RSS

কল্পনার জগতে রেলওয়ে স্টেষনের এক রাত

সারাটা দিন অনেক চেষ্টা করেও কিছু লিখতে পারলাম না। এ এক আজব কারখানা। কিছুই লিখার খোঁজে পাইলাম না।
আমার জীবনের সকল কাহিনী কি ফুরিয়ে গেছে ?
নাকি আমি আস্তে আস্তে সবকিছু ভুলতে বসেছি ?
এই সব নিয়ে ভাবতে ভাবতে অস্থির হয়ে পড়ছি, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে আছে।

খুব ইচ্ছে করছে রেলস্টেষনে বসে বসে সিগেরেট আর চা খাই।
আর সেখানকার ব্যেস্ত মানুষজনের কোলাহল দেখি।
গরীব ভিক্ষুকদের ভিক্ষা করা দেখি।
সেখানে ঘুমিয়ে থাকা অসহায়দের ঘুম দেখি।

কিন্তু এখন যাওয়া যাবে না । কারন সভ্য সমাজ এই সব উদ্ভট কাজকর্ম খুব অসভ্য বিবেচনা করেন। সভ্য সমাজের মতে সভ্য সমাজের ছেলে পুলেরা এই ধরনের উদ্ভট কাজকর্ম করে না। কিন্তু আমার করতে ইচ্ছে হচ্ছে। তার মানে এই যে আমি অসভ্য সমাজের মানুষ ?
জানি না, এই সব অসভ্য চিন্তা ভাবনারে ... ।

তাই কিছুক্ষনের জন্য লিখালিখির জগতে স্টেষন ঘুরে আসি। স্টেষনের করিম স্টোর-দোকানে বসে চা-আর সিগেরেট খাচ্ছি। অসাধারন তৃপ্তি।

১)
এক লোক আর এক মহিলা পাশাপাশি বসে অপেক্ষা করছেন ট্রেনের। মহিলার কোলে একটা ছেলে বয়স ৬ কি ৭ ।. ঠিক বুঝতে পারছি না। ২ ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করছেন কিন্তু ট্রেনের এখনো কোন নাম নিষানা নাই।
লোকটা উনার বউ রে বললেনঃ খুব জোরে ধরছে। আমি টয়লেট করে আসি ।
লোকটাকে যেতে দেখে ছেলেটা মায়ের কোল থেকে নেমে দৌড় দিয়ে বাপের পায়ে ধরে বললঃ বাবা আমি যাবো।
- কথায় যাবি ? হাগা করতে ?
না বাবা।
-আমি তো হাগা করতে যাচ্ছি।
না না না...আমি যাব আমি যাব।
লোকটার খুব জোরে ধরেছিল বলে কন্ট্রোল করতে পারলেন না। ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দিলেন ছেলেটার গালে।
-ছেলেটা গালে হাত দিয়ে হেটে হেটে আস্তে করে মায়ের কোলে উঠে বসে রইল ।


২)
অন্য দিকে চারটা ছেলে আর ২ টা মেয়ে। দেখেই মনে হচ্ছে খুব হাঙ্কু পাঙ্কু ঘরের ছেলে-মেয়ে। তারা কক্সবাজার যাবে। একটা ছেলের গলায় DSLR ক্যামেরা ঝুলানো। ট্রেনের দেরি হচ্ছে বলে সকল বন্ধুরা ফোটো তুলা শুরু করে দিল।

ফোটোগ্রাফার খুব ভাব নিয়ে ছবি তুলছেন এবং বিভিন্ন ভঙ্গি শিখিয়ে দিচ্ছেন। ফোটোগ্রাফারের দেখানো পথে বাকি তিন জন বালক আর দুই বালিকা কাকের ঠ্যেং আর বকের ঠ্যাং স্টাইলে ছবি তুললেন।

সবচেয়ে আকর্ষনীয় যে স্টাইল ছিল সেইটা হল কুকুর যে ভাবে এক পা তুলে পেশাব করে সেই রকম।
কুকুরের পেশাব স্টাইল ইংরেজিতে বললে ডগ পি স্টাইলে তিন ছেলে আর দু’টি মেয়ের ছবি তুলার দৃশ্য দেখতে দেখতে একটা ছোট্ট ছেলে আমার সামনে দিয়ে দৌড় দিল।

৩)
ছেলেটার বয়স হবে ৩ কি ৪।. খুব ফর্সা ছেলে দেখেই মনে হচ্ছে এই ছেলেটা দেশের প্রডাক্ট না অবশ্যই বৈদেশী মাল। যাই হোক ছেলেটা দেখতে কিন্তু অদ্ভুত সুন্দর। একটা প্লাস্টিকের বল দিয়ে ফুটবল টাইপের কোন এক খেলা খেলছে আর এই দিক সেই দিক দৌড়া দৌড়ি করছে।

ছেলেটা লাথি দিতেই বলটা আমার পায়ের কাছে এসে পড়ল। আমি সামান্য এক্সাইটেড হয়ে গোল দিয়ার ভঙ্গিতে বলটাতে কিক করার সাথে সাথে বলটা পাশের দোকানের চুলার উপর গিয়ে পড়ল এবং সাথে সাথে ঢাস্‌ করে ফুটে গেল।

আমি সাথে সাথে মাটিতে বসে কানে ধরে ছেলেটাকে বললামঃ আই এম সরি বাবা ।
ছেলেটা অতি মায়াময় ভঙ্গিতে একটা হাসি দিয়ে বললঃ it’s ok.

ছেলেটার এই হাসি দেখেই আমি মুগ্ধ । আমার মন ভাল হয়ে গেছে।
এই মিস্টি হাসি নিয়েই এখন ঘরে ফিরার পালা।

½ Life

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

0 comments:

Post a Comment