RSS

Arif R Hossain এবং হিমু

Arif R Hossain এবং হিমু 

আমার এ লেখার প্রধান কারন হচ্ছে যদি হিমু'র সাথে Arif R Hossain' ভাই এর দেখা হয় তাহলে কথপোকথন কেমন হত তা জানার বড্ড ইচ্ছা !!! 

আরিফ ভাই'র অফিসে গিয়ে উপস্থিত হলাম। অনেক্ষন ধরে অপেক্ষা করছি। হটাৎ একজন এসে আমাকে বললেন। আপনার নাম কি হিমু ?
-জ্বি
আপনাকে ভিতরে যেতে বলেছেন, বস্‌ ।
-আমি দরজয়াতে আওয়াজ দিতেই ভেতর থেকে আরিফ ভাই বললেন।
ইয়েস ।
-আমি ইংরেজিতে বললামঃ মে আই কাম ইন বস্‌ ?
ইয়েস প্লিজ ।
-আমি ভিতরে ঢুকে বললামঃ মে আই সিট্‌ ডাওন বস্‌ ?
প্লিজ প্লিজ। আর আপনি আমাকে বস্‌ বস্‌ ডাকছেন কেন বার বার ? আমাকে আরিফ বললেই চলবে।
-আমি বসতে বসতে বললামঃ ঠিক আছে মি.আরিফ।

বলেন, আপনাকে কি ভাবে সাহাজ্য করতে পারি ?
-আমি আসলে সাহাজ্য নিতে আসি নাই। দিতে এসেছি।
বুঝলাম না বেপারটা। ক্লিয়ার করুন ।
- শুনেছি আপনি ফেইসবুকে খুব সম্মানিত ব্যাক্তি। যদি কিছু মনে না করেন একটা রিকুয়েস্ট নিয়ে এসেছিলাম।

আরিফ ভাইঃ বলেন, শুনছি।

- বিক্রমপুরে এক শ্রদ্ধেও বোতল বাবা আছেন যিনি পানি ভর্তি এক হাফ্‌ লিটার পেপসির বোতলে ফু দেয়ার সাথে সাথে পানি ঘোলা হয়ে যায় এবং সেই পানি পান করলে মানুষের রোগ এক সাপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়।

[আরিফ ভাই কান পেতে মনযোগ দিয়ে শুনছেন বোতল বাবার কথা, টু ফোটা শব্দ করছেন না]

- [আমি বলতে থাকলাম] আমি নিজেও বোতল বাবার শিষ্য ছিলাম। মাঝে মাঝে বোতল বাবার শরীর খারাপ থাকলে আমি নিজে ফু দিয়ে প্রতি বোতল ১০ টাকা করে বিক্রি করতাম। আমার ফু'তে পানি ঘোলা হত না তবে অসুখ সেরে যেত বলেই আমার ধারনা। পানি ঘোলা হয় না হবার কারনে ৫ টাকা কম ছিল আমার ফু দেয়া বোতলের দাম।

আরিফ ভাই বললেনঃ এক কাজ করেন। এই বোতলটাতে একটা ফু’দেন। শরীর খারাপ হলে পান করব।

- পেপসির বোতল ছাড়া অন্য বোতলে ফু’দিলে হবে না। বোতল বাবার কড়া নিষেধ আছে।

আরিফ ভাইঃ ও আচ্ছা। এখন, আমি কি করতে পারি ?

- আপনি ফেইসবুকে প্রতিদিন ১ বার করে দু’সপ্তাহ বোতল বাবার বিজ্ঞাপন দিবেন। বোতল বাবার ম্যানেজার মতিউর রাহমান্‌ ৫০ হাজার টাকার চ্যেক পাঠিয়েছেন আপনার জন্য।

আরিফ ভাইঃ আই এম রিয়েলি সরি, আমি এ বিষয়ে কোন সাহাজ্য করতে পারব না।

- আপনার মেয়ের অসুখের জন্য কিন্তু বোতল বাবা নিজে ফু’দিয়ে এক বোতল পানি পাঠিয়েছেন। কিন্তু ১৫ টাকা দাম রাখতে বলেছেন। বোতল বাবার কথা হচ্ছে খাস দিলে কিছু ভালা করলে তাতে ফ্রী নামের নষ্টা শব্দ ঢুকানো যাবে না, তাতে ভাল জিনিসের দাম কমে যায়।

আরিফ ভাই কিছুটা ভড়কে গেলেন। নিজেকে সামলিয়ে জিজ্ঞেশ করলেনঃ আমার মেয়ে যে অসুস্থ এইটা বোতল বাবা জানলেন কেমনে ?

- সেইটা তো বোতল বাবারে জিজ্ঞেস করি নাই। জিজ্ঞেশ করলেও কোন উত্তর পেতাম না। শুধু বলতেনঃ সব কিছুই গায়েবের ইচ্ছা।

বোতল বাবা কি মুসলমান না হিন্দু না অন্য কোন কিছু ?

- জানি না। তবে আমার মনে হয়ঃ উনি সেকুলাইজম্‌ এ বিশ্বাসী। উনাকে দেখেছি শাহবাগের পুলাপাইনের কাজ কর্ম বেশ আগ্রহ নিয়েই দেখেন। একদিন দেখলাম সোফা'তে এই পা তুলে লাকি'র ভাষন শুনছেন এবং মজা পেয়ে জোরে জোরে হাসছেন...
লাকি বলছেঃ চাই চাই চাই...
বাকি সবাই বলছেঃ রাজাকারের ফাঁসি চাই।

আরিফ ভাইঃ তাই নাকি ?

- আমার ধারনা ভুলও হতে পারে। যদিও আমার ধারনা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মিলে যায়।

বাহ্‌ বেশ ভালো, তো আপনার এখন আমার সম্পর্কে কি ধরনের ধারনা হচ্ছে ?

- আমার ধারনা হচ্ছে, আপনি বোতল বাবা’র এই পানি আপনার মেয়েকে দু’ফুটা হলেও খাওয়াবেন। এবং আপনার মেয়ে দু’দিনের মাথায় একদম সুস্থ হয়ে উঠবে।

আরিফ ভাইঃ আপনি কি চা খাবেন ?
- এখন কিছু খাব না। আমি রোজা রেখেছি।

কিন্তু রোজা শুরু তো কাল থেকে। এক দিন আগে থেকেই রোজা রাখা শুরু করে দিলেন না কি ? বাহ্‌ চমৎকার।

- আসলে বেপারটা তাও না। টাকা ছিল না পকেটে তাই সারাদিন ধরে কিছু খাই নাই। ভাবছি আর সন্ধ্যার সময় ইফতার করব।
সন্ধ্যার সময় টাকা থাকবে ?
- জ্বি থাকবে।
কি ভাবে বুঝলেন ?
- কারন আপনি আমাকে ৫০ টাকা দিবেন। ১৫ টাকা বোতলের আর ৩৫ টাকা ইফতারের।
আপনার তো ধারনা প্রবল। আপনি কি মনে করেন আমি আপনাকে টাকা দিব?
- জ্বি, আপনি টাকা দিবেন।

আপনার ধারনা ভুল। আমি আপনাকে টাকা দিব না।
- আমি হাসি দিয়ে বললামঃ ঠিক আছে মি.আরিফ, আমি আসি।

আপনার চ্যাক আর বোতলটা নিয়ে যান ।
- আমাকে নিয়ে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। আপনি চাইলে কোন বিজ্ঞাপন না দিয়েও টাকা তুলতে পারেন। অথবা টাকা তুলে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন অথবা চ্যেকটা ছিড়ে দিতেও পারেন।

আমি অফিস থেকে বের হয়ে রাস্তার পাশে এসে ভাবছি কোন দিকে যাব ? ডানে না বামে ? রোদ খুব বেশি উঠেছে। এই রোদে হাটার কোন মানে হয় না। কিন্তু হাটতে হবে। পকেটে এক পয়সাও নাই টাকা বহুত দূর কি বাত্‌ হ্যে। কিছুক্ষন এখানের ছায়ার নিচে বসে ভিক্ষা করলে কেমন হয় ? বিশ টাকা রুজি হয়ে গেলে রিক্সাতে করে অর্ধেক পথ চলে যাওয়া যাবে।

আমি বসে আছি ছায়াতে। যে আশে পাশ দিয়ে যাচ্ছে তাকে বলছিঃ
"আমার আল্লাহ নবীজীর নাম
৫ টা টাকা দিয়া যান।
আমার আল্লাহ নবীজীর নাম"

ইতি মধ্যে ৫ টাকার জোগাড় হয়ে গেছে। একজন আমার ভিক্ষা করার শিল্প দেখে মুগ্ধ হয়েছেন,আমার উপর দয়া পরবশ হয়ে ৫ টাকা দিয়ে গেছেন।

কিছুক্ষন পর আরিফ ভাই অফিস থেকে বের হয়ে আমাকে দেখতে পেলেন। আমাকে জিজ্ঞেশ করলেনঃ আপনি এখানে বসে কি করছেন ?
- ভিক্ষা করছি। রোদে হাটতে ভাল লাগছে না। ২০ টাকা হয়ে গেলেই রিক্সাতে করে চলে যাব।
ভিক্ষা করার জন্য তিন লাইন ঠিক করেছিঃ

"আমার আল্লাহ নবীজীর নাম
৫ টা টাকা দিয়া যান।
আমার আল্লাহ নবীজীর নাম"

আরিফ ভাই আমাকে ১০০ টাকা দিয়ে বললেনঃ নিন রাখেন। সন্ধ্যার সময় কিছু খেয়ে নিয়েন।

আমাকে টাকা দিয়েই আরিফ ভাই গাড়িতে চড়ে বিদায় হলেন।

[ আরিফ ভাই এর এই চরিত্র সম্পুর্ণ কাল্পনিক। আর আমার বাংলা বানানে কোথাও কোন ভুল খোঁজে পেলে দয়া করে ক্ষমা করিবেন। আমি বাংলায় একদম লাড্ডূ পুড্ডূ ইস্টূডেন্ট  ]

  • Digg
  • Del.icio.us
  • StumbleUpon
  • Reddit
  • RSS

0 comments:

Post a Comment