ক্রিং ক্রিং ক্রিং
মোবাইলের রিংটোন শুনে শুভ্রের ঘুম ভেঙ্গে গেছে। মোবাইল হাতে নিয়ে দেখে অচেনা নাম্বার।
- হ্যালো
-- হ্যালো
- কে বলছেন ?
-- কে বলছি মানে ? আমাকে চিন না ?
- না চিনি না
-- ঢং কর ?
- নাম বললেই তো হয়, এত প্যাঁচাল মারার কি আছে ?
-- নাম বলতে হবে কেন ? নাম বলব না। নাম না শুনেই বলতে হবে আমি কে...
- নিজের নাম ভুলে গেছেন নাকি ?
-- আরে শুভ্র তুমি তো মহা ফাজিল হইছ...
[] শুভ্র এখন কিছুটা থতমত খেয়ে ফেলেছে। মেয়েটা তার নাম জানল কিভাবে ? নিশ্চয়ই কোন পরিচিত কেও...
কয়েকটা দিন ধরে শুভ্রের খুব সমস্যা হচ্ছে। ঘুম থেকে উঠে পরিচিত মানুষদের চিনতে পারে না। সেদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে একজন লোক তার রুমে বসে বসে কম্পিউটার চালাচ্ছেন।
কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল:
- আপনি কে ? আমার রুমে কেন ঢুকলেন ? আবার আমার কম্পিউটার অনুমতি ছাড়াই চালাচ্ছেন... আপনি কে ?
লোকটা চেয়ার থেকে উঠে উত্তর না দিয়েই এমন জোরে গালটায় থাপ্পড় দিল যে সাথে সাথে ঘুম চলে গেল এবং মনে পড়ল এই লোকটা তার চাচা...
তাও যেমন তেমন চাচা না, খসাই চাচা। খসাই চাচা হচ্ছেন শুভ্রদের বড় চাচা। ছোট বেলা থেকেই শুভ্র এবং তার বোন তাদের বড় চাচাকে ভয় পেত। কারণ বড় চাচা খুব রাগি মানুষ এবং দেখতে খসাইদের মত লাগে, কারণ বড় চাচার মুখে ইয়া লম্বা গোঁফ আছে একদম বাংলা সিনেমার খসাইদের মত।
[] হয়তো মোবাইলে যে মেয়েটা কথা বলছে সেও তার খুব পরিচিত কেও কিন্তু সে চিনতে পারছে না...
- শুভ্র ? তুমি এখনও চিনতে পার নাই ?
-- চিনছি তো, ঢং করছিলাম
- বলতো আমি কে ?
-- আরে চিনছি বললাম না ? কেমন আছ সেইটা বল ?
- আমার মনে হচ্ছে, তুমি এখনও চিনতে পার নাই... বল আমি কে ?
-- আরে বললাম তো চিনছি... এখন নামও বলতে হবে ?
- হুম্ বলতে হবে... বল, আমি কে ?
-- জানি না
এই কথা বলতে না বলতেই মেয়েটা কাঁদতে শুরু করল। আর শুভ্র মোবাইলটা রেখে দিয়ে বাথরুমে গেল ফ্রেস হতে। হাত মুখ ধুয়ে এসে মোবাইল হাতে নিয়ে বলল:
- হ্যালো
-- {মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে বলল } তুমি আমার সাথে আর কথা বলবা না। তোমার সাথে আর কোন কথা নাই...
এইটা বলেই লাইন কেটে গেল। শুভ্র চোখ বড় বড় করে আয়নার দিকে তাকাচ্ছে আর ভাবছে এইডা কি হইল ? অনুকে সে চিনতে পারল না ? আজকে নিশ্চয়ই তার খবর আছে ... সাথে সাথে কল বেক করল কিন্তু অনু কল রিসিভ করছে না...
একটা ম্যাসেজ পাঠালো-
anu, ghum theke ute ki ultapalta boksi bujhi nai... sorry
[] শুভ্র রেডি হয়েই ভার্সিটিতে চলে গেল । গিয়ে দেখে ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। অনু গোমরা মুখে লেকচার শুনছে। অনুর পাশের সিট খালি । কারণ অনুর পাশে একমাত্র শুভ্র বসে। অন্য কেও বসলে অনু তার ধারালো নখ দিয়ে খামচি মেরে বসে। এই ভয়ে অনুর পাশে কেও বসে না।
একবার এক ছেলের হাতে খামচি মেরে রক্ত বের করে দিয়েছিল। যার কারণে পরবর্তীতে অনেক ঝামেলাও হয়েছে।
শুভ্র নিজেও অনুকে ভয় পায়। অনুকে ভয় পাওয়ার অনেক কারণ আছে এর মধ্যে একটা কারণ হচ্ছে- যদি শুভ্রের কারণে অনুর মন খারাপ থাকে তাহলে অনুর মন ভাল করার একটাই উপায় হচ্ছে অনুকে সারাদিন নিয়ে ঘুরতে হয়।
আর সারাদিন নিয়ে ঘুরা মানে সারাদিন পথে-ঘাটে, পার্কে হাহাহাটি করা। আর হাটাহাটি শুভ্রের মোটেও পছন্দ না। কিন্তু কি আর করার অনু হচ্ছে তার বেস্ট ফ্রেন্ড। অথচ অনু শুভ্রকে পছন্দ করে, শুধু যে পছন্দ করে তা না- ব্যাপক ভালোবাসে...
শুভ্র চুপচাপ বসে আছে অনুর পাশে। কখন যে খামচি মেরে বসবে এই ভয়ে হাত দুইটা বেগের ভেতর ঢুকিয়ে রেখেছে। ক্লাস শেষে, অনু এবং শুভ্রের হাব ভাব দেখে এক বন্ধু এসে জিজ্ঞেস করল:
- কি রে শুভ্র ? কোন সমস্যা ?
-- না রে বেটা... কোন সমস্যা না।
- তাইলে বেগের ভেতর হাট ঢুকাই রাখছস কেন ?
-- ঠাণ্ডা লাগতেছে তো, তাই ঢুকাইছি
- তাইলে চল, বাইরে যাইতাছি,
-- তোরা যা, আমি আসতেছি
এই বলে শুভ্র বেগের ভেতর থেকে হাত বের করতে না করতেই অনু শুভ্রের হাত ধরল। শুভ্র ভয় পেয়ে সাথে সাথেই বলে উঠল:
- প্লিজ খামচাইও না। কই যাবা বল, আমি নিয়া যাব
অনু হাত ছেড়ে দিয়ে বলল-
- তাহলে চল
-- কোথায় ?
- জানি না
[] এমন ছিল শুভ্র এবং অনুর ভার্সিটির জীবন
কিন্তু ভার্সিটির শেষের দিকে অনু বুঝতে পারল শুভ্র কখনও অনুকে ভালবাসে নাই। অনু ছিল শুভ্রের কাছে শুধুই বন্ধু । তাই অনু কখনও শুভ্রকে বলেও নাই যে সে শুভ্রকে কতটা ভালবাসে...
মোবাইলের রিংটোন শুনে শুভ্রের ঘুম ভেঙ্গে গেছে। মোবাইল হাতে নিয়ে দেখে অচেনা নাম্বার।
- হ্যালো
-- হ্যালো
- কে বলছেন ?
-- কে বলছি মানে ? আমাকে চিন না ?
- না চিনি না
-- ঢং কর ?
- নাম বললেই তো হয়, এত প্যাঁচাল মারার কি আছে ?
-- নাম বলতে হবে কেন ? নাম বলব না। নাম না শুনেই বলতে হবে আমি কে...
- নিজের নাম ভুলে গেছেন নাকি ?
-- আরে শুভ্র তুমি তো মহা ফাজিল হইছ...
[] শুভ্র এখন কিছুটা থতমত খেয়ে ফেলেছে। মেয়েটা তার নাম জানল কিভাবে ? নিশ্চয়ই কোন পরিচিত কেও...
কয়েকটা দিন ধরে শুভ্রের খুব সমস্যা হচ্ছে। ঘুম থেকে উঠে পরিচিত মানুষদের চিনতে পারে না। সেদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে একজন লোক তার রুমে বসে বসে কম্পিউটার চালাচ্ছেন।
কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল:
- আপনি কে ? আমার রুমে কেন ঢুকলেন ? আবার আমার কম্পিউটার অনুমতি ছাড়াই চালাচ্ছেন... আপনি কে ?
লোকটা চেয়ার থেকে উঠে উত্তর না দিয়েই এমন জোরে গালটায় থাপ্পড় দিল যে সাথে সাথে ঘুম চলে গেল এবং মনে পড়ল এই লোকটা তার চাচা...
তাও যেমন তেমন চাচা না, খসাই চাচা। খসাই চাচা হচ্ছেন শুভ্রদের বড় চাচা। ছোট বেলা থেকেই শুভ্র এবং তার বোন তাদের বড় চাচাকে ভয় পেত। কারণ বড় চাচা খুব রাগি মানুষ এবং দেখতে খসাইদের মত লাগে, কারণ বড় চাচার মুখে ইয়া লম্বা গোঁফ আছে একদম বাংলা সিনেমার খসাইদের মত।
[] হয়তো মোবাইলে যে মেয়েটা কথা বলছে সেও তার খুব পরিচিত কেও কিন্তু সে চিনতে পারছে না...
- শুভ্র ? তুমি এখনও চিনতে পার নাই ?
-- চিনছি তো, ঢং করছিলাম
- বলতো আমি কে ?
-- আরে চিনছি বললাম না ? কেমন আছ সেইটা বল ?
- আমার মনে হচ্ছে, তুমি এখনও চিনতে পার নাই... বল আমি কে ?
-- আরে বললাম তো চিনছি... এখন নামও বলতে হবে ?
- হুম্ বলতে হবে... বল, আমি কে ?
-- জানি না
এই কথা বলতে না বলতেই মেয়েটা কাঁদতে শুরু করল। আর শুভ্র মোবাইলটা রেখে দিয়ে বাথরুমে গেল ফ্রেস হতে। হাত মুখ ধুয়ে এসে মোবাইল হাতে নিয়ে বলল:
- হ্যালো
-- {মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে বলল } তুমি আমার সাথে আর কথা বলবা না। তোমার সাথে আর কোন কথা নাই...
এইটা বলেই লাইন কেটে গেল। শুভ্র চোখ বড় বড় করে আয়নার দিকে তাকাচ্ছে আর ভাবছে এইডা কি হইল ? অনুকে সে চিনতে পারল না ? আজকে নিশ্চয়ই তার খবর আছে ... সাথে সাথে কল বেক করল কিন্তু অনু কল রিসিভ করছে না...
একটা ম্যাসেজ পাঠালো-
anu, ghum theke ute ki ultapalta boksi bujhi nai... sorry
[] শুভ্র রেডি হয়েই ভার্সিটিতে চলে গেল । গিয়ে দেখে ক্লাস শুরু হয়ে গেছে। অনু গোমরা মুখে লেকচার শুনছে। অনুর পাশের সিট খালি । কারণ অনুর পাশে একমাত্র শুভ্র বসে। অন্য কেও বসলে অনু তার ধারালো নখ দিয়ে খামচি মেরে বসে। এই ভয়ে অনুর পাশে কেও বসে না।
একবার এক ছেলের হাতে খামচি মেরে রক্ত বের করে দিয়েছিল। যার কারণে পরবর্তীতে অনেক ঝামেলাও হয়েছে।
শুভ্র নিজেও অনুকে ভয় পায়। অনুকে ভয় পাওয়ার অনেক কারণ আছে এর মধ্যে একটা কারণ হচ্ছে- যদি শুভ্রের কারণে অনুর মন খারাপ থাকে তাহলে অনুর মন ভাল করার একটাই উপায় হচ্ছে অনুকে সারাদিন নিয়ে ঘুরতে হয়।
আর সারাদিন নিয়ে ঘুরা মানে সারাদিন পথে-ঘাটে, পার্কে হাহাহাটি করা। আর হাটাহাটি শুভ্রের মোটেও পছন্দ না। কিন্তু কি আর করার অনু হচ্ছে তার বেস্ট ফ্রেন্ড। অথচ অনু শুভ্রকে পছন্দ করে, শুধু যে পছন্দ করে তা না- ব্যাপক ভালোবাসে...
শুভ্র চুপচাপ বসে আছে অনুর পাশে। কখন যে খামচি মেরে বসবে এই ভয়ে হাত দুইটা বেগের ভেতর ঢুকিয়ে রেখেছে। ক্লাস শেষে, অনু এবং শুভ্রের হাব ভাব দেখে এক বন্ধু এসে জিজ্ঞেস করল:
- কি রে শুভ্র ? কোন সমস্যা ?
-- না রে বেটা... কোন সমস্যা না।
- তাইলে বেগের ভেতর হাট ঢুকাই রাখছস কেন ?
-- ঠাণ্ডা লাগতেছে তো, তাই ঢুকাইছি
- তাইলে চল, বাইরে যাইতাছি,
-- তোরা যা, আমি আসতেছি
এই বলে শুভ্র বেগের ভেতর থেকে হাত বের করতে না করতেই অনু শুভ্রের হাত ধরল। শুভ্র ভয় পেয়ে সাথে সাথেই বলে উঠল:
- প্লিজ খামচাইও না। কই যাবা বল, আমি নিয়া যাব
অনু হাত ছেড়ে দিয়ে বলল-
- তাহলে চল
-- কোথায় ?
- জানি না
[] এমন ছিল শুভ্র এবং অনুর ভার্সিটির জীবন
কিন্তু ভার্সিটির শেষের দিকে অনু বুঝতে পারল শুভ্র কখনও অনুকে ভালবাসে নাই। অনু ছিল শুভ্রের কাছে শুধুই বন্ধু । তাই অনু কখনও শুভ্রকে বলেও নাই যে সে শুভ্রকে কতটা ভালবাসে...






0 comments:
Post a Comment