RSS

আল্লাহ আমাকে দান করেছেন সামর্থ্য

খাইতে বসে আম্মাকে বললাম, "আম্মা ঠিক করেছি এই বার ঈদে একটা গরীব লোককে সাহায্য করব। ভাবতেছি কাওকে একটা রিক্সা কিনে দিব"

আম্মা সাথে সাথে বললেন, সাহায্য করবা ভাল কথা কিন্তু টাকা কথায় ? যখন নিজে রুজি করবা তখন যত ইচ্ছা সাহায্য করিও ।

আমি বললাম, ঠিক আছে বুঝলাম এখন টাকা নাই, কিন্তু সামর্থ্য তো আছে । টাকা কালেক্ট করে কারও সাহায্য করার সামর্থ্যটুকু আল্লাহ আমাকে দান করেছেন । নিজের টাকায় সাহায্য করতে না পারি কিন্তু সবাইকে নিয়ে ভাল কিছু করার সামর্থ্য টুকু আল্লাহ আমাকে দান করেছেন। আর আমি এই দায়িত্ব থেকে পিছু হাটতে চাই না...

আমার এই কথা আম্মা বুঝলেও এখন কথা হচ্ছে আমরা কি বুঝতে পারছি ? কোন সুপার হিরো পেন্টের উপর লাল জাঙ্গি পড়ে আসমানে উড়তে উড়তে এসে তো আমাদের সমস্যা সমাধান করে দিয়ে যাবে না, তাই না ? যা করতে হবে তা আমাদেরকেই করতে হবে। আল্লাহ এই দায়িত্ব আমাদেরকে দিয়েছেন আর এখন সময় দায়িত্ব বুঝে নেয়ার । নিজে কিছু করতে পারছি না তো কি হয়েছে ? অন্যদেরকে সাথে নিয়ে কিছু করার সামর্থ্য টুকু অন্তত আছে, তাই না ?

এই কথা ভেবে আমারাও এবারের ঈদে কিছু একটা করার চেষ্টায় আছি। ইনশাআল্লাহ, ভাল কিছু একটা করতে পারব । :)

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

রমজান ওজন কমানোর জন্য নয়, গুনাহ কমানোর জন্যে

প্রায় প্রত্যেকদিন বিকেলে রহমান সাহেব ছেলেকে নিয়ে যান পার্কে । কিছুক্ষণ ছেলের সাথে দৌড়াদৌড়ি করে খেলাধুলা করে বাসায় আসেন । একদিন ছেলের সাথে ফুটবল খেলে ক্লান্ত হয়ে রহমান সাহেব বাসায় ফিরছিলেন। 

রাস্তার ধারে ওজন মাপার মেশিন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এক ছেলে।

ছেলে বাবাকে নিয়ে গেল সেখানে। বলল, "বাবা তুমি তো অনেক মোটা হয়ে গেছ, দেখি তোমার ওজন কত"

রহমান সাহেব মেশিনের উপর দাঁড়ালেন । মেশিনে রহমান সাহেবের ওজন দেখে ছেলে অবাক হয়ে মাথায় হাত দিয়ে বলল,

"আল্লাহ !!! ১০০ কেজি ? তুমি তো বলের মত মোটা হয়ে যাচ্ছ । আর কয়েকদিন পরে তো ফুটে যাবা "
রহমান সাহেব বললেন, "চিন্তা কর না বাবা, সামনে রোজা আসতেছে তো , একবারে শুকিয়ে যাব"

এই বলে রহমান সাহেব ছেলেকে নিয়ে বাড়ি ফিরলেন ।

রোজা শেষ হয়ে গেল। রহমান সাহেব ছেলেকে নিয়ে সেই একই পথে হাটছিলেন তখন ছেলে বলল, " আব্বু রোজা তো শেষ, এই বার তোমার ওজন মাপি, দেখি কতটুকু কমলো"

এবার ছেলে আরও অবাক হয়ে মাথায় হাত দিয়ে বলল, "আল্লাহ !!! আব্বু তোমার তো আরও দশ কেজি ওজন বাড়ছে । ইফতার আর সেহরিতে কি খাও ? লোহা ? :v :v :v

[] মূল কথা হচ্ছে "রমজান ওজন কমানোর জন্য নয়, গুনাহ কমানোর জন্যে"

Ohnish Films এর এই ভিডিওটা খুব ভাল লাগলও । যেহেতু সবাই ভিডিও দেখে না তাই লিখিত আকারে দিলাম কাহিনীটা।

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

আমি কেন আর্জেন্টিনার সাপোর্টার

আমি কেন আর্জেন্টিনার সাপোর্টার :P

কোন কালেই খেলার প্রতি আমার আগ্রহ খুব একটা ছিল না। ইচ্ছে হলে দেখতাম আর ইচ্ছে না হলে দেখতাম না। খেলা দেখার প্রতি আগ্রহ বেশি জাগত স্কুলে পড়াকালে। পড়তে বসেছি তখন যদি খেলা শুরু হত তাহলে খেলা দেখার বাহানায় পড়া থেকে কাল্টি মারতাম। পড়া লেখা কাল্টি মেরে খেলা দেখা সে এক অন্যরকম আনন্দ ছিল।

তো একদিন আমি আমার চাচাতো ভাইদের সাথে গাড়িতে করে ফুপুর বাসায় যাচ্ছিলাম। সিলেট থেকে মৌলভীবাজারে। তখন আমি ছিলাম পিচ্চি পুলা । ফুটবলের "ফ" অথবা "F" কি তাও হয়ত বুঝতাম না। তখন হয়ত ১৯৯৪ অথবা ১৯৯৮ এর ফিফা ওয়ার্ল্ড-কাপ চলছিল। ভাইদের মধ্যে তুমুল তর্ক হচ্ছে ব্রাজিল আর্জেন্টিনা নিয়ে । আমি তখন কোন দল সাপোর্ট করতাম না কারণ আমি তখন ফুটবল খেলাই বুঝতাম না, সাপোর্ট করা তো অনেক দুরের বিষয়।

ব্রাজিল পক্ষের ভাইরা আমাকে ব্রাজিলের গুণাবলী বলছিলেন যাতে আমি ব্রাজিল সাপোর্টার হয়ে যাই আর আর্জেন্টিনা পক্ষের ভাইরা আমাকে আর্জেন্টিনার গুণাবলী বলছিলেন । তখন এক ভাই আমারে গাড়ির জানালা দিয়ে দেখিয়ে বললেন, ভাল করে দেখ, ব্রাজিলের পতাকা বেশি না আর্জেন্টিনার পতাকা বেশি ?

আমি দেখলাম আর্জেন্টিনার পতাকা বেশি... এবং সেই তখন থেকেই আমি অফিসিয়ালি আর্জেন্টিনার সাপোর্টার। :P

[ আমি এখনও খেলা খুব যে আগ্রহ নিয়ে দেখি তা না, আর্জেন্টিনার যদি কোন ফালতু সাপোর্টার হয়ে থাকে তাহলে আমি তাদের অন্যতম ]

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

Pray for Gaza & syria

আমি আপনাদের কাছে অর্থ চাইব না শুধু চাইব আপনাদের জীবন থেকে অল্প কিছু সময় খরচ করে গাযায় এবং সিরিয়ার সকল অসহায় ভাই-বোন এবং শিশুদের জন্য দো'আ করুন ।

আল্লাহ'র দোহাই লাগে তাদের জন্য আপনার দুই হাতটা তুলুন । আমরা যেখানে ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে মেতে উঠেছি সেখানে একের পর এক হত্যা কাণ্ড চালানো হচ্ছে আমাদের মুসলিম ভাই-বোন এবং শিশুদের উপর। ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে । আর আমরা নিশ্চুপ !!!

আল্লাহ'র দোহাই লাগে, নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকিয়েন না ।
দু রাকাত নফল নামাজ পড়ে আপনার দুইটা হাত তুলুন তাদের জন্য । আর নিশ্চয়ই আমাদের দো'আ আল্লাহ ভেস্তে যেতে দিবেন না। আমাদের দো'আ আল্লাহ কবুল করবেন। এবং ইনশাআল্লাহ আমদের ভাই-বোনদের জয় সুনিশ্চিত ।

হে আল্লাহ আমাদের ভাই-বোনদের কুরবানি কবুল করুন । হে আল্লাহ, আমাদের মজলুম ভাই-বোনদের কষ্টকে সহজ করে দিন । হে আল্লাহ আমাদের মজলুম ভাই-বোনদেরকে ধৈর্য্য ধরার তৌফিক দান করুন। হে আল্লাহ মুসলিম উম্মাহকে এক হওয়ার তৌফিক দান করুন । হে আল্লাহ মুসলিম উম্মাহের উপর জয় সুনিশ্চিত করে দিন।

আমিন ...

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

আমার গায়ের রঙ কালা

পাশের বাসার পিচ্চি মেয়েটা আমারে অপমান করছে :(
বয়স ১১ কি ১২ হবে কিন্তু কথা বলতে শুরু হইলে আল্লাহ'র বিশেষ রহমত ছাড়া পিচ্চির কথা বন্ধ হয় না।

গতকাল বিকেলে। আমি আর আম্মা বারান্দার সিঁড়িতে বসে গল্প করছিলাম। তখন দরজা খোলে বের হয়ে এলো মেয়েটা। আমাদেরকে দেখে বলে:

- মা আর পুত এখানে বসে বসে কি করেন ?

আম্মা বলল, মা পুত গল্প করি

তারপর মেয়েটা আমারে বলে কি জানেন ? মেয়েটা বলে,
- কাইলকা খালার কম্পুটারে আপনের ছবি দেখছি মামা । আপনে যে কালা ছিলেন । আপনে কি সাবন দিয়ে গোসল করইন না ? আগেও কালা ছিলেন এখনও কালা। আমি বাড়ি থাইকা আইছিলাম তখন কালা ছিলাম, এখন সাবন দিয়া ডলা দিয়া সাদা হই গেছি... দেখছইন ?

পিচ্চির কথা শুনিয়া আমার তো পুরাই মাথা নষ্ট । বলে কি এই মাইয়া ?
এ জীবনে আর কত অপমান সহ্য করুম বলেন ?
পিচ্চিরাও এই কালা রঙ নিয়া টিটকারি মারে :(

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

আমাদের চারটি সম্পদ

আজকে এক রাজার এক ইংরেজি কাহিনী পড়লাম । কাহিনীটা খুব একটা ভালো না লাগলেও কাহিনীর পরের অংশটুকু অত্যন্ত ভালো লেগেছে তাই কষ্ট করে বাংলায় অনুবাদ করে শেয়ার করতে হলঃ

একদা এক রাজা ছিলেন যিনি চারটি বিবাহ করেছিলেন।
[] চতুর্থ স্ত্রীকে তিনি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন এবং সবচেয়ে দামি এবং মূল্যবান গহনা এবং পোশাক আশাক দিয়ে সাজিয়ে রাখতেন ।
[] তৃতীয় স্ত্রীকে তিনি ভালোবাসতেন এবং বিভিন্ন রাজ্যে যাতায়াত কালে সঙ্গে নিয়ে যেতেন। কিন্তু তিনি ভয় করতেন, একদিন সে উনাকে ফেলে রেখে চলে যাবে।
[] দ্বিতীয় স্ত্রীকেও তিনি ভালবাসতেন। রাজ্যের যে কোন কাজে দ্বিতীয় স্ত্রীর পরামর্শ নিতেন । দ্বিতীয় স্ত্রী রাজাকে উনার ধন-সম্পদ গুছিয়ে রাখতে সাহায্য করতেন ।
[] প্রথম স্ত্রী রাজার সেবায় সবসময় নিয়োজিত থাকত এবং অনেক ভালবাসত অথচ রাজা প্রথম স্ত্রীকে ভালবাসতেন না। প্রথম স্ত্রী রাজার অবহেলিত স্ত্রী ছিলেন ।

একদিন রাজার শরীর খারাপ হয়ে পড়ে এবং বুঝতে পারেন উনার কাছে খুব একটা সময় নেই । তিনি ভাবতে লাগলেন তিনি মারা গেলে একা হয়ে যাবেন ।

[] তাই তিনি চতুর্থ স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন:
- "আমি তোমাকে অনেক বেশি ভালবেসেছি, অনেক খেয়াল রেখেছি, অনেক সম্পদ দিয়েছি কিন্তু এখন যখন আমি মারা যাচ্ছি তুমি কি আমার সাথে যাবে ?"
-- সম্ভব না ! এই বলেই চতুর্থ স্ত্রী বের হয়ে গেল ...

[] রাজা তৃতীয় স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন:
- আমি আমার সারাটা জীবন তোমাকে ভালবেসেছি,  এখন যখন আমি মারা যাচ্ছি তুমি কি যাবে আমার সাথে ?
-- না, তুমি মারা যাচ্ছ, আমি তো মারা যাচ্ছি না, আমার জীবন এখনও বাকি আছে

[] তারপর রাজা দ্বিতীয় স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন:
- আমি তোমাকে ভালবেসেছি এবং যে কোন সাহায্যের দরকার পড়লে আমি তোমার কাছেই এসেছি এবং তুমি আমাকে কখনও ফিরিয়ে দেও নাই। এখন আমি মারা যাচ্ছি, আমি চাই তুমি আমার সাথে চল ...
-- i am sorry , আমি এইবার তোমাকে সাহায্য করতে পারবও না । যদি তুমি চাও তাহলে তোমার লাশ কবর পর্যন্ত নেয়ার ব্যবস্থা করতে পারি ।

ঠিক তখন প্রথম স্ত্রী বলে উঠলেন:
- আমি যাব তোমার সাথে, যেখানেই তুমি যাবে আমি যাব তোমার সাথে । রাজা ফিরে দেখলেন উনার প্রথম স্ত্রীকে । যাকে তিনি সবসময় শুধুই অবহেলা করেছেন,  যার কোন খেয়াল রাখেন নাই সে স্ত্রী উনার সাথে যেতে চায় ।
- রাজা বললেন: আমার ভুল হয়ে গেছে। আমাকে ক্ষমা করে দিও । তোমাকে বুঝতে অনেক দেরি হয়ে গেছে...

আমাদের প্রত্যেকের কাছেও এমন চারটা মূল্যবান এবং অতি-প্রিয় কিছু জিনিস আছে ।

[] আমাদের চতুর্থ সম্পদ হচ্ছে আমাদের শরীর । যাকে আমরা খুব বেশি ভালোবাসি । সুন্দর পোশাক পড়ে সৌন্দর্য বাড়াই, এবং অনেক টাকা খরচ করে শরীরের যত্ন নেই । কিন্তু মৃত্যুর সাথে সেই শরীর আমাদের ছেড়ে চলে যায়
[] আমাদের তৃতীয় সম্পদ হচ্ছে আমাদের অর্জিত সম্পত্তি এবং মান-সম্মান এবং অর্থ । যা মৃত্যুর সাথে সাথে আমাদেরকে ত্যাগ করে ।
[] আমাদের দ্বিতীয় সম্পদ হচ্ছে আমাদের পরিবার, আত্মিয় এবং বন্ধু-বান্ধব । মৃত্যুর পর যারা শুধুই কবর পর্যন্ত নিয়ে যাবে ।
[] এবং প্রথম সম্পদ হচ্ছে আমাদের আত্মা, আমাদের প্রাণ । অর্থ, ক্ষমতা এবং আরাম আয়েসের পেছনে ছুটতে গিয়ে যে সম্পদকে আমরা সারাজীবন ধরে অবহেলা করি, সেই সম্পদ শেষপর্যন্ত আমাদের সাথে থাকে এবং মৃত্যুর পরেও আমাদের সাথে যাবে।

#শেষ_কথাঃ নিজেকে জানুন নিজেকে চিনুন এবং নিজেকে ভালবাসুন..

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ইসলাম এবং সমাজ

শখ ছিল চাচা চৌধুরীর মত গোঁফ লম্বা করার । তাই গোঁফ লম্বা করতে শুরু করলাম। তখন সোসাইটি (society) আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল আমাকে বুঝাতে যে, গোঁফ রাখা ইসলামে নিষেধ । গোঁফে লাগা পানি পান করা হারাম । যেহেতু সোসাইটি সঠিক ছিল তাই আল্লাহ'র ভয়ে গোঁফ কেটেই ফেললাম ।

কিন্তু যখন দাড়ি রাখা শুরু করলাম তখন সোসাইটি আবার আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। আমাকে বলতে লাগলও দাড়ি কেটে ফেল, দেশের অবস্থা ভাল নয়, তোমারে জঙ্গি লাগে, এত অল্প বয়সে দাড়ি রাখলে কোন মেয়ে বিয়ে করবে না এবং বিভিন্ন হাবিজাবি কথাবার্তা ...

যেহেতু এ বেপারে সোসাইটি সঠিক নয়, তাই মানতে পারলাম না। দাড়ি শুধুই রেখেছি আল্লাহ'রে খুশি করার জন্য। দাড়ি রাখলে আমারে তেলাপোকা লাগুক অথবা গাঁগাঁ ভুতু লাগুক অথবা জঙ্গি লাগুক তাতেও যদি আল্লাহ খুশি হয় তাতেই আমার চলবে।

তাই একটা কথা মনে রাখবেন:
জীবন চলাকালে অনেক কিছুই শুনতে হবে অনেক কিছুই করতে হবে। কেও যদি ভাল কথা বলে তাহলে ঠিক আছে আর কেও যদি মন্দ কথা বলে তাহলে তার সাথে তর্ক না করে শুধু তার সেই কথাকে এড়িয়ে চলুন। দেখবেন সবকিছু ঠিক হয়ে গেছে।

[] মূল কথা হচ্ছে: আগে বুঝুন ভাবুন তারপর ঠিক করেন কি করবেন। লোকজন কি বলল তা মন দিয়ে শুনুন এবং ভাবুন আপনি যা শুনেছেন তা কি ঠিক না বেঠিক ? যদি ঠিক হয় তাহলে মানুন এবং যদি ঠিক না হয় তাহলে এড়িয়ে চলুন ।

#chose_your_way_carefully

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

আমার ক্রিকেটের ইতিহাস

আমার ক্রিকেট খেলা এখন শুধুই ইতিহাস :(

একসময় ক্রিকেট খেলাটা অনেক প্রিয় কিছু ছিল। কোন যায়গায় খেলার চান্স পাইলেই হইল । খুব একটা ভাল প্লেয়ার যে ছিলাম তা না, তবে মাঝে মাঝে ভাল রান করতে পারতাম, এবং মাঝে মাঝে সুযোগ বুঝে গতিতে বল করতে গিয়ে ইচ্ছে করেই চাকিং করতাম। চাকিং বুজছেন তো ? চাকিং হচ্ছে হাত ভেঙ্গে ঢিল ছুড়ার মত অনেকটা । illegal activity :P

[] একবার এক টুর্নামেন্টে এত জোড়ে চাক বল মারছিলাম এবং বলটা ব্যাটসম্যানের এমন এক যায়গায় গিয়ে পড়ছিল যে ব্যাটসম্যানের যায় যায় অবস্থা, অনেক্ষন নাক বন্ধ করে বসে থাকতে হল তারে। পানি টানি খাওয়ার পর যখন ব্যাটিং করতে উঠল তখন ভয়ে খেলতে গিয়া আউট হয়ে গেল :v :v

[] আরেকবার এক টুর্নামেন্ট খেলতে গেছিলাম পানিউড়া নামের এক যায়গায়। সিলেট থেকে আমি আর আমার ভাই । ভাড়া করা প্লেয়ার হিসেবে গেছিলাম। সেখানে আমাদের ভাব দেখে সবাই আমাদেরকে মাথায় তুলে রাখছে। সবাই বলাবলি করছিল, সিলেট থেকে দুইটা প্লেয়ার আনছে । খুব ভাল প্লেয়ার । চার ছক্কা ছাড়া কোন কথা নাই !!!

অবশেষে যখন খেলা শুরু হল তখন আমার ভাই ওপেনার হিসেবে খেলতে উঠে প্রথম ওভারেই রান আউট হয়ে নেমে আসে ... [ বলে রাখি: আমার ভাই কিন্তু আসলেই ভাল প্লেয়ার ]

তারপর উঠলাম আমি, সবাই মনে করল, একজন রান পায় নাই তো আরেকজন রান পাবে। ভাব টাব নিয়ে বেটিং করতে গিয়ে দেখি: ও মা !!! বল গুল্লির মতন আমার ঘাড়ের উপর দিয়া যাইতাছে :O

এবং যা হওয়ার তাই হইল আর কি । শূন্য রানে আউট হয়ে আসতে হল। মান ইজ্জৎ সব গেল গাঙ্গে ভাসিয়া ... :(

যদিও বলিং এ এক উইকেট পাইছিলাম ;) আর খেলাতেও জিতছিলাম :D

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

Do Not forget to say Alhamdulillah

ভার্সিটি থেকে বাসায় আসার জন্য রিক্সা নিলাম। রিক্সার ড্রাইভার ছিল বৃদ্ধ । থুরথুরা শরীর । গরমে ঘেমে গিয়ে গেঞ্জি পুরা চুপচুপা হয়ে আছে।  মানিব্যাগ খুলে দেখি মাত্র ৪০ টাকা। ভাড়া দিতে হবে ৩০ টাকা । সমস্যা না, বাসায় গিয়ে আম্মার কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভাড়া দেয়া যাবে। রিক্সা থামিয়ে 7-up কিনলাম আর দোকান থেকে একটা প্লাস্টিকের গ্লাস নিলাম।

মার্কেটের সামনের সিঁড়িতে বসে চাচাকে ডাক দিলাম। বললাম:
- বসেন চাচা
-- চাচা আমার পাশেই বসলেন
- গ্লাস ধরেন
-- বাবা আমি খাব না, তুমি খাও
- গরম আমার বেশি লাগছে না আপনার বেশি লাগছে ? ধরেন গ্লাস ধরেন !

ঠাণ্ডা খেতে খেতে কিছুক্ষণ গল্প করলাম চাচার সাথে। জানতে পারলাম:

-  চাচার বাড়ি ময়মনসিংহ এর কোন একটা গ্রামের কথা বলেছিলেন মনে হচ্ছে না। স্ত্রী অনেক বছর আগেই মারা গেছে।  চাচার দুই ছেলে । বড় ছেলে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে মারা গেছে । ছোট ছেলে গ্রামের একটা মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গেছে। ছেলের কারণে গ্রামের মানুষ উনাকেও গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। সবকিছু হারিয়ে এই বৃদ্ধ বয়সে তিনি এখন রিক্সা চালিয়ে নিজের দিন চালাচ্ছেন। এই বৃদ্ধকালে একা একা ঘুরে ফিরছেন এক যায়গা থেকে আরেক যায়গায় ভবঘুরে হয়ে । 

[] এই বৃদ্ধ বয়সেও লোকটার কপালে শান্তি জুটলও না। 
আর আমরা নাফরমান বান্দারা, অল্পতেই হতাশ হয়ে বলে উঠি- আমার জীবনে শান্তি নাই । সবসময় শুধু আফসোস আর আফসোস । 

যেভাবেই আছুন বিশ্বাস করেন অনেক অনেক ভাল আছেন।
Do not forget to say #Alhamdulillah

[ কমেন্টে আলহামদুলিল্লাহ লিখবেন না প্লিজ ]

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ফিজিক্যালি সে বাসায় থাকে, কিন্তু মেন্টালিটি সে বাসায় নাই

বাসায় এসে ঢুকতে না ঢুকতেই আম্মা ডাক দিলেন। আমি আম্মার রুমে গেলাম। আম্মা বললেন:
- বস
-- আমি উনার পাশে বসলাম
- একটু আগে একটা টক শো দেখছিলাম। যেখানে তোদের কথা বলছিল। একদম সত্য কথা
-- আমি কিছু বুঝতে পারলাম না, জিজ্ঞেস করলাম: আমাদের কথা মানে ?
- লোকটা একটা কথা বলেছিল । যা আমি ভুলে যাব বলে লিখে রেখেছি
-- কি কথা ?
- আম্মা উঠে গিয়ে একটা কাগজের টুকরা নিয়ে এসে আমারে বললেন:

"ফিজিক্যালি সে বাসায় থাকে, কিন্তু মেন্টালিটি সে বাসায় নাই"

-- সাথে সাথে বুঝতে পারলাম আম্মা আজকে ফেইসবুকের উপর লেকচার শুনানোর মুডে আছেন । তাই আমিও তৈরি করে নিলাম নিজেকে।

[] তারপর আম্মা লেকচার দিতে শুরু করলেন আপনার এবং আমার কথা। আজকাল-কার ছেলে-মেয়েরা মা-বাবাকে সময় দেয় না । ঘরে থাকে কিন্তু সারাক্ষণ ফেইসবুকে ...

লেকচার শুনতে শুনতে যখন বিরক্ত লাগছিল তখন আম্মাকে বললাম:
- আম্মা তোমারে কেমন কেমন জানি লাগতেছে
-- মানে ?
- দাঁত খুলে রাখছ নাকি ?
-- হ্যা
- অনেকদিন পর দেখলাম তোমার দাঁত ছাড়া চেহারা, কেমন জানি মায়া মায়া লাগতেছে
-- বুড়া হয়ে গেছি তাই না ?
- তা তো হইছই, তবে তোমারে দেখতে একদম নানার মত লাগতেছে

এই কথা বলতে না বলতেই আম্মার মুখে হাসি। তারপর লেকচারের পার্ট শেষ করে এসে ফেইসবুক পার্ট শুরু করলাম।

[] কাহিনীটা যদিও কিছুটা funny কিন্তু আমাদের এই বাস্তবতা অস্বীকার করলে চলবে না যে আমরা সত্যি সত্যি পরিবারকে সময় দিতে ভুলে যাচ্ছি ।  তাই আমাদেরকে এ বেপারে সচেতন হতে হবে। মা-বাবাকে সময় দিতে হবে। হয়তো আপনার মা-বাবা আমার মায়ের মত এমন চট করে মনের কথা বলতে পারছে না, মনে কষ্ট নিয়ে বসে আছেন । তাই তাদের সাথে কথা বলুন, তাদের শরীর কেমন, জিজ্ঞেস করুন। তারপর বাকি সময় বন্ধু, আড্ডা আর ফেইসবুক তো আর আছেই...

#Remember
"Facebook is not the most important thing. Family is.”

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

#০০১৪

আজ এত অদ্ভুত সব জিনিস ঘটতেছে কেন ?

১) ভার্সিটি থেকে আসার পথে ব্যাংকে কাজ ছিল তাই ব্যাংকের কাজ শেষ করে বাসায় আসার জন্য রিক্সার খোঁজতেছি তখন একটা হলুদ পাঞ্জাবিওয়ালা লোক এসে আমারে লম্বা একটা সালাম দিল। আমি সালামের উত্তর দিলাম। লোকটা জিজ্ঞেস করল:
- কই যাবেন ?
-- খাসদবীর

বলতে না বলতেই ধুম করে রাস্তার মাঝখানে দিয়ে দিল দৌড়। কই থাইক্কা ধরে নিয়ে আইল একটা রিক্সা। আমি লোকটারে সালাম দিয়ে দিয়ে রিক্সায় উঠলাম আর সারাটা পথ ভাবছি কাহিনী ঘটল টা কি ?

২) দুপুরে ভাত খেয়ে বের হলাম আরও কিছু কাজে। বাসার সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি একজন পাঞ্জাবিওয়ালা এবং দাড়িওয়ালা লোক আমারে সালাম দিলেন। আমি সালামের উত্তর দিলাম। তিনি বড় বড় চোখে আমার দিকে চেয়ে বললেন:
- আপনি দাড়ি রেখে দিছেন ?

লোকটার কথা শুনে আমি পুড়াই থতমত খেয়ে গেলাম। কাহিনী কি রে বাপ? চিনি না জানি না অপরিচিত মানুষ এমন ভাব নিচ্ছে যেত আমি তাদেরকে অনেক দিন ধরে চিনি। আমি বললাম:
- জ্বি আলহামদুলিল্লাহ
-- সত্যি রাখছেন ? মানে নবীর সুন্নত হিসেবে রাখছেন ?
- জ্বি
-- মাশাআল্লাহ মাশাআল্লাহ, খুশি হইলাম ভাই।

এই বলে লোকটা চলে গেল...

৩) কাজ শেষ করে রিক্সাতে করে বাসায় ফিরছি তখন একটা ছোট্ট ছেলে দূর থেকে চিল্লাই উঠে বলল:
- আসসালামু আলাইকুম ভাই

আমিও সালামের উত্তর দিলাম। কিন্তু বিশ্বাস করেন পিচ্চিটারে আমি চিনি না। তারপরেও এইটা মেনে নেয়া যায় যে সালাম দেয়ার জন্য পরিচিত অথবা অপরিচিত লাগে না। সবাইরে সালাম দেয়া যায়... কিন্তু বাকি দুইটা কাহিনী কি ঘটল ?

মাথায় পুরা প্যাচ লেগে গেছে :\

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

শুভ্র এবং অনুর কাহিনী

ক্রিং ক্রিং ক্রিং

মোবাইলের রিংটোন শুনে শুভ্রের ঘুম ভেঙ্গে গেছে। মোবাইল হাতে নিয়ে দেখে অচেনা নাম্বার।

- হ্যালো
-- হ্যালো
- কে বলছেন ?
-- কে বলছি মানে ? আমাকে চিন না ?
- না চিনি না
-- ঢং কর ?
- নাম বললেই তো হয়, এত প্যাঁচাল মারার কি আছে ?
-- নাম বলতে হবে কেন ? নাম বলব না। নাম না শুনেই বলতে হবে আমি কে...
- নিজের নাম ভুলে গেছেন নাকি ?
-- আরে শুভ্র তুমি তো মহা ফাজিল হইছ...

[] শুভ্র এখন কিছুটা থতমত খেয়ে ফেলেছে। মেয়েটা তার নাম জানল কিভাবে ? নিশ্চয়ই কোন পরিচিত কেও...

কয়েকটা দিন ধরে শুভ্রের খুব সমস্যা হচ্ছে। ঘুম থেকে উঠে পরিচিত মানুষদের চিনতে পারে না। সেদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে একজন লোক তার রুমে বসে বসে কম্পিউটার চালাচ্ছেন।

কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল:
- আপনি কে ? আমার রুমে কেন ঢুকলেন ? আবার আমার কম্পিউটার অনুমতি ছাড়াই চালাচ্ছেন... আপনি কে ?

লোকটা চেয়ার থেকে উঠে উত্তর না দিয়েই এমন জোরে গালটায় থাপ্পড় দিল যে সাথে সাথে ঘুম চলে গেল এবং মনে পড়ল এই লোকটা তার চাচা...
তাও যেমন তেমন চাচা না, খসাই চাচা। খসাই চাচা হচ্ছেন শুভ্রদের বড় চাচা। ছোট বেলা থেকেই শুভ্র এবং তার বোন তাদের বড় চাচাকে ভয় পেত। কারণ বড় চাচা খুব রাগি মানুষ এবং দেখতে খসাইদের মত লাগে, কারণ বড় চাচার মুখে ইয়া লম্বা গোঁফ আছে একদম বাংলা সিনেমার খসাইদের মত।

[] হয়তো মোবাইলে যে মেয়েটা কথা বলছে সেও তার খুব পরিচিত কেও কিন্তু সে চিনতে পারছে না...

- শুভ্র ? তুমি এখনও চিনতে পার নাই ?
-- চিনছি তো, ঢং করছিলাম
- বলতো আমি কে ?
-- আরে চিনছি বললাম না ? কেমন আছ সেইটা বল ?
- আমার মনে হচ্ছে, তুমি এখনও চিনতে পার নাই... বল আমি কে ?
-- আরে বললাম তো চিনছি... এখন নামও বলতে হবে ?
- হুম্‌ বলতে হবে... বল, আমি কে ?
-- জানি না

এই কথা বলতে না বলতেই মেয়েটা কাঁদতে শুরু করল। আর শুভ্র মোবাইলটা রেখে দিয়ে বাথরুমে গেল ফ্রেস হতে। হাত মুখ ধুয়ে এসে মোবাইল হাতে নিয়ে বলল:
- হ্যালো
-- {মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে বলল } তুমি আমার সাথে আর কথা বলবা না। তোমার সাথে আর কোন কথা নাই...

এইটা বলেই লাইন কেটে গেল। শুভ্র চোখ বড় বড় করে আয়নার দিকে তাকাচ্ছে আর ভাবছে এইডা কি হইল ? অনুকে সে চিনতে পারল না ? আজকে নিশ্চয়ই তার খবর আছে ... সাথে সাথে কল বেক করল কিন্তু অনু কল রিসিভ করছে না...

একটা ম্যাসেজ পাঠালো-
anu, ghum theke ute ki ultapalta boksi bujhi nai... sorry

[] শুভ্র রেডি হয়েই ভার্সিটিতে চলে গেল । গিয়ে দেখে ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। অনু গোমরা মুখে লেকচার শুনছে। অনুর পাশের সিট খালি । কারণ অনুর পাশে একমাত্র শুভ্র বসে। অন্য কেও বসলে অনু তার ধারালো নখ দিয়ে খামচি মেরে বসে। এই ভয়ে অনুর পাশে কেও বসে না।

একবার এক ছেলের হাতে খামচি মেরে রক্ত বের করে দিয়েছিল। যার কারণে পরবর্তীতে অনেক ঝামেলাও হয়েছে।

শুভ্র নিজেও অনুকে ভয় পায়। অনুকে ভয় পাওয়ার অনেক কারণ আছে এর মধ্যে একটা কারণ হচ্ছে- যদি শুভ্রের কারণে অনুর মন খারাপ থাকে তাহলে অনুর মন ভাল করার একটাই উপায় হচ্ছে অনুকে সারাদিন নিয়ে ঘুরতে হয়।

আর সারাদিন নিয়ে ঘুরা মানে সারাদিন পথে-ঘাটে, পার্কে হাহাহাটি করা। আর হাটাহাটি শুভ্রের মোটেও পছন্দ না। কিন্তু কি আর করার অনু হচ্ছে তার বেস্ট ফ্রেন্ড। অথচ অনু শুভ্রকে পছন্দ করে, শুধু যে পছন্দ করে তা না- ব্যাপক ভালোবাসে...

শুভ্র চুপচাপ বসে আছে অনুর পাশে। কখন যে খামচি মেরে বসবে এই ভয়ে হাত দুইটা বেগের ভেতর ঢুকিয়ে রেখেছে। ক্লাস শেষে, অনু এবং শুভ্রের হাব ভাব দেখে এক বন্ধু এসে জিজ্ঞেস করল:
- কি রে শুভ্র ? কোন সমস্যা ?
-- না রে বেটা... কোন সমস্যা না।
- তাইলে বেগের ভেতর হাট ঢুকাই রাখছস কেন ?
-- ঠাণ্ডা লাগতেছে তো, তাই ঢুকাইছি
- তাইলে চল, বাইরে যাইতাছি,
-- তোরা যা, আমি আসতেছি

এই বলে শুভ্র বেগের ভেতর থেকে হাত বের করতে না করতেই অনু শুভ্রের হাত ধরল। শুভ্র ভয় পেয়ে সাথে সাথেই বলে উঠল:
- প্লিজ খামচাইও না। কই যাবা বল, আমি নিয়া যাব

অনু হাত ছেড়ে দিয়ে বলল-
- তাহলে চল
-- কোথায় ?
- জানি না

[] এমন ছিল শুভ্র এবং অনুর ভার্সিটির জীবন
কিন্তু ভার্সিটির শেষের দিকে অনু বুঝতে পারল শুভ্র কখনও অনুকে ভালবাসে নাই। অনু ছিল শুভ্রের কাছে শুধুই বন্ধু । তাই অনু কখনও শুভ্রকে বলেও নাই যে সে শুভ্রকে কতটা ভালবাসে...

