টাকা থাকবে ?
- জ্বি থাকবে।
কি ভাবে বুঝলেন ?
- কারন আপনি আমাকে ৫০ টাকা দিবেন। ১৫ টাকা বোতলের আর ৩৫ টাকা ইফতারের।
আপনার তো ধারনা প্রবল। আপনি কি মনে করেন আমি আপনাকে টাকা দিব?
- জ্বি, আপনি টাকা দিবেন।

আপনার ধারনা ভুল। আমি আপনাকে টাকা দিব না।
- আমি হাসি দিয়ে বললামঃ ঠিক আছে মি.আরিফ, আমি আসি।

আপনার চ্যাক আর বোতলটা নিয়ে যান ।
- আমাকে নিয়ে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। আপনি চাইলে কোন বিজ্ঞাপন না দিয়েও টাকা তুলতে পারেন। অথবা টাকা তুলে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন অথবা চ্যেকটা ছিড়ে দিতেও পারেন।

আমি অফিস থেকে বের হয়ে রাস্তার পাশে এসে ভাবছি কোন দিকে যাব ? ডানে না বামে ? রোদ খুব বেশি উঠেছে। এই রোদে হাটার কোন মানে হয় না। কিন্তু হাটতে হবে। পকেটে এক পয়সাও নাই টাকা বহুত দূর কি বাত্‌ হ্যে। কিছুক্ষন এখানের ছায়ার নিচে বসে ভিক্ষা করলে কেমন হয় ? বিশ টাকা রুজি হয়ে গেলে রিক্সাতে করে অর্ধেক পথ চলে যাওয়া যাবে।

আমি বসে আছি ছায়াতে। যে আশে পাশ দিয়ে যাচ্ছে তাকে বলছিঃ
"আমার আল্লাহ নবীজীর নাম
৫ টা টাকা দিয়া যান।
আমার আল্লাহ নবীজীর নাম"

ইতি মধ্যে ৫ টাকার জোগাড় হয়ে গেছে। একজন আমার ভিক্ষা করার শিল্প দেখে মুগ্ধ হয়েছেন,আমার উপর দয়া পরবশ হয়ে ৫ টাকা দিয়ে গেছেন।

কিছুক্ষন পর আরিফ ভাই অফিস থেকে বের হয়ে আমাকে দেখতে পেলেন। আমাকে জিজ্ঞেশ করলেনঃ আপনি এখানে বসে কি করছেন ?
- ভিক্ষা করছি। রোদে হাটতে ভাল লাগছে না। ২০ টাকা হয়ে গেলেই রিক্সাতে করে চলে যাব।
ভিক্ষা করার জন্য তিন লাইন ঠিক করেছিঃ

"আমার আল্লাহ নবীজীর নাম
৫ টা টাকা দিয়া যান।
আমার আল্লাহ নবীজীর নাম"

আরিফ ভাই আমাকে ১০০ টাকা দিয়ে বললেনঃ নিন রাখেন। সন্ধ্যার সময় কিছু খেয়ে নিয়েন।

আমাকে টাকা দিয়েই আরিফ ভাই গাড়িতে চড়ে বিদায় হলেন।

[ আরিফ ভাই এর এই চরিত্র সম্পুর্ণ কাল্পনিক। আর আমার বাংলা বানানে কোথাও কোন ভুল খোঁজে পেলে দয়া করে ক্ষমা করিবেন। আমি বাংলায় একদম লাড্ডূ পুড্ডূ ইস্টূডেন্ট  ]

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

২০১৩ এর রামাদানের প্রথম সেহরি

রামাদানের প্রথম রোজা'র অন্তিম ঘড়ি চলে এসেছে প্রায়। সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। অন্ধকার নেমে আসছে সর্বদিক।

একটূ পরেই খাবার টেবিলে খানার সামনে বসে অপেক্ষা করব পবিত্র আজানের। হটাৎ করে দূর থেকে ভেসে আসবে কানে আজানের পবিত্র ধ্বনি।

আমি মনে মনে দো'আ করবঃ ইয়া আল্লাহ তোমার জন্য যে সাওম পালন করেছি তুমি তাহা কবূল কর !!!
তারপর বিস্‌মিল্লাহ বলে প্রথমে খেজুর খাব । তারপর খানা ইস্টার্ট  
আহ্‌ ভাবতেই শান্তি লাগছে 

আসল কথাঃ খাওয়ার আগে দো'আ আর খেজুর দিয়ে ইফ্‌তার শুরু করা সুন্নত।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS