সাগর এখন বাসের জানালা দিয়ে সবুজ বাংলাদেশ দেখছে। কড়া রোদের কারনে বাসে বসে রঙ্গিন বাংলাদেশ দেখার সৌভাগ্য হয়েছে তার।
সে তার মামার বাসায় বেড়াতে যাচ্ছে। এইচ.এস.সি পরিক্ষা শেষ করেই গাট্টগুচ্ছু নিয়ে বেশ কয়েকদিনের জন্য মামার বাসায় রওয়ানা দিয়েছে।
মামা রহমান সাহেব ঐখানকার খুব নামিদামি ব্যাক্তি। উনাদের গ্রামে গত ১২ বাছর ধরে চেয়ারমেন তিনি। খুবই ভাল মানুষ হয়তো, সে কারনেই মানুষ চেয়ারমেন পদে তাকে এখনো ধরে রেখেছে। এই গ্রামের জন্য গ্রামের মানূষের জন্য তিনি অনেক করেছেন এই জীবদ্দশায়। উনার এক ছেলে এক মেয়েঃ সুমন আর মিতা ।
সুমনের কারনেই সাগরের মামা'র বাসায় আসা। সুমন আর সাগর নিতান্তই ভাল বন্ধু। সুমন খুবই ধূর্ত টাইপের ছেলে এবং বেশ আদর্শবান। পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ আদায় করে এবং গ্রামের মানুষের সাথে তার খুব খাতির। তার ধূর্তামি, আদর্শ এবং তার বাবার নামের কারনেই তাকে গ্রামের মানুষ বেশ পছন্দ করে। রহমান সাহেব আশা রাখেন, যে উনার পর উনার ছেলে এই গ্রামের মানুষের পাশে সবসময় থাকবে।
রহমান সাহেবের মেয় মিতা জাহানারা খাতুন গার্লস কলেজে পড়ছে। সামনের বছর এইচ.এস.সি দিবে। রহমান সাহেব এই মেয়েটাকে খুবই স্নেহ করেন। স্নেহ করেন বিধায় মেয়েটার গায়ে কোখনো হাত তুলেননি । অবশ্য হাত তুলে শাষন করার প্রোয়জনও হয় নি।
মিতার চেহারার সাথে মিতার মায়ের চেহারার এক চমৎকার মিল আছে।
মিতার চেহারার দিকে তাকালেই রহমান সাহেবের মায়া হয়, মিতার মায়ের কথা মনে পড়ে যায়। মিতার বয়স যখন ১ তখন মিতার মা ইন্তেকাল করেন।
মিতা হচ্ছে রহমান সাহেবের এক আদর্শ মেয়। রহমান সাহেবের খাওয়াদাওয়া, ঔষধ সময় মত খাওয়া,সময় মত ঘুমানো সবকিছুর খেয়াল রাখতে হয় মিতাকেই। প্রত্যেকদিন ঘরে কি রান্না হবে তা মিতাকেই ঠিক করতে হয়। ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা বা ধরে রাখার দায়িত্ব মিতার। খাবার শেষে রহমান সাহেবকে ঔষধ দিতে হয় মিতাকেই, না হলে রহমান সাহেব ভুলে যান। বিকেলে রহমান সাহেবকে ঘুম থেকে তোলার দায়িত্ব মিতার। কিন্তু সকালবেলা মিতাকে ডেকে দিতে হয় রহমান সাহেবকে। ফজরের আজানের সাথে সাথে মিতার রুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে
“মা মিতা, ও, মা মিতা”
“মা মিতা, ও, মা মিতা”
বলতে থাকেন যতক্ষন না মিতা উঠে এসে দরজা খুলে।
মিতা সাগরকে ভালবাসে। যদিও সাগর সেইটা জানে না।
ছোট বেলা সাগরের সাথে মিতা খেলতে পছন্দ করত। মিতা তখন থেকেই সাগরকে ভালবাসে।
সাগর আসছে বলে মিতা আজ প্রচন্ড ধরনের খুশি।নতুন জামা ইস্ত্রি করে রেখেছে। গোসল করে মিতা এই জামা পড়বে। কপালে লাল টিপ দিবে, জামার সাথে মিলিয়ে চুড়ি পরবে,চুলে খোপা করবে।
মিতা গোসল করতে যাওয়ার আগে সুমনের ঘর পরিস্কার করছে। বিছানায় নতুন বিছানার চাদর বিছিয়ে দিচ্ছে তখন তাদের বাসার ফোন বেজে উঠল। মিতা দৌড়ে গিয়ে ধরতেই ও পাশ থেকে সুমনের কাপা কাপা কণ্ঠঃ সাগর যে বাসে আসছিল সেই বাস এক্সিডেন্ট করেছে। ব্রীজের উপর থেকে নদীতে পড়ে গেছে। সাগরের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। উদ্ধার কাজ চলছে। বাবাকে জানিয়ে দিস।
মিতার দু চোখ দিয়ে গড় গড় করে নোনা জল বের হতে লাগল। সাগরের নোনা জল নদীর মিঠা জলে অবসান হল। মিতার আর আজ সাঁজা হল না। আর কবে সে সাঁজবে সে নিজেও জানে না। চোখের কাজল ধুয়ে কালো হয়ে অশ্রু ঝড়তে লাগল গাল বেয়ে...
সে তার মামার বাসায় বেড়াতে যাচ্ছে। এইচ.এস.সি পরিক্ষা শেষ করেই গাট্টগুচ্ছু নিয়ে বেশ কয়েকদিনের জন্য মামার বাসায় রওয়ানা দিয়েছে।
মামা রহমান সাহেব ঐখানকার খুব নামিদামি ব্যাক্তি। উনাদের গ্রামে গত ১২ বাছর ধরে চেয়ারমেন তিনি। খুবই ভাল মানুষ হয়তো, সে কারনেই মানুষ চেয়ারমেন পদে তাকে এখনো ধরে রেখেছে। এই গ্রামের জন্য গ্রামের মানূষের জন্য তিনি অনেক করেছেন এই জীবদ্দশায়। উনার এক ছেলে এক মেয়েঃ সুমন আর মিতা ।
সুমনের কারনেই সাগরের মামা'র বাসায় আসা। সুমন আর সাগর নিতান্তই ভাল বন্ধু। সুমন খুবই ধূর্ত টাইপের ছেলে এবং বেশ আদর্শবান। পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ আদায় করে এবং গ্রামের মানুষের সাথে তার খুব খাতির। তার ধূর্তামি, আদর্শ এবং তার বাবার নামের কারনেই তাকে গ্রামের মানুষ বেশ পছন্দ করে। রহমান সাহেব আশা রাখেন, যে উনার পর উনার ছেলে এই গ্রামের মানুষের পাশে সবসময় থাকবে।
রহমান সাহেবের মেয় মিতা জাহানারা খাতুন গার্লস কলেজে পড়ছে। সামনের বছর এইচ.এস.সি দিবে। রহমান সাহেব এই মেয়েটাকে খুবই স্নেহ করেন। স্নেহ করেন বিধায় মেয়েটার গায়ে কোখনো হাত তুলেননি । অবশ্য হাত তুলে শাষন করার প্রোয়জনও হয় নি।
মিতার চেহারার সাথে মিতার মায়ের চেহারার এক চমৎকার মিল আছে।
মিতার চেহারার দিকে তাকালেই রহমান সাহেবের মায়া হয়, মিতার মায়ের কথা মনে পড়ে যায়। মিতার বয়স যখন ১ তখন মিতার মা ইন্তেকাল করেন।
মিতা হচ্ছে রহমান সাহেবের এক আদর্শ মেয়। রহমান সাহেবের খাওয়াদাওয়া, ঔষধ সময় মত খাওয়া,সময় মত ঘুমানো সবকিছুর খেয়াল রাখতে হয় মিতাকেই। প্রত্যেকদিন ঘরে কি রান্না হবে তা মিতাকেই ঠিক করতে হয়। ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা বা ধরে রাখার দায়িত্ব মিতার। খাবার শেষে রহমান সাহেবকে ঔষধ দিতে হয় মিতাকেই, না হলে রহমান সাহেব ভুলে যান। বিকেলে রহমান সাহেবকে ঘুম থেকে তোলার দায়িত্ব মিতার। কিন্তু সকালবেলা মিতাকে ডেকে দিতে হয় রহমান সাহেবকে। ফজরের আজানের সাথে সাথে মিতার রুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে
“মা মিতা, ও, মা মিতা”
“মা মিতা, ও, মা মিতা”
বলতে থাকেন যতক্ষন না মিতা উঠে এসে দরজা খুলে।
মিতা সাগরকে ভালবাসে। যদিও সাগর সেইটা জানে না।
ছোট বেলা সাগরের সাথে মিতা খেলতে পছন্দ করত। মিতা তখন থেকেই সাগরকে ভালবাসে।
সাগর আসছে বলে মিতা আজ প্রচন্ড ধরনের খুশি।নতুন জামা ইস্ত্রি করে রেখেছে। গোসল করে মিতা এই জামা পড়বে। কপালে লাল টিপ দিবে, জামার সাথে মিলিয়ে চুড়ি পরবে,চুলে খোপা করবে।
মিতা গোসল করতে যাওয়ার আগে সুমনের ঘর পরিস্কার করছে। বিছানায় নতুন বিছানার চাদর বিছিয়ে দিচ্ছে তখন তাদের বাসার ফোন বেজে উঠল। মিতা দৌড়ে গিয়ে ধরতেই ও পাশ থেকে সুমনের কাপা কাপা কণ্ঠঃ সাগর যে বাসে আসছিল সেই বাস এক্সিডেন্ট করেছে। ব্রীজের উপর থেকে নদীতে পড়ে গেছে। সাগরের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। উদ্ধার কাজ চলছে। বাবাকে জানিয়ে দিস।
মিতার দু চোখ দিয়ে গড় গড় করে নোনা জল বের হতে লাগল। সাগরের নোনা জল নদীর মিঠা জলে অবসান হল। মিতার আর আজ সাঁজা হল না। আর কবে সে সাঁজবে সে নিজেও জানে না। চোখের কাজল ধুয়ে কালো হয়ে অশ্রু ঝড়তে লাগল গাল বেয়ে...






0 comments:
Post a Comment