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

#০০১৩

রাত ১২ টায় অনেক কষ্ট করে নিজের মনের সাথে যুদ্ধ করে, ঘুমিয়ে পড়লাম, ভাবলাম তাড়াতাড়ি উঠে নামাযে যেতে হবে, সকালে আবার ক্লাসও আছে । 

ঘুমের মধ্যে অনেক হিজিবিজি টাইপ স্বপ্ন দেখলাম। অনেক পুরনো কিছু বন্ধুদের মুখ দেখিলাম। দেখিলাম, ছাগলের বাজারে বসে বসে আড্ডা দিচ্ছি আর কলা খাচ্ছি... যেখানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম তার উপরে একটা জানালা আছে। একটু পর পর মানুষ এসে জানালা দিয়ে উঁকি মারে আর প্রত্যেক বার পানির ফোঁটা গালে এসে লাগে। বুঝতে পারলাম না পানি আসে কই থেকে। অবশেষে আড্ডা শেষে যখন উঠে দাড়ালাম তখন দেখি জানালার উপরে লিখা


" বমি করতে চাইলে এখানে বমি করুন "


লিখাটা পড়ার সাথে সাথেই ঘুম ভেঙ্গে গেলে বাথরুমে গেলাম। দাঁত ব্রাশ, করে ওজু করে, বাইরের দরজা খুলে দেখি এখনও অন্ধকার। ঘড়ির দিকে তাকাতেই মাথা নষ্ট। রাত এখন মাত্র ৩ টা ।


কি আর করার ঘুম থেকে উঠে গেছি মানে ঘুম আর সম্ভব না।...

তাই নিজে নিজে চা বানালাম...

এখন বসে বসে চা'য়ে চুবিয়ে বিস্কুট খাচ্ছি আর লিখছি...


#Diary

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

ইসলামে দেশপ্রেম

[] specially for Muslim brothers & sisters []

বেশ কিছুদিন ধরে দেশপ্রেম নামক একটা পোকা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে শুরু করলাম এই পোকা'র বিস্তারিত গবেষণা... বিস্তারিত না জানলে সমস্যার সমাধান পাওয়া সম্ভব না।

পোকাটা ঢুকেছে কিছু দেশপ্রেম টাইপের ভিডিও দেখে। ভিডিও দেখে মনে হল, দেশের জন্য কিছুই করা হয় নি ? যে দেশের আলো,বাতাস, সবকিছুই আমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে সেই দেশের জন্য কি করিলাম ? আমি কি আসলেই আমার দেশটাকে ভালোবাসি ?

পোকাটা যে ঢুকলও আর বের হওয়ার নামও নেয়ে না। সারাক্ষণ ডিপ্রেশন কাজ করে, কিছু একটা করা উচিত দেশের জন্য। কিন্তু না কিছু করতে পারি না পোকাটারে মারতে পারি...

তাই ঠিক করলাম, মূল সমস্যাটা আসলে কোন যায়গাতে সেইটা বের করতে হবে।

[] গবেষণার প্রথম প্রশ্ন: " ধর্ম আগে না দেশপ্রেম আগে" ?
- অবশ্যই ধর্ম সবার আগে

[] গবেষণার দ্বিতীয় প্রশ্ন: "দেশপ্রেম কি" ?
এই প্রশ্নের উত্তর কয়েকটা ভাগে ভাগ করা যায়:
১) নিজের দেশকে ভালোবাসা
২) নিজের মাতৃভাষাকে ভালোবাসা
৩) নিজের দেশের মানুষকে ভালোবাসা
৪) নিজের দেশের সংবিধানকে মেনে চলা
৫) নিজের দেশের স্বার্থে কাজ করা

এখন আসেন এই উত্তরের বিস্তারিত আলোচনায়:

প্রথম পয়েন্ট- নিজের দেশকে ভালোবাসা ।
এই পয়েন্টে কোন সুস্থ মস্তিষ্ক মানুষের আপত্তি থাকার কথা না। নিজের যায়গা, নিজের দেশকে সবাই ভালোবাসে যদি না সে অসুস্থ থাকে...

দ্বিতীয় পয়েন্ট- নিজের মাতৃভাষাকে ভালোবাসা
ছোট বেলা থেকে যে ভাষায় কথা বলে বড় হয়েছি, যে ভাষায় প্রথম মা এবং বাবাকে ডাকতে শিখেছি সেই ভাষাকে কে না ভালোবাসে ? সেই একই কথা, কোন সুস্থ মানুষের পক্ষে নিজের মাতৃভাষাকে ভাল না বাসা সম্ভব না।

তৃতীয় পয়েন্ট: "নিজের দেশের মানুষকে ভালোবাসা"
নিজের কাছের মানুষদের প্রতি আপনা আপনি একটা ভালোবাসা জন্মায়, তাই এই পয়েন্টেও কোন সমস্যা নাই

চতুর্থ পয়েন্ট: "নিজের দেশের সংবিধানকে মেনে চলা"
এই চতুর্থ পয়েন্টে এসে লাগল খটকা। একজন মুসলিম হিসেবে আল্লাহ'র দেয়া সংবিধান ব্যতীত আর কোন সংবিধানকে মানা একজন প্রকৃত মুসলিম এর জন্য সম্ভব নয়। কিন্তু বাধ্য হয়ে আমাদেরকে সংবিধান মানতে হয় সেইটা আলাদা কথা। কারণ আমাদের দেশ ইসলামিক রাষ্ট্র নয়। { অর্থাৎ এই পয়েন্টের আলোকে "আমি দেশপ্রেমিক নই" কিন্তু তাতে সমস্যা নাই, কারণ সবকিছুর উর্ধ্বে আমার ধর্ম }

পঞ্চম পয়েন্ট: "নিজের দেশের স্বার্থে কাজ করা"
এই পয়েন্টেও লাগছে খটকা। সেটাও আবার যেমন তেমন খটকা না একটা বিশাল খটকা। এতদিনের পুরা চিন্তা ভাবনা চেতনা উলট পালট হয়ে গেছে এই পয়েন্টে এসে।

একজন মুসলিম হিসেবে আমার আল্লাহ আমাকে আদেশ দেন শুধু আল্লাহ'র সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সবকিছু করতে হবে। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কোন কিছুই করা যাবে না। এবং সেইটা নিজের মা'কে ভালোবাসা থেকে শুরু করে যাবতীয় সকল ভাল কাজ হবে একমাত্র আল্লাহ'র সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য।

অর্থাৎ, নিজের দেশকে ভালবাসতে হবে শুধু আল্লাহ'র সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ।
নিজের দেশের মানুষকে ভালবাসতে হবে আল্লাহ'র সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ।
নিজের দেশের মানুষকে সাহায্য করতে হবে আল্লাহ'র সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ।
নিজের দেশের স্বার্থে কিছু করলেও সেটা হতে হবে একমাত্র আল্লাহ'র সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ।

{} মূলকথা:
দেশের জন্য কি করলাম সেইটা ভেবে সময় নষ্ট করার দরকার নাই, আল্লাহ'র সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আমি কি করলাম সেইটা ভাবা উচিত। কারণ অবশেষে ঘুরেফিরে যেতে হবে ওই আল্লাহ'র কাছেই.. ... ...

{ একটা ছোট্ট কথা বাকি রয়ে গেছেঃ
"দেশপ্রেম ইমানের অঙ্গ" এইটা কোন হাদিস নয়। হাদিস মনে করে, বিভ্রান্ত হবেন না ... } —

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

#0012

কক্সবাজার যাব তাই আম্মারে কইলাম: 

- আম্মা বৃহস্পতিবার কক্সবাজার যাচ্ছি
-- কাদের সাথে ?
- বন্ধুদের সাথে ...
-- টাকা কে দিব ?
- ভাইয়া
-- তাইলে সমস্যা না, পারলে আজকেই যা...
- কিন্তু কিঞ্চিত সমস্যা আছে
-- মানে ?
- ভাইয়া কইছে, তোমার কাছ থেকে টাকা নিয়া নিতে, ভাইয়া পরে টাকা পাঠাইব...
-- দরকার নাই কক্সবাজার যাওয়ার... গিয়া বন্ধুদের সাথে ফুর্তি করতে গিয়া সমুদ্রে ডুইবা মরার দরকার নাই... আর তুই এখন কক্সবাজার যাবি কেন ? তোর ভার্সিটি নাই ?


[] আমি আর কথা প্যাচাইলাম না, আমি আর বলবও না টাকা দেয়ার জন্য কারণ আমি জানি আম্মা টাকা দিবে। কিন্তু এখন দিবে না। বেগ টেগ গোছগাছ করে যেদিন কক্সবাজার যাওয়ার জন্য আম্মার কাছ থেকে বিদায় নিব তখন আম্মা এমনিতেই টাকা বের করে দিবে... ... ...

আরও কিছু টাকা এক্সট্রা দিয়ে বলবে- এই টাকা যেন আবার ফিরত আমার কাছে আসে বলে দিলাম।
কিন্তু আম্মা নিজেও জানে এইটা আর ফিরবে না 

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

#0011

একটু আগে চা টা খাইয়া বন্ধুর বাসায় গেলাম । বন্ধুর বাসায় ঢুকার সময় হটাৎ কইরা বন্ধু কইল:
- আব্বা মনে হয় পাগল হয়ে গেছে রে

বন্ধুর বাবা’র শরীর খুব খারাপ ছিল জানতাম কিন্তু এতই খারাপ ছিল জানতাম না, পাগল হয়ে গেল কেমনে ? জিজ্ঞেস করলাম:
- কি হইছে ?
-- সকালে হটাৎ দেখি আব্বা বাসায় নাই ।
- তাইলে ? কথায় গেছিল ?
-- পরে দেখি বাজার থেকে লম্বা দুইটা বাঁশ কিনে নিয়ে আইছে
- কেন ?
-- হাস মুরগীর ঘর নাকি বানাইব

বন্ধুর কথা শুইনা আমি হাসতে হাসতে শেষ। বন্ধুরে কইলাম:
- সমস্যা না, বয়স হইলে মানুষ এই রকম করে ।
-- আর কইছ না, আব্বার শরীর খারাপ, বাসায় বসে থাকা ছাড়া কোন কাজ নাই তাই উল্টা পাল্টা কাজ শুরু করছে। আবার আমারে কয় হাস-মুরগির খেয়াল রাখতে...

[] বেচারা বন্ধুর জন্য কষ্ট হইতাছে । কয়দিন পর থেকে হাস-মুরগি লালন পালন করতে হইব । হাস-মুরগির বিষ্ঠাও পরিষ্কার করিতে হইতে পারে । 

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

#0010

আম্মা মাঝে মাঝে কি যে করে, বুঝি না... আমার সাথেই লাগতে হবে সবসময়। দুনিয়ায় আর কেও পায় না আমারে নিয়া যত উদ্ভট চিন্তা 

এই একটু আগে ঘরে এসে দেখি চাচা, চাচি আর আম্মা রাতের খাওয়া দাওয়া শেষে বসে বসে গল্প করতেছে। হাত মুখ ধুয়ে খাইতে বসলাম।

হটাৎ আমারে দেখে আম্মার মাথায় কি ঢুকল সাথে সাথে বলে উঠলেন:
- এই ছেলেটা দেখতে কার মত হইছে ?

[] প্রশ্ন করতে না করতেই আমারে নিয়া চাচা আর চাচি গবেষণা শুরু করলেন।

চাচা বললেন: হেফাজত ইসলামের মত দেখতে !!!
চাচি বললেন: আগে ছিল বাপের মত এখন মুখের কাটিং বদলে গেছে...

{} আমি আর কোন কথা কইলাম না। পুরাই কনফিউজড !!! 

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

#0009

ছোট্ট একটা কিউট মেয়ে আমার পাশে বসে বসে মেঙ্গো জুস খাচ্ছে। আমি মেয়েটাকে জিজ্ঞেস করলাম:

- নাম কি তোমার ?
-- সাবিনা
- তুমি কি আমাকে চেন ?
-- না
- তাহলে আমার সাথে কথা বলতে ভয় করছে না ?
-- নাহ, ভয় করবে কেন ?
- আমি যদি তোমাকে নিয়ে যাই
-- তুমি আমাকে নিতে পারবে না, আমার বাবা তোমাকে মারবে
- তোমার বাবা কে ?
-- আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বলল: ঐ যে আমার বাবা

আমি চাইয়া দেখি আর্মি ড্রেস পড়া একজন তাগড়া লোক আমার দিকে তাকিয়ে আছেন সন্দেহের চোখে। আমি সাথে সাথে চা অর্ধেক রেখেই হাটা শুরু করলাম।

[] ফাজিল মেয়ে, আমারে বলে তার বাপ আমারে মারব 
আমি ভয় পাই নাকি তার বাপরে ? 

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

Help the Humans

বসেছিলাম শত মানুষের ভিড়ে। কেও আমাকে চিনে না কেও আমাকে জানে না। মানুষ নিজের নিজের আনন্দ নিয়ে ব্যস্ত। কেও তার গার্লফ্রেন্ডকে নিয়ে ঘুরতে এসেছে। কেও তার পরিবারের সাথে ঘুরতে এসেছে। কেও বন্ধুদের সাথে ঘুরতে এসেছে। কেও আমার মত একলা একলা হেটে বেড়াচ্ছে।

ঠিক তখন এক ছোট্ট ছেলে এসে আমার পাশে বসল। ছেলেটারে দেখতে অদ্ভুত মায়া লাগে। দেখলেই মনে হয় ভুদভুদা দুটা গাল কামড়াইয়া তুইলা আনি।

যাজ্ঞে কিছুক্ষণ পর যখন দেখলাম ছেলেটাও আমার মত একলা তখন জিজ্ঞেস করলাম
- নাম কি তোমার ?
-- আদি
- আদি ?
-- হুম্‌
- তোমার আম্মু আব্বু কথায় ?
-- নাই

{} কথাটা শুনে প্যাচ লাগল মনে। মানে কি ? ছেলেটা কি তার আম্মু আব্বু কে খোঁজে পাচ্ছে না ? ছেলেটা কি হারায় গেল ?
সঙ্গে সঙ্গে ছেলেটারে কোলে করে নিয়ে তার মা বাবাকে খোঁজতে লাগলাম। কিছুক্ষণ খোঁজা খুঁজির পর ছেলেটার মা-বাবাকে খোঁজে পাওয়া গেল। মা-বাবা ছেলেটাকে ফিরে পেয়ে তাকে কোলে নিয়ে জড়িয়ে ধরে অনেক আদর করলেন।

আমি ছেলেটাকে ফিরিয়ে দিয়ে চলে আসছিলাম তখন ছেলেটার বাবা দৌড়ে আমার কাছে এসে জড়িয়ে ধরে ধন্যবাদ জানালেন এবং একটা কার্ড বের করে দিয়ে বললেন:
- যে কোন ধরনের সাহায্যের দরকার হলে আমাকে কল দিও । in any time. please
-- ঠিক আছে,

[]
এর কয়েকদিন পর একটা মাদ্রাসায় গেছিলাম মামার কাজে। মামার বড় ছেলের একটা ছেলে সন্তান হয়েছে। তাই মামা কিছু টাকা মাদ্রাসায় দেয়ার দায়িত্ব চাপিয়ে দিলেন আমার উপর। আমি মাদ্রাসায় টাকা দিতে গিয়ে দেখলাম মাদ্রাসার গেইটের সামনে একটা ছেলে বসে বসে কাঁদতেছে। তার মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। আমি তার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম:

- কি ব্যাপার ভাই ? কান্দ কেন ?
-- ছেলেটা মুখ লুকাইয়া কাঁদতে লাগলও
- আমি তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললাম "কি হইছে" ?
-- কিছু না
- মানে কি ? মুখ দিয়া রক্ত পড়তেছে আর বলতেছ কিছু হয় নাই ? আমারে বল, কি হইছে ?
-- কইলাম তো, কিছু না
- আরে বল বল, কেও মারছে ?
-- নাহ
- তাইলে কি হইছে ? না বললে বুঝমু কেমনে ?
-- আপনার বুঝন লাগবো না
- এদিকে তাকাও
-- ছেলেটা আমার দিকে তাকাইলও
- এখন বল কি হইছে ?
-- আপনারে কইলে আপনি আমারে মারবেন
- মারব না, বল, কি হইছে ?
-- চুরি করতে ধরা খাইছি, তাই মানুষ আমারে ধইরা মারছে
- কি চুরি করছ ?
-- মোবাইল
- কেন চুরি করছ ?
-- টাকা লাগব
- কিসের জন্য ?
-- মায়ের চিকিৎসার জন্য
- কত ?
-- ১০ হাজার
- কি হইছে তোমার মায়ের ?
-- মায়ের জ্বর হইছিল। ডাক্তার দেখাইছি, ডাক্তার কইছে ১০ হাজার টাকা লাগবও
- তোমার মা এখন কথায় ?
-- বাসায়
- চল তোমার মায়েরে দেখে আসি, যদি আসলেই তোমার মায়ের শরীর খারাপ থাকে তাহলে আমি টাকার ব্যবস্থা করে দিব

[] তারপর ছেলেটা আমারে নিয়া গেল তার বাসায়। তার মায়ের অবস্থা আসলেই খুব খারাপ ছিল। আমি প্রেসক্রিপশন দেখলাম কিন্তু কিছু বুঝবার পারলাম না। প্রেসক্রিপশনের একটা ফটো তুলে নিয়ে গেলাম। পরিচিত এক বন্ধু মেডিকেলে পড়তেছে তারে জিজ্ঞেস করলাম
- এই রুগীটার কি সমস্যা বলতে পারবি ?

বন্ধু প্রেসক্রিপশন দেখে আমারে কি একটা কঠিন শব্দ কইল যা আমার মনে নাই। আমি জিজ্ঞেস করলাম:
- ডাক্তার বলছে চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা লাগবে, এইটা কি ঠিক মনে হয় তোর ?
-- আরও বেশি লাগার কথা

[] বাসায় এসে মনে পড়লও ঐ লোকটার কথা যে কার্ড দিয়ে বলেছিল কোন সাহায্যের দরকার হলে উনারে কল দেয়ার জন্য। আমি সাথে সাথে উনারে কল দিলাম:
- হ্যালো, কে বলছেন ?
-- আমি সিফাত, আপনি বলেছিলেন কোন সাহায্যের দরকার হলে আপনাকে কল দেয়ার জন্য
- ঠিক বুঝতে পারলাম না। কবে বলেছিলাম ?
-- ঐ যে আপনার ছেলে আদি হারাই গেছিল,
- ও আচ্ছা, আপনি ? জ্বি বলেন, কি ভাবে সাহায্য করতে পারি ?
-- সাহায্য আসলে আমার লাগবে না। একজন মহিলার লাগবে। মহিলার স্বামী নাই। এক ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে থাকেন। উনার শরীর খারাপ যার চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকার দরকার। আপনি কি সাহায্য করতে পারবেন ?
- অবশ্যই পারব, তার আগে ঐ মহিলাকে বলেন আমার সাথে দেখা করার জন্য। আমিও একজন ডাক্তার ।
-- তাহলে তো আরও ভাল হল, ঠিক আছে আমি আপনার কাছে নিয়ে আসব কালকে।

[] পরেরদিন সময় ঠিক ঠাক করে ছেলে আর মাকে নিয়ে গেলাম ভদ্রলোকটার সাথে দেখা করতে। ভদ্রলোক মহিলাকে দেখে বললেন: কালকেই আপনার অপারেশন হয়ে যাবে, অপারেশনের যা খরচ লাগে আমি দিব।

----------------
এই ছিল কাহিনী । কাহিনীটা আমার নয় তবে আমার একজন পরিচিত ব্যক্তির। মহিলা এখন সুস্থ হয়ে গেছেন। ছেলেটাকে এখন আর চুরি করতে হয় না কারণ ভদ্রলোক ছেলেটাকে একটা চাকরি দিয়েছেন। চাকরিটা হচ্ছে উনার ছোট ছেলে আদিকে দেখে শুনে রাখার চাকরি।

কথা হচ্ছে মানুষ মানুষকে সাহায্য করবে এইটা মানুষের ধর্ম।  সাহায্য করার ইচ্ছা সবার মধ্যেই থাকে কিন্তু কিছু কিছু মানুষ সাহায্য করার ইচ্ছা হারিয়ে ফেলে। তাই যখন কাওকে সাহায্য করার সুযোগ আসে তাকে সাহায্য করুন। সাহায্য করতে নিজের স্বার্থ খুঁজতে যাইয়েন না। just do it !!!

আর আমি ?
[] still searching for the story of life []

www.fb.com/HLstories 

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS